কৃষি আইন: অবশিষ্ট সদস্যদের সরিয়ে সুপ্রিম কোর্টে নতুন কমিটি গঠনের আর্জি কৃষক সংগঠনের

0

নয়াদিল্লি: বিতর্কিত কৃষি আইন খতিয়ে দেখতে চার সদস্যের কমিটি গঠন করেছিল সুপ্রিম কোর্ট। সেখান থেকে নিজেকে সরিয়ে নিয়েছেন এক সদস্য। বাকিদেরও অপসারণ করে নতুন কমিটি গঠনের আর্জি নিয়ে শনিবার শীর্ষ আদালতের দ্বারস্থ হল একটি কৃষক সংগঠন।

ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন লোকশক্তি নামের কৃষক সংগঠনটি জানিয়েছে, “সমন্বয় রেখে কাজ করতে পারেন এমন সদস্যদের নির্বাচন করুন”। তাদের অভিযোগ, এই কমিটি নতুন কৃষি আইন পর্যালোচনা করলে স্বাভাবিক ন্যায়বিচারের নীতি লঙ্ঘন হবে। কারণ চার সদস্যের কমিটিতে নিয়োগপ্রাপ্তরা “ইতিমধ্যে এই আইনগুলিকে সমর্থন করেছেন”।

কমিটিতে কারা?

নতুন তিন কৃষি আইনের পর্যালোচনায় গত মঙ্গলবার কমিটি গঠন করে সুপ্রিম কোর্ট। সেই কমিটিকে কৃষি আইনের বিভিন্ন দিক এবং কৃষকদের মতামত খতিয়ে দেখে রিপোর্ট জমার নির্দেশ দিয়েছে শীর্ষ আদালত।

কমিটিতে ছিলেন কৃষি অর্থনীতিবিদ অশোক গুলাতি, ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন (মান) সভাপতি ভূপিন্দর সিং মান, আন্তর্জাতিক নীতি বিষয়ক কমিটির প্রধান প্রমোদ জোশি এবং ক্ষেতারি সংগঠনের অনিল ঘনাওয়ান্ত।

তবে নির্ধারিত চার সদস্যের কমিটি থেকে বৃহস্পতিবার সরে দাঁড়িয়েছেন ভারতীয় ভারতীয় কিসান ইউনিয়নের সভাপতি ভূপিন্দর সিং মান। তিনি বলেছেন, কমিটিতে তাঁকে মনোনীত করার জন্য শীর্ষ আদালতের কাছে তিনি কৃতজ্ঞ। তবে কৃষকদের স্বার্থে কোনো মতে আপস না করার জন্যই তিনি পদত্যাগ করছেন।

কী বলা হল আবেদনে?

এ বার ওই অবশিষ্ট তিন সদস্যকে সরিয়ে নতুন কমিটি গঠনের আবেদন জানাল কৃষক সংগঠনটি।

ভারতীয় কিসান ইউনিয়ন লোকশক্তি আইনজীবী এপি সিংয়ের মাধ্যমে দায়ের করা হলফনামায় শীর্ষ আদালতের কাছে আবেদন করেছে, “এই তিন সদস্যকে কমিটি থেকে সরিয়ে দেওয়া হোক। পারস্পরিক সম্প্রীতির ভিত্তিতে রিপোর্ট তৈরির জন্য নতুন সদস্য নিয়োগ করা দরকার”।

বলা হয়েছে, “দু:খের সঙ্গে জানাচ্ছি যে, বর্তমান সদস্যদের নিয়োগে স্বাভাবিক ন্য়ায়বিচারের নীতি লঙ্ঘিত হতে চলেছে। কারণ, তাঁরা ইতিমধ্যেই নতুন কৃষি আইনগুলিকে সমর্থন জানিয়েছেন। তাঁরা কৃষকদের কথা কী ভাবে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে শুনবেন”?

কেন কমিটি গঠন?

প্রধান বিচারপতি এসএ বোবদে বলেছেন, “আইন বাতিল করে দেওয়া একটা বিকল্প হতেই পারে। কিন্তু কোনো কারণ ছাড়াই আইন বাতিল করা যায় না। তাই একটা কমিটি গঠন করা হচ্ছে। ওই কমিটি আমাদের কাছে রিপোর্ট জমা দেবে। কৃষি আইন নিয়ে যাঁরা সমস্যার সমাধানে সত্যিকারের আগ্রহী, তাঁরা সকলেই কমিটির মুখোমুখি হবেন। কাউকে শাস্তি দেবে না কমিটি। কৃষক সংগঠনের সম্মিলিত মতামত চাই। তারা নিজেদের আইনজীবীর মাধ্যমে কমিটির কাছে নিজেদের বক্তব্যকে তুলে ধরুক”।

শীর্ষ আদালত বলেছে, কমিটি আগামী ১০ দিনের মধ্যে প্রথম বৈঠক করবে। প্রথম সভার দিন থেকে দু’মাসের মধ্যে প্রস্তাব জমা করবে। সরকার, কৃষক-সহ অন্য়ান্য অংশীদারদের সঙ্গেও কথা বলবে কমিটি।

আরও পড়তে পারেন: কৃষি আইন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের গঠিত কমিটি থেকে সরলেন ভূপিন্দর সিং মান

dailyhunt

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন