reliance jio

ওয়েবডেস্ক: ই-কমার্সের দিকে যদি তাকাতে হয় এ দেশকে কেন্দ্রে রেখে, তবে আমাজন আর ফ্লিপকার্টের ধারে-কাছে ঘেঁষতে পারে- এমন সাধ্য কার? তবে সেই বাজার এবং সংস্থাদের এবার বড়োসড়ো এক হুমকির মুখে দাঁড় করাতে চলেছেন মুকেশ অম্বানি। এ ব্যাপারে তাঁর হাতিয়ার রিলায়েন্স জিও-র ফোন কানেকশন। জিও নেটওয়ার্ক ব্যবহার করেই এবার ভারতের কেনাকাটার পুরনো অভ্যাস এক লহমায় বদলে দিতে চলেছেন তিনি। যা ২০১৮ থেকেই শুরু হয়ে যাবে! কী ভাবে, তা জানার আগে এক সমীক্ষায় একটু নজর না দিলেই নয়!

সত্যি কথা বলতে কী, আমাজন আর ফ্লিপকার্ট- এই দুই সংস্থাই মূলত নিয়ন্ত্রণ করে ভারতের অনলাইন বাণিজ্য। তাদের কথা বাদ দিলে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকা কিছু সংস্থা ই-কমার্সের শতকরা ৩ থেকে ৪ ভাগ নিজেদের আওতায় রাখতে পারে। আর বিগ বাজার-এর মতো বড়ো রিটেল-চেন, যারা ছড়িয়ে আছে ভারতের সর্বত্রই, তারা মোটামুটি শতকরার হিসাবে একটু বেশি বাজার নিজেদের দখলে রাখতে পারে। তাও সেই পরিমাণটা শতকরা ৮ ভাগের বেশি নয়।

অন্য দিকে, আমাজন-ফ্লিপকার্টের মতো সংস্থা ই-কমার্সের প্রধান মুখ হয়ে কোটি কোটি মুনাফা ঘরে তুলছে ঠিকই, কিন্তু ভারতের একটা বড়ো বাজার এখনও দখলে আনতে পারেনি তারা। সেটা নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যের খুচরো বাজার। বাণিজ্যিক এবং অর্থনৈতিক সমীক্ষা বলছে, এই বাজার থেকে মুনাফার পরিমাণ দাঁড়াতে পারে আনুমানিক ৬৫০ বিলিয়ন ডলার! যার উপভোক্তাদের বেশির ভাগটাই রয়ে গিয়েছে গ্রামাঞ্চলে। যার দরুন সেই বিশাল বাজারকে ই-কমার্সের আওতায় আনা সম্ভব হচ্ছে না আমাজন-ফ্লিপকার্টের মতো সংস্থার পক্ষে।

আর ঠিক এই জায়গাটা ধরেই এবার বাজিমাত করতে চলেছেন মুকেশ অম্বানি। জিও নেটওয়ার্কের সূত্রে ইতিমধ্যেই ভারতের বাজার কবজা করে ফেলেছেন তিনি। সস্তায় ডেটা এবং টকটাইমের সুবিধা পাওয়ায় ভীষণই জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে জিও। শহর থেকে গ্রাম- সর্বত্রই তার অবাধ প্রসার। সেই সুযোগ সামনে রেখে আর জিও-র ডিজিটাল কুপনের মাধ্যমে এবার খুচরো বাজারকে নিজের সংস্থার আওতায় নিয়ে আসতে চলেছেন রিলায়েন্স কর্ণধার। শুধুই বিলাসিতার জিনিস নয়, মুদিখানাও ঠাঁই করে নিতে চলেছে এই পরিকল্পনায়।

জানা গিয়েছে, জিও কুপনের মাধ্যমে দেশের সব বড়ো বড়ো বাণিজ্যিক সংস্থার সঙ্গে গাঁটছড়া বাঁধছেন অম্বানি। যার পরিণামে মুদিখানার জিনিস থেকে বিলাসিতার উপকরণ- সবই জোগানে সমর্থ হবে জিও। জিও গ্রাহকদের ক্যাশব্যাক হিসাবে এই সব কুপন দেওয়া হবে। অনলাইন হতে না পারলেও অসুবিধা নেই, এসএমএস-এর মাধ্যমে কুপনগুলো ঠিকই পৌঁছে যাবে গ্রাহকদের কাছে। এর পর তা ব্যবহার করে তেল-নুন থেকে শুরু করে যার যেমন ক্রয়ক্ষমতা, সেই অনুসারে সব কিছুই কেনাকাটা করা যাবে।

সমীক্ষা বলছে, এই প্রকল্পে সব দিক থেকেই লাভবান হতে চলেছে জিও পরিবার। বা, বলা ভালো মুকেশ অম্বানি। একে তো এই বাণিজ্যিক পরিকল্পনার রূপায়ণে নতুন করে কোনো বিনিয়োগ-সংক্রান্ত পরিকাঠামো তৈরি করতে হচ্ছে না তাঁকে! গুদামঘর, পরিবহন- কোনো কিছুই খরচ লাগছে না। তার উপরে রয়েছে এই প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার জন্য নানা সংস্থার কাছ থেকে আদায় করা সামান্য পরিমাণ মূল্য। সামান্য হলেও সারা ভারতের সব সংস্থা এই আওতায় যুক্ত হলে লাভের পরিমাণ যে কোথায় গিয়ে পৌঁছবে, তা কল্পনা করাও বেশ শক্ত ব্যাপার। তবে অন্য ই-কমার্স সংস্থাগুলি যে পড়বে ভরাডুবির মুখে- তা অনুমান করা তেমন কষ্টসাধ্য নয়।

আর ভারতীয় জনতা? তাঁদের কী হবে?

সব দিক থেকেই এবার ডিজিটাল জীবনযাত্রা নির্বাহের সুযোগ আসছে তাঁদের জন্য, আর কী বা বলা যেতে পারে!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here