Ganga-Pollution

ওয়েবডেস্ক: গঙ্গার দূষণ রুখতে ‘গঙ্গা রক্ষী বাহিনী’। গঙ্গার দূষণ নিয়ন্ত্রণ সংক্রান্ত বিল ‘ন্যাশনাল রিভার গঙ্গা বিল ২০১৮’-এর খসড়া প্রস্তাবে বলা হয়েছে এর দূষণ আটকাতে সশস্ত্র রক্ষী বাহিনী রাখতে হবে। এই বাহিনীর হাতে ক্ষমতা থাকবে দূষণকারীকে শুধু আটকানোই নয়, গ্রেফতার করারও। এই বাহিনীর নাম হবে ‘গঙ্গা প্রোটেকশন কর্পস’ অর্থাৎ গঙ্গা রক্ষী বাহিনী। এই বিষয়ের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সরকারি নথিপত্র আর ব্যক্তিদের মতানুসারে এই পদ্ধতি গঙ্গা পরিষ্কার রাখতে সাহায্য করবে। তা ছাড়াও গঙ্গার পুনঃরুজ্জীবনের ক্ষেত্রেও সাহায্য করবে। যা নদীর গতি বাড়াবে। ন্যাশনাল গঙ্গা কাউন্সিলের চাহিদা অনুযায়ী এই বাহিনী গঠন করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক।

মন্ত্রকের পাঁচ জন সদস্যকে নিয়ে একটি কমিটি গঠন করা হবে। এই কমিটির হাতে ক্ষমতা থাকবে এই বাহিনী গঠন করার। গঙ্গার ক্ষতিসাধন করে, গতি রোধ করে বা দূষণ সৃষ্ট করে এমন যে কোনো রকম বিষয়ে বাধা দেওয়ার। অথবা তা বন্ধ করা বা পরিবর্তন করার নির্দেশ দেওয়ারও। এমনকী গঙ্গার গতিপথের ওপর বাঁধ তৈরি করার ক্ষেত্রেও সব রকম সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা থাকবে এই পাঁচ সদস্যের কমিটির ওপর। খসড়া বিলে বলা হয়েছে, এর উদ্দেশ্য গঙ্গাকে দূষণমুক্ত করা ও তার পুনঃরুজ্জীবন। গঙ্গাকে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরিয়ে নিয়ে যেতে বাধাহীন গতিপ্রবাহ ফিরিয়ে দেওয়া।

ganga

জল সম্পদ মন্ত্রকের সেক্রেটরি ইউ পি সিংহ বলেন, এই বিল সব মন্ত্রীদের সম্মতিক্রমে গ্রহণ করা হবে। বিল অনুযায়ী শুধু নদী নয়, নদীর ঘাট আর সিঁড়িতে কোনো দ্রব্য ফেলে পরিবেশ নোংরা করলেও তা শাস্তি যোগ্য।  তা ছাড়াও পাহাড়ি এলাকায় কোনো কারণে পাম্প বা নলের সাহায্যে ভূগর্ভের জল তুলে নেওয়া, নদীগর্ভ থেকে জল, পাথর তোলা, অনুমতি ছাড়া মাছ ধরা ইত্যাদি সবই শাস্তি যোগ্য। এ ছাড়াও আরও অনেক কিছুই আছে এর মধ্যে। এর জন্য শাস্তি হবে কমপক্ষে দু’বছরের কারাবাস, ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা। ভৌগলিক, ঐতিহাসিক, সামাজিক-সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক বিভিন্ন কারণে বিলে এই নদীটিকে জাতীয় নদীর মর্যাদা দেওয়া হয়েছে।

রাজ্যে কেমন থাকবে কালীপুজোর আবহাওয়া?

তবে বিলের ৫৪ নম্বর ধারাটি বিতর্কিত। সেখানে কোনো সংস্থার দ্বারা গঙ্গার ক্ষতি সাধন হলে এক দিকে যেমন সেই কাজের দায়িত্বে থাকা প্রত্যেক ব্যক্তি শাস্তি পাবেন বলে বলা হয়েছে। অপর দিকে তেমনই সেই অপরাধ তাঁর বা তাঁদের অজ্ঞাতে করা হয়েছে তা প্রমাণ করতে পারলে শাস্তি থেকে রেহাই পেতে পারেন, এমনও বলা হয়েছে।

উত্তরকাশীর ‘গঙ্গা আহ্বান’ নামের একটি স্বেচ্ছা সেবী সংস্থার পক্ষে মল্লিকা ভানোট বলেন, প্রধান সমস্যা হল নদীর ওপর জলবিদ্যুৎ উৎপাদনে তৈরি করা বাঁধগুলির জন্য নদীর নাব্যতা কমাচ্ছে। এই ব্যাপারে কী ব্যবস্থা নেওয়া উচিত, সে ব্যাপারে এই বিলে কিছুই বলা নেই।

যমুনা নদী বাঁচাও আন্দোলনের সঙ্গে যুক্ত মনোজ মিশ্র বলেন, গঙ্গা আইন খুব ভালো একটি পদক্ষেপ হলেও তা সম্পূর্ণ নয়। এই গঙ্গা পুনঃরুজ্জীবন প্রকল্প প্রায় ব্যর্থ। কারণ এটি নালা বা ছোটো কোনো বিষয় নয়। নর্দমা নিকাশি ব্যবস্থার ওপর জোর দেওয়া সত্বেও জলের বিশুদ্ধতার, পরিচ্ছন্নতার কোনো পরিবর্তন ঘটাতে পারেনি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here