Janardhan Reddy, Karunakar Reddy and Somashekhar Reddy.
২০১৮ কর্নাটক বিধানসভা ভোটের ফলাফল ঘোষণার দিন (বাঁ দিক থেকে) জনার্দন রেড্ডি, করুণাকর রেড্ডি এবং সোমশেখর রেড্ডি

ওয়েবডেস্ক: “দীপাবলির দিন অন্ধকার থেকে আলোয় ফিরলেন বল্লারির মানুষ”। বল্লারি লোকসভা উপনির্বাচনের ভোটগণনার প্রথম পাঁচ ঘণ্টায় ২ লক্ষেরও বেশি ভোটে কংগ্রেস-জেডিএস জোটপ্রার্থী এগিয়ে যাওয়ায় টুইটারে লিখলেন প্রাক্তন মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া। ওয়াকিবহাল মহলের মতে, বল্লারিতে খনি মাফিয়া শাসনের নিয়ন্ত্রক বিজেপির রেড্ডি ব্রাদার্স এবং বি শ্রীরামুলুর প্রসঙ্গ টেনেই এমন মন্তব্য করলেন তিনি।

এ দিন রেড্ডি পরিবারের কোনো বিজেপি নেতা বাড়ি থেকে বের হননি বলেই সংবাদ মাধ্যম সূত্রে খবর। প্রায় ১৪ বছর পর নিজেদের দুর্গে ধস নামার ইঙ্গিত মিলতেই তাঁরা লোকচক্ষুর আড়ালে চলে গিয়েছেন। একই ভাবে রাজ্য বিজেপির সদর দফতরও এ দিন প্রায় অন্ধকারাচ্ছন্ন। পাঁচটির মধ্যে মাত্র একটি আসনে জয় মিললেও আগামী লোকসভা ভোটের আগে বিজেপির প্রতি জনমানসের বিরূপ প্রতিফলনে তাঁরাও আশাহত। বিশেষ করে রেড্ডি ভাইয়ের নিয়ন্ত্রণাধীন বল্লারি হাতছাড়া হতেই চরম অশনি সংকেত গোটা রাজ্য জুড়েই। কারা এই রেড্ডি ব্রাদার্স?

ইয়েড্ডিয়ুরাপ্পা সরকারের প্রাক্তন মন্ত্রী জনার্দন রেড্ডি এবং তাঁর ভাই সোমশেখর শুধু বল্লারির ‘বেতাজ বাদশা’ নন, এত দিন ছিলেন সাধারণ মানুষের ভাগ্যনিয়ন্ত্রকও।

ভারতবর্ষের ধনী রাজনীতিকদের তালিকায় জনার্দন এক সময় ছিলেন পয়লা নম্বরে। শুধু নিজস্ব গাড়ি-বাড়ি-বাংলোর হিসেবেই নয়, তাঁর সম্পদের ভাণ্ডার এবং তার ব্যবহার তাবড় বিশ্বরাজনীতিকদেরও হার মানায়। যিনি সচরাচর ভ্রমণ করেন নিজের হেলিকপ্টারেই। এ হেন কয়েক কোটি টাকার মালিক-ব্যবসায়ী জড়িয়ে পড়েছিলেন বল্লারি খনিতে অবৈধ খনন-কাণ্ডে। লোকাযুক্ত তাঁকে অভিযুক্ত ঘোষণার পর সেই মামলা চলে যায় সিবিআইয়ের হাতে। কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা গ্রেফতারও করে জনার্দনকে।

শুধু খনি-দুর্নীতি নয়, বেলেকেরি বন্দর দুর্নীতিতেও জড়িয়ে গিয়েছিল জনার্দনের নাম। তবে খনি-দুর্নীতিতে জড়িয়ে তাঁর ৪২ মাস বিচার বিভাগীয় হেফাজতে থাকার ঘটনা স্থানীয় মানুষের কাছে অজানা নয়। কর্নাটকের ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতে চলে যাওয়ার পর অবশ্য বিজেপি ‘রেড্ডি ব্রাদার্স’-এর সঙ্গে দূরত্ব তৈরি করে। কিন্তু কর্নাটকের সাম্প্রতিক বিধানসভা নির্বাচনে অংশ নেন ছোটো ভাই।

২০১৮-র কর্নাটক বিধানসভা নির্বাচনে রেড্ডি ভাইয়েরা সক্রিয় ভাবে অংশ নেন এবং সোমশেখর ও করুণাকর রেড্ডি বিজেপির টিকিটে জয়ী হন। তবে মঙ্গলবার প্রকাশিত হওয়া উপনির্বাচনের ফলাফল দেখে কংগ্রেস নেতারা বলছেন, রেড্ডি ব্রাদার্স এ বার রাজনীতির থেকে আরও বেশি করে নিজেদের ব্যবসায় মন দেবে বলেই মনে হচ্ছে।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here