elephant killed

নিজস্ব সংবাদদাতা, জলপাইগুড়ি: ট্রেনের ধাক্কায় বন্যপ্রাণীর মৃত্যুর ঘটনা অব্যাহত। সেই সঙ্গে অব্যাহত বিতর্কও। কিন্তু না থামছে মৃত্যু, না থামছে বিতর্ক।

ফের একবার দ্রুতগতির ট্রেনের ধাক্কায় মৃত্যু হল হাতির। তা-ও একটি নয়, শাবক-সহ মৃত্যু হল সাত-সাতটি হাতির! অসমের শোণিতপুর জেলার বালিপাড়ার ঘটনা। শনিবার  রাতে দেড়টা নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। শাবক-সহ ছয়টি হাতি ঘটনাস্থলেই মারা যায়। যার মধ্যে একটি আবার গর্ভবতী ছিল। পরে মৃত্যু হয় আর একটি হাতির।

অসমের বন দফতর সূত্রে খবর, শোণিতপুর জেলার অনেকটাই আগে জঙ্গল ছিল। কিন্তু কয়েক বছর ধরে সেখানে জঙ্গল ধ্বংস করে জনবসতি গড়ে উঠেছে। ফলে খাবারে খোঁজে হাতির দল প্রায়ই সংলগ্ন গ্রামগুলিতে হানা দেয়। শনিবার রাতেও এমনই একটি হাতির দল বামগাঁও চা বাগানের কাছে রেললাইন পার করে বালিপাড়ার দিকে যাচ্ছিল। সেই সময় রঙ্গিয়া-নাহারগাঁও এক্সপ্রেস ট্রেন সজোরে ধাক্কা মারে বেশ কয়েকটি হাতিকে। হাতিদের চিৎকার এবং দুর্ঘটনার বিকট আওয়াজ শুনে ছুটে আসেন স্থানীয় বাসিন্দারা। প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, ঘটনাস্থলেই ছয়টি হাতি মারা যায়। বনকর্তারা জানিয়েছেন, ধাক্কা এতটাই জোরে ছিল যে হাতিগুলি রেললাইন থেকে ছিটকে চা বাগানের মধ্যে গিয়ে পড়েছিল।

খবর পেয়ে ভোরবেলা রেল এবং বন দফতরের কর্তারা ঘটনাস্থলে ছুটে আসেন। অসমের বন দফতর সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত হাতিগুলির মধ্যে একটি শাবক এবং একটি গর্ভবতী হাতি ছিল। গুরুতর আহত আরও একটি হাতি রবিবার দুপুর নাগাদ মারা যায়। বনাধিকারিকদের আশঙ্কা, ঘটনায় আরও হাতি জখম হয়ে থাকতে পারে। তাদের চিকিৎসারও প্রয়োজন। সেই জন্য জখম হাতির খোঁজে ওই এলাকা সংলগ্ন জঙ্গলগুলিতে তল্লাশি শুরু করেছে বন দফতর।

এ দিকে ঘটনার পরই চাপানউতোর শুরু হয়েছে অসম বন বিভাগ এবং উত্তর-পূর্ব সীমান্ত রেলের মধ্যে। বনকর্তাদের দাবি, ট্রেনটি অতি দ্রুত গতিতে থাকার জন্যই এতগুলি হাতির মৃত্যু হয়েছে। যদিও উত্তর-পূর্ব রেলের আধিকারিকদের সাফাই, ঘন কুয়াশার জন্যই লাইনের ওপর হাতিগুলিকে দেখতে পাননি চালক। বন দফতর ও রেল বিভাগ আলাদা আলাদা ভাবে ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে। তবে আসল ঘটনা যা-ই হোক, পরস্পরের ওপর দোষারোপ, বিতর্ক বন্ধ করে এই ভাবে দুর্ঘটনায় বন্যপ্রাণীদের মর্মান্তিক মৃত্যু কী ভাবে ঠেকানো যায় তার রাস্তা বের করাই এখন আশু কর্তব্য, মত পশু ও পরিবেশ প্রেমীদের। তবেই বন্ধ হবে এই ধরনের মর্মান্তিক দুর্ঘটনা, বাঁচবে বন্যপ্রাণ।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here