চেন্নাই: ইতিহাস রচিত হল তামিলনাডুর রাজনীতিতে। ভারতের ইতিহাসের সবচেয়ে নজরকাড়া ও ব্যয়বহুল উপনির্বাচনে ফলাফল হল চাঞ্চল্যকর। ১৯৯৯ সালের পর থেকে তামিলনাডুতে যা হয়নি, তাই হল রবিবার। উপনির্বাচনে হেরে গেল রাজ্যের ক্ষমতাসীন দল। তাও যে সে উপনির্বাচন নয়। খোদ রাজ্যের প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী জয়ললিতার মৃত্যুতে খালি হওয়া আসনে জিততে পারল না তাঁর দল এআইডিএমকে। এখানেই শেষ নয়। অবাক হওয়ার মতো বিষয় আরও আছে। ঐতিহাসিক ভাবে তামিলনাডু রাজনীতিতে এআইডিএমকে-র প্রধান প্রতিপক্ষ ডিএমকে-ও জিততে পারল না এই উপনির্বাচনে।

তাহলে কে জিতল এই ভোটে। কংগ্রেস বা বিজেপি-র মতো কোনো সর্বভারতীয় পার্টি?

না, তাও নয়। এআইডিএমকে-র প্রবীণ প্রার্থী ই মধুসূদনকে চল্লিশ হাজারেরও বেশি ভোটে হারিয়ে নির্বাচনে জয়ী হলেন নির্দল প্রার্থী টিটিভি দিনকরণ। অনেক পেছনে থেকে তৃতীয় স্থান পেল ডিএমকে।

আরও পড়ুন: সবং-এ মানসের চেয়ে বেশি ভোটে জিতলেন তাঁর স্ত্রী, কিন্তু ভোটের ফলে সবচেয়ে খুশি কারা?

কিন্তু কে এই দিনকরণ?

দুর্নীতির দায়ে আপাতত জেলে রয়েছেন প্রয়াত জয়ললিতার ছায়াসঙ্গী শশীকলা। তাঁর ভাইপো এই দিনকরণ। বিখ্যাত বা কুখ্যাত মান্নারগুডি পরিবারের প্রধান। জয়ললিতার মৃত্যু ও শশীকলা জেলে যাওয়ার পর এআইডিএমকে-র ক্ষমতা দখল করতে আগ্রহী ছিলেন দিনকরণ। কিন্তু রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী পালানিস্বামী ও উপমুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভাম, তা হতে দেননি। এমজি রামচন্দ্রণের দলের ক্ষমতা কুক্ষিগত করে রেখেছেন তাঁরা। দিনকরণর দাবি ছিল, শশীকলাই জয়ললিতার ন্যায্য উত্তরসূরি। যেহেতু তিনি জেলে, তাই পরিবার-সূত্রে ওই দলের অধিকার তাঁর ওপরই বর্তায়। ক্ষমতা না পেয়ে বিক্ষুব্ধ দিনকরণ আরকে নগর উপনির্বাচনে নির্দল প্রার্থী হন। ফলে এই ভোট পরিণত হয়েছিল এআইডিএমকে-র ক্ষমতাসীন গোষ্ঠীর জনপ্রিয়তার অ্যাসিড টেস্টে। অন্যদিকে জয়ললিতার মৃত্যুতে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক শূন্যতার সুযোগ ডিএমকে নেতা করুণানিধির ছেলে স্তালিন নিতে পারেন কিনা, নজর ছিল সেদিকেও। ফলাফল রবিবার প্রকাশিত হল।

ফলাফল জানার পর দিনকরণ হুঙ্কার ছেড়ে বলেছেন, তিন মাসের মধ্যেই পতন হবে পালানিস্বামী সরকারের। অন্যদিকে সঙ্কট তীব্র হয়েছে নানা মামলায় জেরবার, এআইডিএমকে-র সংখ্যালঘু সরকারের।

আরও একবার প্রমাণিত হল, তামিলনাডুর জনগণ দ্রাবিড় রাজনীতির নেতাদের ঐতিহাসিক ধারাবাহিকতাকে অগ্রাহ্য করে কাউকে মেনে নিতে এখনও প্রস্তুত নন। তা সে ধারাবাহিকতা যতই দূরবর্তী বা পারিবারিক হোক না কেন। কিংবা সেই ধারাবাহিকতার গায়ে যতই লেগে থাকুক দুর্নীতির কলঙ্ক। দলীয় রাজনীতির গণতন্ত্র বা আনুগত্যের সেখানে কোনো গুরুত্ব নেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here