সলমনই হরিণ মেরেছিলেন, ফের বললেন সেই জিপসি চালক

0

সিনেমার শ্যুটিং করার ফাঁকে হরিণই শিকার করতে গিয়েছিলেন সলমনরা। সলমন খানই রাজস্থানের জঙ্গলে গুলি চালিয়ে চিঙ্কারা আর কৃষ্ণসার হরিণ হত্যা করেছিলেন। ১৮ বছর পর বুধবার এ কথা আবার জানালেন সলমন খানের জিপ ড্রাইভার।  উল্লেখ্য, দু’দিন আগে রাজস্থান হাইকোর্ট চিঙ্কারা হত্যার দু’টি মামলায় ৫০ বছর বয়সি অভিনেতা সলমন খানকে বেকসুর খালাস করে দেয়। মামলায় জিপ চালকের অনুপস্থিতি সলমনের বিরুদ্ধে মামলা না টেকার অন্যতম কারণ।

ইতিমধ্যে রাজস্থান সরকার জানিয়েছে, অভিনেতা সলমন খানের বেকসুর খালাসকে চ্যালেঞ্জ করে তারা সুপ্রিম কোর্টে যেতে প্রস্তুত।  

১৯৯৮-তে ‘হম সাথ সাথ হ্যাঁয়’ ছবির শ্যুটিং–এর অবসরে জিপসি নিয়ে জঙ্গল ভ্রমণে বেরিয়েছিলেন সলমনরা। চালক ছিল হরিশ দুলানি। ৩৭ বছরের হরিশ এখন স্ত্রী-পুত্রদের নিয়ে যোধপুরের থাকেন। প্রায় ফিল্মি কায়দায় হঠাৎ করেই উদয় হরিশের। তিনি বলেন, “১৮ বছর আগে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে আমি যে কথা বলেছিলাম, তাতে আমি এখনও অনড়। আমি গা ঢাকা দিইনি। আমার বাবাকে হুমকি দেওয়া হয়েছিল। আমি ভয় পেয়ে বাড়ি থেকে চলে গিয়েছিলাম। যদি পুলিশের তরফ থেকে আমার সুরক্ষার ব্যবস্থা করা হত, তা হলে বিবৃতি দিতে পারতাম।”

হরিশ জানান, “আমার জীবন বিপন্ন। তবে নিরাপত্তার ব্যবস্থা হলে আমি আদালতে গিয়ে সাক্ষ্য দিতে প্রস্তুত।” এ ব্যাপারে রাজস্থানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গুলাব চাঁদ কাটারিয়া বলেন, “ওঁর সঙ্গে যোগাযোগ করার জন্য আমরা লোক পাঠাব। যদি তিনি নিরাপত্তা চান, তা হলে তার ব্যবস্থা করব।”

১৯৯৮-এর ১৪ অক্টোবর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে হরিশ দুলানি এক বিবৃতিতে বলেছিলেন, হরিণ শিকারে বেরিয়ে ওই বছর ২৬ থেকে ২৮ সেপ্টেম্বরের মধ্যে সলমন খান  তিনটি চিঙ্কারা হরিণ শিকার করেন। একটা মারুতি জিপসিতে চড়ে সলমন শিকারে বের হন। ওই জিপসি হরিশই চালাচ্ছিলেন। ২৬ তারিখ রাতে ভাওয়াদ গ্রামে অভিনেতা দু’টি চিঙ্কারা গুলি করে মারেন। এর পর তিনি উমেদ প্যালেস হোটেলে ফিরে আসেন এবং দুলানি ও অন্য আর এক জন মৃত হরিণ দু’টির ছাল ছাড়ানোর জন্য অন্য একটি হোটেলে যান। জিপসি গাড়িটি বাড়ি এনে ধোয়াধুয়ি করেন।

এর পর ২৭ তারিখে সলমন আবার শিকারে বের হলেও কোনও পশু পাননি বলে জানিয়েছিলেন দুলানি।

পরের দিন ২৮ তারিখ দুলানিকে সঙ্গে নিয়ে জিপসি চালিয়ে সলমন ঘোদা ফার্মহাউসে যান। সেখান থেকে রক্ষী গোরধন সিং-কে নিয়ে শিকারে যান। সেই দিন সলমন উজালিয়া ভাখর গ্রামে একটি চিঙ্কারা মেরে তার গলা কাটেন। এর পর ফের ঘোদা ফার্মহাউসে ফিরে গিয়ে চামড়া ছাড়ানোর ব্যবস্থা করেন। হরিণের মাংস নিয়ে হোটেলে ফিরে যান সলমন। 

দুলানি তাঁর বিবৃতিতে আরও বলেছিলেন, পরের দিন ২৯ তারিখে আবার শিকারে বেরিয়েছিলেন সলমন, কিন্তু কিছু পাননি।

দুলানি বলেন, সলমনের পরিচিত দুশ্যন্ত সিং ১ অক্টোবর তাঁর গাড়িটি দেন। ওই দিন সলমনের সঙ্গী হন সেফ আলি খান, নিলম, তাব্বু, সোনালী বেন্দ্রে এবং এক জন স্পট বয়। তাঁরা কঙ্কানি গ্রামে আসেন ও সেখানে দু’টি কৃষ্ণসারকে গুলি করে মারেন।

সেখানেই তাঁরা স্থানীয় বিষনোই সম্প্রদায়ের লোকেদের হাতে ধরা পড়েন। তাঁরা ওই জিপসির নম্বর নেন, তবে তারকারা যোধপুরে পালিয়ে যান। বিষনোইরা বন দফতরের অফিসারদের কাছে কৃষ্ণসার হত্যার খবর পৌঁছে দেন। সেই খবর পেয়ে তাঁরা গাড়ীর মালিককে খুঁজে বের করেন। দুলানি আরও বলেছিলেন, তিনি ২৬ থেকে ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সলমন খানের সঙ্গে থাকলেও ১ অক্টোবর ছিলেন না।

হরিশ দুলানির বক্তব্যের ওপর নির্ভর করেই বন্যপ্রাণী হত্যার দায়ে সলমন খানকে অভিযুক্ত করা হয় এবং ১৯৯৮ সালের ১১ অক্টোবর বন দফতর পুলিশের হাতে মামলাটি তুলে দেয়।

হাইকোর্টে আসামি পক্ষের আইনজীবী জানান, বার বার ডেকে পাঠানো সত্ত্বেও দুলানি আদালতে হাজিরা না দেওয়ায় তাঁকে জেরা করা যায়নি। এর পরই সোমবার হাইকোর্ট অভিনেতা সলমন খানকে বেকসুর খালাস করে দেয়।  

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন