retired army officer

গুয়াহাটি: ভারতের নাগরিক হওয়া সত্বেও বাঙালি বা মুসলিম ব্যক্তিদের ওপর অসম পুলিশের বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী তকমা বসিয়ে দেওয়ার অভিযোগ নতুন কিছু নয়। কিন্তু গত বেশ কয়েক বছর সেই ঘটনা বেড়েছে। তবে এ বার ভারতীয় সেনার এক অবসরপ্রাপ্ত কর্মীকেই বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর তকমা দিয়ে দিল অসম পুলিশ।

গুয়াহাটি থেকে ৭০ কিমি দূরে ছায়াগাঁওয়ে বাড়ি মোহম্মদ অজমল হকের। তিরিশ বছর ভারতীয় সেনার জুনিয়র কমিশন্‌ড অফিসার হিসেবে চাকরি করার পর গত বছরই অবসর নিয়েছেন তিনি। তাঁকে অনুপ্রবেশকারীর তকমা দেওয়ায় ভেঙে পড়েছেন এই অবসরপ্রাপ্ত সেনাকর্মী। তাঁর কথায়, “আমি খুব কেঁদেছি, খুব ভেঙে পড়েছি। তিরিশ বছর ধরে ভারতীয় সেনায় চাকরি করার পর এখন বলা হচ্ছে আমি নাকি বেআইনি অনুপ্রবেশকারী। বেআইনি অনুপ্রবেশকারী হলে ভারতীয় সেনায় চাকরি করলাম কী ভাবে!”

ভারতীয় সেনায় যোগদান করতে হলে পুলিশি যাচাই হয়। তাঁর ক্ষেত্রেও সেটা হয়েছে বলে দাবি করেন অজমল।

বাংলাদেশ থেকে বেআইনি ভাবে অনুপ্রবেশ রাজ্যের একটা সমস্যা। গত বছর রাজ্যে বিজেপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর মুখ্যমন্ত্রী ঘোষণা করেন অসম এবং বাংলাদেশের মধ্যে ২৬২ কিমির সীমান্ত আরও আঁটোসাঁটো করা হবে।

তবে স্থানীয় মানুষদের অভিযোগ, বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীর তকমা দিয়ে ভারতীয় নাগরিকদের হেনস্থা করা হয়। অজমলের দাবি ২০১২-তে তাঁর স্ত্রী মুমতাজের ওপরেও বেআইনি অনুপ্রবেশকারীর তকমা বসিয়ে দেওয়া হয়। সেই সময় সংশ্লিষ্ট আদালতে সমস্ত কাগজপত্র পেশ করতে হয় তাঁদের। “আমরা তখন আদালতে সমস্ত কাগজপত্র জমা দিয়েছিলাম। তখন আমার স্ত্রীকে ভারতীয় নাগরিক হিসেবে মেনে নেয় আদালত।” আগামী ১৩ অক্টোবর, একই আদালতে হাজিরা দিতে হবে তাঁকে।

এর প্রতিবাদে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড় উঠেছে। অসম পুলিশের ভূমিকার তুলোধোনা করে টুইট করেছেন অনেকে।

তবে এই ব্যাপারে অসম পুলিশের কোনো বক্তব্য এখনও পাওয়া যায়নি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here