টোকিও: মদ্যপান কমাচ্ছে তরুণ প্রজন্ম। কমছে সরকারের রাজস্ব। অগত্যা অর্থনীতি চাঙ্গা করতে নতুন কৌশল জাপান সরকারের। সেই কৌশল বাস্তবায়িত করতে শুরু হয়েছে অভিনব প্রচারাভিযান।

বিভিন্ন সমীক্ষা বলছে, বাবা-মায়ের চেয়ে কম অ্যালকোহল পান করছে তরুণ প্রজন্ম। যে কারণে সেকের (রাইস ওয়াইন) মতো পানীয় থেকে রাজস্ব আদায়ে বড়োসড়ো ঘাটতি দেখা দিয়েছে। কোভিড অতিমারির সময় থেকেই পর্যাপ্ত পরিমাণ মদ্যপান থেকে নিজেদের সরিয়ে নিয়েছিল জাপানের তরুণরা। তবে করোনা সংক্রমণের উন্নতি হলেও তার ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি মদ বিক্রিতে। রাজস্বের একটি বড়ো উৎসে তরুণ প্রজন্মের অনীহা কাটাতেই নতুন ফন্দি এঁটেছে সরকার।

মদ্যপান বাড়াতে প্রতিযোগিতা

শুরু হয়েছে একটি প্রতিযোগিতা। জাতীয় স্তরের ওই প্রতিযোগিতার আয়োজক জাপানের কর সংস্থা ‘ন্যাশনাল ট্যাক্স এজেন্সি’। প্রচারাভিযানের শিরোনাম “সেক ভাইভা”! কর্মকর্তাদের আশা, মদ্যপানকে আরও আকর্ষণীয় করে তোলার পরিকল্পনা এই শিল্পকে উৎসাহিত করবে। মদের চাহিদা বাড়বে, পাশাপাশি রাজস্বের খরা কাটবে কোষাগারে।

প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পারবেন ২০-২৯ বছর বয়সিরা। প্রতিযোগীরা মদ বিক্রি বাড়ানোর বিভিন্ন ব্যবসায়িক কৌশলের কথা জানাবেন। সেক, শোচু, হুইস্কি, বিয়ার বা ওয়াইন- সব কিছুরই বিক্রি বাড়ানোর বিভিন্ন উপায় নিয়ে উপস্থিত হবেন। যাঁর বর্ণনা করা উপায় সব থেকে ভালো হবে, প্রতিযোগিতার শেষে তিনি এই প্রতিযোগিতা জিতবেন।

আয়োজকরা চায়, প্রতিযোগীরা প্রচার, ব্র্যান্ডিং এবং এমনকী কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা-জড়িত অত্যাধুনিক পরিকল্পনা নিয়ে আসুন, শেয়ার করুন। জাপানের বিভিন্ন মিডিয়া রিপোর্টে দাবি করা হয়েছে, এই কৌশলটি মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে।

বলে রাখা ভালো, এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়ার জন্য আবেদন করার শেষ তারিখ ৯ সেপ্টেম্বর। অক্টোবর মাসে চূড়ান্ত পর্যায়ের প্রতিযোগীদের বাছাই করা হবে। প্রতিযোগিতার ফাইনাল অনুষ্ঠিত হবে নভেম্বরে। প্রতিযোগীদের বাছাইয়ে অংশ নেবেন বিশেষজ্ঞরা।

শুধু অর্থনীতি নয়, বহুমাত্রিক উদ্বেগ

প্রচারাভিযানের ওয়েবসাইট বলছে, জাপানের অ্যালকোহলের বাজার ক্রমশ সঙ্কুচিত হচ্ছে। দেশটির পুরানো জনসংখ্যার নিরিখে জন্মহার হ্রাস এর পিছনে একটি উল্লেখযোগ্য কারণ। ট্যাক্স এজেন্সির সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান বলছে, ১৯৯৫ সালের তুলনায় ২০২০ সালে মদ্যপান কমেছে অনেক। ১৯৯৫-এ প্রাপ্তবয়স্কে প্রতি মদ্যপান ছিল ১০০ লিটার (২২ গ্যালন), ২০২০-তে তা কমে হয়েছে ৭৫ লিটার (১৬ গ্যালন)।

সবমিলিয়ে, মদের উপর কর থেকে রাজস্ব আদায়ও কয়েক বছর ধরে সঙ্কুচিত হয়েছে। দ্য জাপান টাইমস পত্রিকার রিপোর্ট অনুযায়ী, ১৯৮০ সালে মোট রাজস্বের ৫ শতাংশ ছিল মদ বিক্রির উপর থেকে, কিন্তু ২০২০ সালে মাত্র ১.৭ শতাংশ।

বিশ্বব্যাঙ্কের অনুমান, জাপানের জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ (২৯ শতাংশ) ৬৫ বছর বা তার বেশি বয়সি, এটাই বিশ্বের সর্বোচ্চ অনুপাত। যা ভবিষ্যতের জন্য উদ্বেগ। এটা জাপানের অর্থনীতির জন্য একমাত্র সমস্যা নয় – নির্দিষ্ট ধরনের চাকরির জন্য তরুণ কর্মীর জোগান এবং ভবিষ্যতে বয়স্কদের যত্ন নেওয়ার বিষয়েও উদ্বেগ।

আরও পড়তে পারেন:

বিলকিস বানো মামলা: দোষীদের মুক্তি দেওয়া ১০ সদস্যের কমিটির ৫ জনই বিজেপি-র!

কাশ্মীর নিয়ে ভারতের সঙ্গে ‘ন্যায় ও শান্তিপূর্ণ’ সমাধান চায় পাকিস্তান, দাবি প্রধানমন্ত্রী শরীফের

নিমেষে ধসে পড়ল মুম্বইয়ের একটি চারতলা বাড়ি, রইল ভিডিও

পরকীয়ার সন্দেহ, স্বামীর গোপনাঙ্গে গরম জল ঢাললেন স্ত্রী!

চিনা অ্যাপের মাধ্যমে ঋণ কেলেংকারি, সাহায্য করে তদন্তের মুখে একাধিক চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্ট

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন