শুকিয়ে গিয়েছে ত্রিসুরের চেলাকুডি নদী। ছবি: ফার্স্টপোস্ট

তিরুঅনন্তপুরম: প্রাকৃতিক রোষ থেকে কিছুতেই বাঁচতে পারছে না কেরল। গত মাসে মহাপ্লাবনের কবলে পড়া কেরলে এখন নতুন বিপদ। অনাবৃষ্টি। বন্যা-পরবর্তী কেরলের এই নতুন বিপদের ব্যাপারে গবেষণা করার জন্য বিশেষ কমিটি তৈরি করেছেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন।

সেপ্টেম্বর মাসের শুরু থেকেই সে ভাবে আর বৃষ্টির দেখা নেই কেরলে। বৃষ্টির ঘাটতি উঠে গিয়েছে ৮৬ শতাংশে। পরিষ্কার আকাশে ছড়ি ঘোরাচ্ছে পারদ। মাত্রাছাড়া তাপমাত্রাকে সঙ্গী করে শুকিয়ে যাচ্ছে রাজ্যের নদীগুলি। মাসখানেক আগে যে নদীনালা, খালবিলের রূপ ছিল ভয়াবহ, সেগুলিতে এখন কার্যত জলশূন্য। গভীর নলকূপেও এখন আর জল নেই। কী কারণে এই সমস্যা তৈরি হয়েছে এবং এর সমাধান কী, সে ব্যাপারে ব্যাপক গবেষণা চালানোর জন্য স্টেট কাউন্সিল ফর সায়েন্স টেকনোলজি অ্যান্ড এনভায়রনমেন্টকে নির্দেশ দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী।

আরও পড়ুন ইভিএম বিগড়ানোর ফলে গণনা বন্ধ দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ে, এবিভিপির সঙ্গে জোর টক্করে এনএসইউআই

নদী-নালা শুকিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি পরিবেশবিদদের যেটা ভাবিয়ে তুলছে তা হল কেঁচোদের খুঁজে না পাওয়া। ওয়েনাড় জেলায় হঠাৎ করে আর কেঁচোদের দেখা পাওয়া যাচ্ছে না। কৃষকদের মতে, হঠাৎ করে মাটি শুকিয়ে যাওয়া এবং বৃষ্টির ফলে মাটির চরিত্র বদলে যাওয়ার ফলেই এই ঘটনা ঘটেছে। পেরিয়ার, পম্পা এবং কাবিনির মতো গুরুত্বপূর্ণ নদীগুলি গত মাসে দু’কুল ভাসিয়ে দিয়েছিল। সেগুলোতে অস্বাভাবিক ভাবে জল কমে গিয়েছে।

বন্যার পরেই রাজ্য যে খরার সম্মুখীন হতে পারে, সে ব্যাপারে সতর্ক করে দিয়েছিল অনেক পরিবেশ বিষয়ক সংগঠন। কিন্তু ঠিক কী কারণে এ রকম ভাবে জল শুকিয়ে যাওয়ার ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়ে চিন্তায় সরকার থেকে রাজ্যের সাধারণ মানুষ।

উল্লেখ্য, এ বছর ২৯ মে থেকে এখনও পর্যন্ত কেরলে বৃষ্টিতে মৃত্যু হয়েছে ৪৯১ জনের। এর মধ্যে গত মাসের বন্যাতেই মৃতের সংখ্যা প্রায় সাড়ে চারশো।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন