shambhu lal regar

ওয়েবডেস্ক: প্রায় এক বছর ধরে কাজ নেই। বেকার হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছিল রাজসামন্দ শহরের রাইগড় বস্তির শম্ভুলাল রেগর। এর আগে তার বিরুদ্ধে কোনও গুরুতর অভিযোগের নজিরও নেই। আবার সে যে নিজে হাতে কোনও একজনকে এ ভাবে নৃশংস ভাবে খুন করতে পারে, সে কথাও মেলাতে পারছে তার প্রতিবেশীরা। তাহলে কী এমন ঘটেছিল?

প্রতিবেশীরা জানিয়েছেন, নিজের মার্বেল ব্যবসা বেশ মন দিয়েই চালাত শম্ভুলাল। কিন্তু গত বছর নোটবন্দির পর তার ব্যবসা লাটে ওঠে। অগত্যা বিকল্প আয়ের জন্য উদগ্রীব হয়ে ওঠে সে। এদিক-ওদিক ঘোরার পর ভেবে নেয়, ব্যবসা করে চলবে না। ফলে চাকরিও খুঁজতে শুরু করে। কিন্তু চাকরি জোটে না। দিন গড়িয়ে যায়। অবসন্নতা বাড়ে। মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত হয়ে ক্রমশ তার সম্পর্ক গাঢ় হতে থাকে মাদকের সঙ্গে। দিনভর গাঁজায় টান আর তার উপর দেশি মদ। দুইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয় ইন্টারনেট। ইন্টারনেটে হাবিজাবি বিষয় নিয়ে ঘাটাঘাটি করত শুম্ভুলাল। যেখানে সে সবসময়ই কিছু ‘হেট ভিডিও’ দেখত। প্রচণ্ড মানসিক অবসাদের শিকার হয়ে নৃশংস সেই সব ভিডিও দেখে উল্লাস করত।  ঘনিষ্ঠরা বলছেন,  যা দেখে তাকে মানসিক রোগী বলে মনে হতো।

নিজের ছেলে-মেয়েদের নিয়েও অনিশ্চয়তায় ভুগতে শুরু করছিল শম্ভুলাল। তার সবসময়ই মনে হতো এই বুঝি কেউ তার ছেলে-মেয়ের ক্ষতি করে দেয়। বিশেষ করে বড়ো মেয়ে কিট্টুকে নিয়ে তার দুর্ভাবনা ছিল বেশি। যে কারণে সে যেখানেই যেত মেয়েকে সঙ্গে রাখত। রোজ সকালে রাজসামন্দ লেকে স্নান করতে যাওয়ার সময়েও ছেলে-মেয়েদের সঙ্গে রাখত। বন্ধুদের কাছে বলত, কেউ তার পরিবারের পিছনে লেগেছে। এক বন্ধু জানিয়েছেন, কয়েকদিন আগে শম্ভুলাল নিজের বুকে মেয়ের ছবি দেওয়া একটি ট্যাটু বানিয়েছিল।

জানা গিয়েছে, বছর খানেক ব্যবসা বন্ধের পর কোনও রকমে সংসার চলত তার। তার উপর দিন দিন বাড়ছিল নেশার বহর। ফলে হাতে টাকা ছিল না। বন্ধু-বান্ধবের কাছ থেকে ধার নিতে শুরু করে সে। অতীতে কোনও রকম অভিযোগ থাকায় কেউ কেউ তাকে খালি হাতে ফেরায়নি। এ ভাবে ধারের পরিমাণ দাঁড়িয়েছিল দেড় লক্ষ টাকায়। শম্ভুলালের স্ত্রী সুশীলা দিন মজুরের কাজ করে সংসারের হাল ধরে রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছিলেন। আর এদিকে শম্ভুলাল কাজকর্ম খুইয়ে ক্রমশ মানসিক অবসন্নতার পাঁকে নিমজ্জিত হচ্ছিল।

প্রতিবেশীরা আরও জানাচ্ছেন যে, ব্যবসা বন্ধের পর শম্ভুলাল নিজেকে যে ভাবে ইন্টারনেটের সঙ্গে জড়িয়ে ফেলছিল তাতে তার মানসিক বিকৃতি ঘটতে শুরু করেছিল। নিজের ব্যবসা, আর্থিক অবস্থা আর অনিশ্চয়তার কথা জোর করে সে মানুষকে শোনাত। তার জীবনটা যে নোটবন্দির আগে মোটেই এমনটা ছিল না, সে সব কথাই বারবার বলে পরিচিতদের কাছে টাকা ধারের জন্য হাত পাততো।

সর্বদা মৃদুভাষী এহেন শম্ভুলাল কী ভাবে ‘লাভ জেহাদ’-কাণ্ডের এক দৃষ্টান্ত হয়ে উঠল, তা এখনও মেলাতে পারছে না রাইগড় বস্তির মানুষজন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here