নয়াদিল্লি: রাষ্ট্রীয় স্বয়ংসেবক সংঘের ইতিহাস শাখা অখিল ভারতীয় ইতিহাস সংকলন যোজনা (এবিআইএসওয়াই)-এর পদাধিকারী এবং এলাহাবাদের ঈশ্বর সারন ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ আনন্দ শঙ্কর সিং ভারতীয় ইতিহাস গবেষণা পরিষদের (আইসিএইচআর) সদস্য-সচিব হতে চলেছেন। গত দেড় বছর যাবত পদটি খালি ছিল।

দ্বিতীয় ইউপিএ সরকারের সময় নিযুক্ত ঐতিহাসিক গোপীনাথ রবীন্দ্রণ মেয়াদের অর্ধেক কাটিয়েই পদত্যাগ করায় খালি হয়েছিল পদটি। আইসিএইচআর-এর প্রধান ওয়াই এস রাও-এর সঙ্গে মতবিরোধের জেরে পদত্যাগ করেন তিনি। পরিষদের পত্রিকার ২১ সদস্যের উপদেষ্টামণ্ডলীকে বাতিল করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন রাও। ওই উপদেষ্টামণ্ডলীতে ছিলেন ইরফান হাবিব, রোমিলা থাপারের মতো বিখ্যাত ইতিহাসবিদ। সেই সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেই পদত্যাগ করেন রবীন্দ্রণ।

তিন সদস্যের একটি প্যানেল ওই পদে নির্বাচন করেছে ৫১ বছর বয়সি আনন্দ শঙ্কর সিং-কে। প্যানেলের অন্যতম সদস্য ছিলেন আইসিএইচআর-এর প্রধান রাও। প্যানেলের সিদ্ধান্তে অনুমোদন দিয়েছেন কেন্দ্রীয় মানবসম্পদ উন্নয়ন মন্ত্রী প্রকাশ জাভরেকর।

আনন্দ শঙ্কর এই মুহূর্তে এবিআইএসওয়াই-এর উত্তরপ্রদেশ শাখা ‘ইতিহাস সংকলন সমিতি’র সহ-সভাপতি। তিনি ভারতীয় মুদ্রাবিজ্ঞান, প্রাচীন লিপিবিজ্ঞান ও প্রাচীন ভারতের আর্থ-সামাজিক ইতিহাসের বিশেষজ্ঞ। আনন্দ শঙ্কর বলেন, “মথুরা ও কৌশাম্বিতে পাওয়া লিপি ও মুদ্রা নিয়ে আমি গবেষণা করেছি”।

তবে শুধু আনন্দ শঙ্করই নন, পরিষদের আরও তিন সদস্য এবং পরিষদের প্রধান ওয়াই এস রাও, চার জন আরএসএস-এর ইতিহাস শাখার সদস্য। পরিষদের প্রধান পদে নিযুক্ত হওয়ার সময় রাও, এবিআইএসওয়াই-এর সর্বভারতীয় সহ-সভাপতি ছিলেন।

পরিষদকে দেশের নানা প্রান্তে পৌঁছে দিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিহাস চর্চা বাড়ানোই তাঁর লক্ষ্য বলে জানিয়েছেন আনন্দ শঙ্কর। গবেষণামূলক কাজে তাঁর অগ্রাধিকার থাকবে “পুরাণগুলি রচনার সন-তারিখ নির্দিষ্ট করার”। কারণ সেগুলি কোন সময় থেকে কোন সময়ের মধ্যে রচিত তা জানা গেলেও, ঠিক কোন সময়ে রচনা করা হয়েছিল, তা এখনো স্পষ্ট নয়। সেটা করা গেলে, সিং-এর মতে, তা ভারতীয় ইতিহাসচর্চায় একটি ‘বড়ো অবদান’ হবে বলে মনে করেন আনন্দ শঙ্কর।

অখিল ভারতীয় ইতিহাস সংকলন যোজনা-র ওয়েবসাইটে লেখা আছে, ‘ভারতীয় ইতিহাসকে জাতীয়তাবাদী দৃষ্টিভঙ্গি’ থেকে রচনা করাই এই সংগঠনের লক্ষ্য।

 

 

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here