গুজরাত, কর্নাটকের পর রিসর্ট রাজনীতি এ বার গোয়ায়

0

পানজিম: গুজরাত, কর্নাটকের পর রিসর্ট রাজনীতি এ বার গোয়ায়। নিজেদের বিধায়কদের বাঁচাতে এ বার বিলাসবহুল রিসর্টে তাঁদের স্থানান্তরিত করল গোয়া বিজেপি।

৪০ সদস্যের গোয়া বিধানসভায় এই মুহূর্তে সদস্যসংখ্যা ৩৬। মনোহর পর্রীকর-সহ দুই বিজেপি বিধায়কের মৃত্যু এবং দুই কংগ্রেস বিধায়কের দলত্যাগের ফলে এই অবস্থা হয়েছে। তার মধ্যে আবার বিজেপির বিধায়ক সংখ্যা মোটে ১২। ১৪ বিধায়ক নিয়ে কংগ্রেস একক বৃহত্তম দল হলেও দুই শরিক দলের ছয় বিধায়ক এবং তিন নির্দল বিধায়ককে পাশে পেয়েছে বিজেপি।

কিন্তু এদের পাশে পেতে যথেষ্ট কালঘাম ছোটাতে হয়েছে অমিত শাহকে। গোয়ার মতো ছোট্ট একটি রাজ্য থেকে দু’জনকে উপমুখ্যমন্ত্রী বানাতে হয়েছে। শুধু তা-ই নয়, সমর্থনকারী নয় বিধায়কের মধ্যে আট জনকেই মন্ত্রী করতে হয়েছে। এই টোপেই সরকারের পাশে থাকার বার্তা দিয়েছে গোয়া ফরওয়ার্ড পার্টি, মহারাষ্ট্রবাদী গোমন্তক পার্টি এবং নির্দলরা। কিন্তু তাতেও স্বস্তি নেই বিজেপির। এত দিন যে চিন্তা গুজরাত এবং কর্নাটকে কংগ্রেসকে করতে হয়েছে, সেটাই এ বার গোয়া বিজেপিকে করতে হচ্ছে। তাদের বিধায়কদের ভাঙিয়ে নিতে পারে কংগ্রেস, এই আশঙ্কা থেকেই মঙ্গলবার রাতে বিধায়কদের ৫-তারা রিসর্টে পাঠিয়ে দিয়েছে বিজেপি। বুধবারই গোয়া বিধানসভায় আস্থাভোট রয়েছে নবনিযুক্ত মুখ্যমন্ত্রী প্রমোদ সবন্তের। তার পরেই এই বিধায়করা ছাড়া পেতে পারেন।

আরও পড়ুনবাবুল সুপ্রিয়কে শোকজ করল নির্বাচন কমিশন

উল্লেখ্য, এই রিসর্ট রাজনীতির সূচনা ২০১৭ সালে গুজরাত থেকে। এক ঝাঁক কংগ্রেস বিধায়ক বিজেপিতে যোগদান করেন। এই পরিস্তিতিতে গুজরাত থেকে জিতে রাজ্যসভা সাংসদ হওয়া কার্যত প্রশ্নচিহ্নের মুখে পড়ে যায় কংগ্রেস নেতা আহমেদ পটেলের। শেষে বাকি কংগ্রেস বিধায়কদের কর্নাটকের একটি রিসর্টে পাঠিয়ে হাফ ছেড়ে বাঁচে কংগ্রেস।

গত বছর থেকে এই ছবিটা আরও বেশি করে ফুটে উঠছে কর্নাটকে। একক সংখ্যাগরিষ্ঠ দল হওয়ার থেকে বিজেপি মাত্র ৭-৮টা বিধায়ক পেছনে রয়েছে। কোনো রকমে জোট সরকার টিকিয়ে রেখেছে কংগ্রেস-জেডিএস। এই পরিস্থিতিতে বিজেপি মাঝেমধ্যেই চেষ্টা করছে কংগ্রেস বিধায়কদের ভাঙিয়ে দলে নিয়ে আসার। যখনই সেই উদ্যোগের কথা শোনা যাচ্ছে, তখনই রিসর্ট রাজনীতি ফিরে আসছে রাজ্যে।

উত্তর দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here