robot

robot

ওয়েবডেস্ক: উপরের ছবিটা চেনা-চেনা ঠেকছে কি?

উত্তরটা ‘হ্যাঁ’ হওয়াটাই স্বাভাবিক। সত্যজিৎ রায়ের ভক্তদের বলে দিতে একটুও দেরি হবে না- এ ছবি ‘অনুকূল’ নামের গল্পের জন্য এঁকেছিলেন খোদ লেখকই। আর যাকে দেখা যাচ্ছে কাঁধে ঝাড়ন নিয়ে, সে আর কেউ নয়। সে-ই অনুকূল, চৌরঙ্গির ‘রোবট সাপ্লাই এজেন্সি’ থেকে ঘরের কাজের জন্য কেনা নিকুঞ্জবাবুর যন্ত্রমানব। “এটা হচ্ছে যাকে বলে অ্যান্ড্রয়েড, অর্থাৎ যদিও যান্ত্রিক, তাও চেহারার সঙ্গে সাধারণ মানুষের চেহারার কোনো তফাত নেই।“

চেন্নাইয়ের ছবিটা কিন্তু অনেকটাই আলাদা। সেখানে যে রেস্তোরাঁয় খদ্দেরকে খাবার খাওয়ানো, মানে তাঁদের টেবিলে খাবার পৌঁছে দেওয়ার ভার নিয়েছে যে রোবোটরা, তারা সব দিক থেকেই শরীরে ধারণ করে আছে যান্ত্রিক সত্তার পরিচিতি। মানে, যেমনটা আপনি ছবিতে দেখে অভ্যস্ত, এদের দেখতেও তেমনই! এই রোবোটরাই এখন শাসন করছে চেন্নাইয়ের এই বিশেষ রেস্তোরাঁ। ঘুরে-ফিরে কাজ করছে আপন মনে। খদ্দেরও তাজ্জব, রেস্তোরাঁ মালিকও খুশি!

তা, বেকার সমস্যায় ভুগতে থাকা এই দেশে হঠাৎ কেন যন্ত্রমানব দিয়ে খাবার পরিবেশনের সিদ্ধান্ত নিল চেন্নাইয়ের এই রেস্তোরাঁ?

ভুলে গেলে চলবে না, রোবোট-জ্বরে অনেক দিন ধরেই ভুগছে চেন্নাই। রজনীকান্ত আর ঐশ্বর্য রাই বচ্চনের বিখ্যাত সেই ছবির কথা মনে করুন! তবে এই রেস্তোরাঁর সঙ্গে সেটার সরাসরি যোগ নেই। এর মালিক ভেঙ্কটেশ রাজেন্দ্রনের ঝোঁক আসলে প্রযুক্তির দিকে। সেই জন্যই সাধের রেস্তোরাঁয় অত্যাধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার করে সবাইকে চমকে দিতে চেয়েছেন তিনি।

চেন্নাইয়ের এই রেস্তোরাঁর নামটাও ‘রোবোট’। অন্দরসাজে নিয়ে আসা হয়েছে বিমানের ভিতরের আবহ। রয়েছে ‘গেম অফ থ্রোনস’-এর সিংহাসনে আসীন এক বড়োসড়ো রোবোটের প্রতিমূর্তিও। কিন্তু সে তো নেহাতই বাহ্যিক শোভা। আসল আকর্ষণ এই রেস্তোরাঁর খাবার-পরিবেশক চার চারটি যন্ত্রমানব। লাল, নীল, গোলাপি, বেগুনি রঙে সেজে ওঠা যাদের নিয়ে আসা হয়েছে চিন থেকে।

জানা গিয়েছে, রেস্তোরাঁর প্রতি টেবিলেই থাকছে একটি করে আইপ্যাড। তার মারফত খাবারের অর্ডার দিতে হবে। সেই অর্ডার হেঁশেল থেকে দেখবেন রাঁধুনিরা। তার পর রেঁধে, সেটা বেড়ে, সাজিয়ে-গুছিয়ে তুলে দেবেন রোবোটদের হাতের ট্রে-তে। সেট করে দেবেন প্রোগ্রামিং। তার পরেই প্রায় হাওয়ায় ভেসে তারা খাবার পৌঁছে দিচ্ছে খদ্দেরদের কাছে।

ব্যাপারটা অভিনব, সন্দেহ নেই। কিন্তু ‘অনুকূল’ যাঁরাই পড়েছেন, তাঁদের মনে ঘোরাফেরা করতে থাকবে একটা সন্দেহ। রায়ের সেই গল্পে কেউ দুর্ব্যবহার করলে যন্ত্রমানবটি ‘ডান হাতের তর্জনীর সাহায্যে’ ‘হাই-ভোল্টেজ ইলেকট্রিক শক’ দিতে সমর্থ ছিল। এখানেও সেই সম্ভাবনা নেই তো?

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here