মুম্বই: ব্লুমবার্গের রিপোর্টে প্রকাশিত হিসেব স্পষ্টই বলেছিল, নোট বাতিলের পর ব্যাঙ্কে ফিরে এসেছে ৯৭ শতাংশ পুরনো নোট। ভারতীয় রিজার্ভ ব্যাঙ্ক স্বাভাবিক ভাবেই এই তথ্য অস্বীকার করেছিল। অথচ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের নিজস্ব হিসেবও সেরকমই বলছে। বর্তমানে বাজারে মোট কত নোট চালু রয়েছে, তার সাপ্তাহিক ঘোষণায় রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দেওয়া তথ্য থেকেই পরিষ্কার হয়ে যাচ্ছে, নোট বাতিলের পর মাত্র ৫৪০০০ কোটি টাকা (বাতিল নোটের ৩ শতাংশ) ৩০ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যাঙ্কে ফেরেনি।বাজারে কত পরিমাণ নোট রয়েছে, সেই প্রসঙ্গে ১৯ ডিসেম্বরের পর আরবিআই আর কোনো বিবৃতি দেয়নি। তাই ধরে নিতে হবে ১৯ ডিসেম্বরের পর নতুন নোট ছাড়া হয়নি বাজারে, যা আদৌ বিশ্বাসযোগ্য নয়। অতএব বোঝাই যাচ্ছে, ব্যাঙ্কে না ফেরা বাতিল নোটের পরিমাণ রিজার্ভ ব্যাঙ্কের দেওয়া হিসেবের থেকেও আরও বেশ কিছুটা কম। 

বিমুদ্রাকরণের সিদ্ধান্তের পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে কেন্দ্র বরাবরই কালো টাকা দূরীকরণের যুক্তি দিয়ে এসেছে। অথচ রিপোর্ট বলছে অন্য কথা। মাত্র ৩ শতাংশ কালো টাকা দেশের বাজার থেকে দূর করার জন্য রাতারাতি সমস্ত ৫০০ আর ১০০০-এর নোট বাতিল করা কতটা যুক্তি সঙ্গত, সে প্রশ্ন উঠে আসছে বারবার। সম্প্রতি ব্লুমবার্গ নিউজের পক্ষ থেকে নোট বাতিল সংক্রান্ত নানা প্রশ্ন করা হয় আরবিআইকে। বেশির ভাগ ক্ষেত্রেই সার্বভৌমত্বের অজুহাত দিয়ে এড়িয়ে গেছে আরবিআই। 

সবচেয়ে অবাক করা বিষয়, ৮ নভেম্বরের পর থেকে দেওয়া আরবিআই-এর সাপ্তাহিক বিবরণ থেকে যোগ-বিয়োগ করলে ব্যাঙ্কে জমা পড়া পুরোনো নোটের হিসেবটা এসে দাঁড়ায় সেই ৯৭ শতাংশই। অথচ দেশের কেন্দ্রীয় অর্থমন্ত্রী থেকে শুরু করে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক কেউই স্বীকার করছেন না এই তথ্য।  

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন