SBI

ওয়েবডেস্ক: ভারতবর্ষের সবচেয়ে বড়ো মহাজন স্টেট ব্যাঙ্ক অফ ইন্ডিয়া। অর্থাৎ সবচেয়ে বেশিঋণ দেয় তারা। আর সকলেই জানেন, যে কোনো ব্যাঙ্ক উপার্জন করে ঋণের সুদ থেকে। সে দিক থেকে ঋণের সুদ থেকেই পর্যাপ্ত আয় করার কথা এসবিআই-এর। কিন্তু দেখা যাচ্ছে ঋণের বিনিময়ে আয়ের থেকে গ্রাহকদের পকেট কেটেই বেশি আয় করেছে ভারতের সবচেয়ে বড়ো ব্যাঙ্কটি। আর তাতেই চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে দেশজুড়ে।

গত বছরের এপ্রিল থেকে গ্রাহকদের ন্যূনতম ব্যালেন্সে তুমুল কড়াকড়ি শুরু করে ব্যাঙ্কটি। দেশজোড়া তাদের ৪২ কোটি সেভিংস ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টধারীদের চার ভাগে ভাগ করে তারা। মেট্রো, শহর, আধা-শহর এবং গ্রাম। ভোগলিক অঞ্চল অনুযায়ী গ্রাহকদের ন্যূনতম ব্যালেন্স রাখার পরিমাণ ধার্য হয় যথাক্রমে ৫০০০, ৩০০০, ২০০০ এবং ১০০০ টাকা। অক্টোবরে অবশ্য মেট্রো শহরে বসবাসকারীদের ন্যূনতম ব্যালেন্সের পরিমাণ কমিয়ে ৩০০০ করা হয়। এই পরিমাণ ব্যালেন্স না থাকলে গ্রাহকদের থেকে জরিমানা হিসেবে টাকা কেটে নেওয়ার ফতোয়া জারি হয়। সেই ফতোয়া প্রয়োগও করা হয় জোর কদমে।

আরও পড়ুন: গ্রিসের পথে ভারত? ব্যাঙ্কদের বিশ্বজোড়া স্বৈরশাসনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা আজ অত্যন্ত জরুরি

আর সেই প্রক্রিয়ার ফলাফল হিসেবে সামনে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সম্প্রতি অর্থ দফতরের প্রকাশিত রিপোর্টে দেখে গেছে, গত বছরের এপ্রিল থেকে নভেম্বরের মধ্যে গ্রাহকদের থেকে ন্যূনতম ব্যালেন্স না রাখতে পারের জরিমানা হিসেবে মোট ১৭৭১ কোটি টাকা আয় করেছে দেশের সর্ব বৃহৎ ব্যাঙ্কটি। যেখানে জুন-সেপ্টেম্বর ত্রৈমাসিকে ব্যাঙ্কের মোট লাভের পরিমাণ তার থেকে কম(১৫৮১.৫৫ কোটি টাকা)। অন্যদিকে প্রথম দুই ত্রৈমাসিক মিলিয়ে(এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর) ব্যাঙ্ক মোট লাভ করেছে ৩৫৮৬ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই সময়কালে এসবিআই-এর মোট লাভের প্রায় অর্ধেক এসেছে গ্রাহকদের থেকে চার্জ নিয়ে। অর্থাৎ ঋণগ্রহীতাদের থেকে টাকা আদায় করা বা আরও বেশি মানুষের কাছে প্রয়োজনীয় ঋণ পৌঁছে দিয়ে উপার্জনের থেকে ব্যাঙ্কের বেশি মন সাধারণ জনগণের কষ্টার্জিত অর্থের দিকেই। কারণ, এটা বুঝতে কাররই অসুবিধা হয় না, যে ন্যূনতম ব্যালেন্স যারা রাখতে পারছেন না, সেই সব গ্রাহক মূলত আর্থিক ভাবে পিছিয়ে থাকা অংশের অন্তর্গত।

এই তথ্য সামনে আসার পর দেশজুড়ে চাঞ্চল্য তৈরি হয়। তারপরই মঙ্গলবার এ নিয়ে মুখ খোলেন ব্যাঙ্ক কর্তৃপক্ষ। তথ্য নিয়ে কোনো মন্তব্য না করে তারা জানিয়েছে, গত ৬ বছর ন্যূনতম ব্যালেন্স না থাকার জন্য জনগণের কাছে থেকে কোনো চার্জ নেয়নি ব্যাঙ্ক। এখন তারা তা নিতে বাধ্য হচ্ছে। জনগণের অর্থ দেখভাল করতে ব্যাঙ্কের বিপুল খরচের কথাও জানানো হয়েছে ওই বিবৃতিতে। কিন্তু বিবৃতিতে সুকৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে যে, ব্যাঙ্ক জনগণের অর্থ জমা রাখে তা ব্যবসায়ী ও মধ্যবিত্তদের ঋণ দিয়ে সুদবাবদ উপার্জনের জন্য।

যাই হোক, বিষয়টা হল, তথ্য বিশ্লেষণ করলে বোঝা যাবে আম জনতার পকেটের পয়সা নিয়েই তার জমা অর্থের সুদ ফেরত দিচ্ছে এসবিআই।

যদিও বিষয়টা আরেকটু গভীর। ২০১৬-য় নোটবন্দি হওয়ার পর থেকেই কেন্দ্রের সঙ্গে নানারকম নীতিগত সংঘাত বাড়তে থাকে এসবিআই-এর। বিপুল বাতিল নোট ফেরত নেওয়ার ফলে দেশের সবচেয়ে ব‌ড়ো ব্যাঙ্কের টাকার ভাণ্ডারও বিপুল বৃদ্ধি পেয়েছিল। কিন্তু সেই মতো দেশে ঋণেরচাহিদা বাড়েনি। ফলে সেই বিপুল অর্থ রক্ষণাবেক্ষণ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছিল। তারপর থেকেই একের পর এক জনবিরোধী নীতি নিয়ে চলেছে ব্যাঙ্কটি। নানা ভাবে আমজনতার ওপর চাপানো হচ্ছে চার্জের বোঝা। লক্ষ্য একটাই, যাতে সাধারণ গ্রাহকরা এসবিআই-তে তাঁদের অ্যাকউন্ট বন্ধ করে দেন। যদি কেউ তা না করতে চান, তাহলে নিজের টাকা ব্যাঙ্কে রাখার জন্য চার্জ হিসেবে ভা়ড়া গুনুন। অন্যদিকে ঋণ ফেরত না দিয়ে নিশ্চিন্তে জীবন কাটাক বড়ো ব্যবসায়ীরা।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here