beggar

ওয়েবডেস্ক: এবার আর ভিখারিকে টাকা দেওয়া নয়। বরং, থানায় তার খোঁজ দিলে হাতে হাতে পাওয়া যাবে ৫০০ টাকা।

ভিক্ষাবৃত্তি সমর্থনযোগ্য কিনা, অনেক দিন ধরেই এই প্রশ্নেই দীর্ণ আধুনিক ভারতীয় সমাজ। তৃতীয় বিশ্বের এই দেশ, যা তার অনেক মানুষকেই কর্মসংস্থানের সুযোগ দেয় না, সেখানে দারিদ্র্য থেকে মুক্তি পেতে ভিক্ষাবৃত্তির সহজ পথটাই অবলম্বন করেন অনেকে। অনেক সময়েই তা ঘিরে সক্রিয় থাকে কোনো না কোনো চক্র। তাদের হস্তক্ষেপে ভিক্ষাবৃত্তি পরিণত হয় ব্যবসায়।

সেই সব দিক বিবেচনা করেই এবার ভিখারিদের সংশোধনে মন দিয়েছে তেলঙ্গানা কারা দফতর। চলতি বছরের অক্টোবর মাস থেকেই হায়দরাবাদে শুরু হয়েছে ভিখারি সংশোধন পর্ব। জানা গিয়েছে, ইতিমধ্যেই অনেক ভিখারিকে রাস্তা থেকে তুলে এনে পুনর্বাসনের সুযোগ দিয়েছে দফতর। সঙ্গে চলছে তাঁদের কাউন্সেলিং। যাতে তাঁরা আর ফিরে না যান ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে উপার্জনের সহজ পথে। এভাবেই হায়দরাবাদ থেকে ভিক্ষাবৃত্তি মুছে ফেলতে চাইছে সে রাজ্যের কারা দফতর।

“ভিখারিদের পুনর্বাসনের জন্য যে জায়গা বরাদ্দ হয়েছে, তার নাম দেওয়া হয়েছে আনন্দ আশ্রম। ইতিমধ্যেই ৩১৬ জন পুরুষ ভিখারি এবং ১৬৪ জন নারী ভিখারিকে স্থান দিয়েছে আনন্দ আশ্রম। কাউন্সেলিংয়ের পরে ২৬১ জন পুরুষ ভিখারি এবং ১৪০ জন নারী ভিখারি শপথ নিয়েছেন যে তাঁরা আর কোনো দিন ভিক্ষাবৃত্তি অবলম্বন করবেন না। বাকিদের কাউন্সেলিং চলছে”, জানিয়েছেন কারা অধিকর্তা ভি কে সিং।

তবে ভিখারিদের এই পুনর্বাসন এবং তাঁদের ভিক্ষাবৃত্তির পথ থেকে ফিরিয়ে আনার এই উদ্যোগ একেবারে সমস্যামুক্ত নয়। জানা গিয়েছে, আশ্রম থেকে মুক্তি পাওয়ার কিছু দিনের মধ্যেই ফেরত এসেছেন ৮ জন পুরুষ ভিখারি। নানা সমস্যা, মূলত সামাজিক এবং অর্থনৈতিক, তার জেরে বিধ্বস্ত হয়ে আবার এঁরা জমায়েত হয়েছেন আশ্রমে। বাইরের পৃথিবী তাঁদের সম্মান বা কাজ- কোনোটাই দেয়নি।

সেই সমস্যা সমাধানে এবার শুধু ভিখারি নয়, জনতার মানসিকতা পরিবর্তনেও উদ্যোগ নিয়েছে তেলঙ্গানা কারা দফতর। ঘোষণা করেছে তারা, ২৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত থানায় ভিখারিদের খবর পৌঁছে দিলেই খবরদাতা পাবেন ৫০০ টাকা। সঙ্গে সঙ্গেই সেই টাকা দেওয়া হবে তাঁকে। তার পর সেই ভিখারিকে আনন্দ আশ্রমে নিয়ে এসে শুরু হবে সংশোধনের পালা। এই ভাবে ভিক্ষা দেওয়া এবং নেওয়া- দুই পথেই আগল বসাতে চাইছে দফতর। অবশ্য এই কাজে জনতাকে টেনে আনার পিছনে একটি কারণও রয়েছে। দফতরের পক্ষে তো আর সব কাজ ফেলে ভিখারি খুঁজে বেড়ানো সম্ভব নয়। সেই জন্যই এই অভিনব উদ্যোগ গ্রহণ!

দফতর আরও জানিয়েছে, আপাতত এই উদ্যোগ তাদের মধ্যে সীমিত হলেও খুব তাড়াতাড়ি কোনো স্বেচ্ছাসেবী সংস্থাকেও যুক্ত করা হবে আনন্দ আশ্রমের কাজে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here