নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: পাম্পে পেট্রোল বিক্রি বন্ধ করা, ঘনঘন জরিমানা করা ইত্যাদি পথ অবলম্বন করেও ‘বদভ্যাসে’ পরিবর্তন আনা যাচ্ছিল না। লাইসেন্স ছাড়া, হেলমেটবিহীন অবস্থায় দিব্যি যাতায়াত করছেন মোটরবাইক-স্কুটার-স্কুটি চালকরা। তাই কার্যত ‘লজ্জা’ আর ‘শিক্ষা’ দিতে জরিমানা করার পর হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে লাল টুকটুকে গোলাপ ফুল আর চকলেট।

মোটরবাইক চালকদের হেলমেট পরানোর জন্য সময়ে সময়ে অসমের করিমগঞ্জে সচেতনতা কর্মসূচি চালিয়ে আসছে পুলিশ ও পরিবহণ বিভাগ। কখনও যৌথ ভাবে, কখনও বা পৃথক ভাবে। এ ছাড়া আকস্মিক অভিযান চালিয়ে ঘনঘন জরিমানা করা তো আছেই। কিন্তু ভবী ভোলবার নয়। দিব্যি হেলমেট ছাড়াই চলাচল করছে অধিকাংশ মোটরবাইক। মূলত সেই উদ্দেশ্যেই গোলাপফুল আর চকলেট দেওয়ার ব্যতিক্রমী সিদ্ধান্ত।

চিত্রনাট্যটা দিক কয়েক আগেই তৈরি হয়ে যায় প্রশাসনিক স্তরে। করিমগঞ্জের জেলাশাসক প্রদীপকুমার তালুকদের সঙ্গে জেলা পরিবহণ আধিকারিক ঘনকান্ত গগৈয়ের আলোচনার পরই তা চূড়ান্ত হয়। মূলত জেলা পরিবহণ অফিসার (ডিটিও) এবং এএসপি লীনা দোলের মস্তিষ্কপ্রসূত এটা। করিমগঞ্জ শহরের এওসি পয়েন্টে (বন্ধ পেট্রোলপাম্পের কাছে) যে কর্মসূচি পালন করা হল, তা মূলত ওই চিত্রনাট্যেরই বাস্তবায়ন। হেলমেটবিহীন অবস্থায় যাঁরাই ওই এলাকা পার হওয়ার চেষ্টা করছেন তাঁদেরই হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে লাল গোলাপ ও চকলেট। জরিমানা অবশ্যই আছে। ট্রাফিক পুলিশ এবং পরিবহণ কর্তাদের সঙ্গে বিশেষ পোশাক পরে এই কাজে শামিল হয়েছে করিমগঞ্জ পাবলিক উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্র এবং এমএমএমসি উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রীরা। গোলাপফুল আর চকলেট হাতে দিয়ে কাউকে ‘কাকু’, কাউকে বা ‘দাদা’ বলে সম্বোধন করে হেলমেটবিহীনদের কাছে পড়ুয়াদের আবেদন, “আপনারা ঘর থেকে বের হওয়ার আগে হেলমেট পরে নেবেন।”

এখানেই শেষ নয়। এ ধরনের কর্মসূচি চলতেই থাকবে বলে জানিয়েছেন জেলাশাসক প্রদীপকুমার তালুকদার এবং পুলিশ সুপার গৌরব উপাধ্যায়।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন