mohan bhagwat

ওয়েবডেস্ক: হুমকি? না সবিনয়ে সংগঠনের সামর্থ্যের দিকটা জনমানসে সঞ্চার করে দেওয়া?

তার স্পষ্ট উত্তর না পাওয়া গেলেও রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সঙ্ঘ প্রধান মোহন ভাগবতের উক্তি ইতিমধ্যেই বিতর্কের জন্ম দিয়েছে দেশে।

জানা গিয়েছে, ছয় দিনের মুজফফরপুর সফরের শেষ দিনে রাজ্যের জেলা স্কুলের সভায় দাবি করেছেন ভাগবত, “আরএসএস চাইলে তিন দিনের মধ্যে সেনাবাহিনী বানাতে পারে। যেখানে ভারতীয় সেনার এই কাজটা করতে ৬-৭ মাস লেগে যায়!”

“আমাদের ক্ষমতা এতটাই! স্বয়ংসেবকরা চাইলেই যে কোনো সময় যুদ্ধে যোগ দিতে পারে। অবশ্য যদি দেশে তেমন কোনো পরিস্থিতি তৈরি হয় এবং সংবিধান যদি অনুমতি দেয়”, বক্তব্যের শেষে এ-ও জানাতে ভোলেননি তিনি।

পাশাপাশি, সঙ্ঘসেবকরা যে সেনাবাহিনীর মতোই নিয়মানুবর্তী, সে কথাও ধরা পড়েছে তাঁর বক্তব্যে। “সঙ্ঘ কোনো সামরিক বা আধা-সামরিক সংগঠন নয়, এ এক পারিবারিক প্রতিষ্ঠান। কিন্তু সঙ্ঘের প্রতিটি সদস্য কঠোর নিয়মানুবর্তিতায় নিজেদের সঁপে রেখেছেন। যদি প্রয়োজন হয়, যে কোনো মুহূর্তে দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত তাঁরা”, দাবি ভাগবতের।

ভাগবতের এই উক্তি চাউর হয়ে যাওয়ার পরেই বিষয়টি নিয়ে টুইট করে আরএসএস প্রধানের তীব্র সমালোচনা করেছেন রাহুল গান্ধী। “আরএসএস প্রধানের এই বক্তব্য প্রত্যেক ভারতবাসীর অপমান কেন না যাঁরা দেশের জন্য যুদ্ধে শহিদ হয়েছেন, তাঁদের বক্তব্যে অসম্মান জানানো হয়েছে। এই বক্তব্য আমাদের জাতীয় পতাকারও অপমান, কেন না যে সৈনিকরা সেই পতাকাকে সেলাম ঠুকেছিলেন তাঁদের কোনো সম্মান দেওয়া হয়নি। ধিক্কার জানাই আপনাকে ভাগবত মহাশয়, আমাদের দেশ আর সেনাবাহিনীকে অসম্মানের জন্য”, টুইটে লিখেছেন রাহুল।

তবে আরএসএস কিন্তু প্রধানের উক্তির সাফাই দিতে পিছ-পা হয়নি। “ভাগবতের উক্তির ভুল অর্থ করা হচ্ছে। সমাজ এবং স্বয়ংসেবকদের মধ্যে একটা সাধারণ তুলনা ছাড়া এ তো কিছুই নয়। দুই-ই সেনাবাহিনীর প্রশিক্ষণ পেতে পারে। তা ছাড়া যদি দেশে তেমন কোনো সঙ্কটজনক পরিস্থিতি তৈরি হয় আর সংবিধান অনুমতি দেয়, তা হলেই একমাত্র বাহিনী তৈরির কথা বলেছেন ভাগবত। কেন না, স্বয়ংসেবকরা সৈনিকদের মতোই নিয়মানুবর্তিতার অনুরাগী”, প্রধানের কথার ধুয়ো তুলে বক্তব্য সঙ্ঘসদস্য মনমোহন বৈদ্যের।

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন