security in Ayodhya
অযোধ্যায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। ছবি সৌজন্যে দ্য হিন্দুস্তান টাইমস।

ওয়েবডেস্ক: শনিবার সকালে অযোধ্যা মামলার রায় দেবে সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের ডিভিশন বেঞ্চ সকাল সাড়ে ১০টায় ওই রায় ঘোষণা করবে। এ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, অযোধ্যা মামলার রায় যা-ই হোক, “তাতে কারও হার বা জিৎ হবে না।”

সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে একটি নোটিশ আপলোড করে জানানো হয়েছে, রাম-জন্মভূমি বাবরি মসজিদ জমি মালিকানা মামলার রায় ঘোষণা করা হবে প্রধান বিচারপতির আদালতে, কোর্টের রুম নম্বর ১-এ। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ, বিচারপতি এস এ বোবদে, বিচারপতি ডি ওয়াই চন্দ্রচূড়, বিচারপতি অশোক ভূষণ এবং বিচারপতি এস আবদুল নাজিরকে নিয়ে গঠিত পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক ওই রায় দেবে।

এর আগে শুক্রবার বিকেলে প্রধান বিচারপতি উত্তর প্রদেশের মুখ্য সচিব এবং পুলিশের ডিরেক্টর জেনারেলের সঙ্গে বৈঠক করেন। রায় ঘোষণার আগে রাজ্যের আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি খতিয়ে দেখা হয় ওই বৈঠকে।

হার-জিৎ নয়: প্রধানমন্ত্রী

শুক্রবার রাতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী টুইট করে বলেছেন, “অযোধ্যা মামলায় সুপ্রিম কোর্ট যা-ই রায় দিক, সেটা কারও পক্ষেই হার বা জিৎ হবে না। শান্তি, ঐক্য আর সদিচ্ছার যে ঐতিহ্য ভারতের আছে, এই সিদ্ধান্তে তা আরও শক্তিশালী হবে – এটাই যাতে আমাদের অগ্রাধিকার হয়, সেটা দেখার জন্য আমি আমার দেশবাসীর কাছে আবেদন জানাচ্ছি।”

টুইট বার্তায় প্রধানমন্ত্রী আরও লিখেছেন, “অযোধ্যা নিয়ে সুপ্রিম কোর্ট তার সিদ্ধান্ত আগামী কাল জানাবে। গত কয়েক মাস ধরে বিষয়টা নিয়ে টানা শুনানি হয়েছে সুপ্রিম কোর্টে। গোটা দেশ সাগ্রহে তাকিয়ে রয়েছে রায়ের দিকে। এই সময়টায় সমাজের সমস্ত শ্রেণির মানুষ যে ভাবে সদিচ্ছার পরিবেশ রক্ষা করে গিয়েছেন, তা প্রশংসার দাবি রাখে।”  

উত্তরপ্রদেশে ১৪৪ ধারা

শনিবার অযোধ্যা রায়দানের পরিপ্রেক্ষিতে সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা হিসাবে গোটা উত্তর প্রদেশে ১৪৪ ধারা বলবৎ করা হয়েছে। ৯ নভেম্বর থেকে ১১ নভেম্বর পর্যন্ত রাজ্যের সমস্ত স্কুল, কলেজ এবং ট্রেনিং সেন্টার বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

কর্নাটকের গডগ জেলায় শনিবার স্কুল-কলেজ বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে বলে জেলার ডেপুটি কমিশনার এম জি হিরেমথ জানিয়েছেন।

অযোধ্যা মামলার রায়দানের পরিপ্রেক্ষিতে মধ্যপ্রদেশের রাজধানী ভোপালে ১৪৪ ধারা জারি করেছেন কালেক্টর অ্যান্ড ডিসট্রিক্ট ম্যাজিস্ট্রেট।

সুপ্রিম কোর্টে শুনানি-পর্ব

হিন্দু ও মুসলিম দাবিদারদের মধ্যে মধ্যস্থতা ব্যর্থ হয়ে যাওয়ার পর সুপ্রিম কোর্টের পাঁচ সদস্যের বেঞ্চে এ বছরের ৬ আগস্ট শুনানি শুরু হয়। ৪০ দিন ধরে টানা শুনানি চলে। শেষ হয় ১৬ অক্টোবর। ওই দিন প্রধান বিচারপতি মামলার রায় দান স্থগিত রাখেন। আশা করা হচ্ছিল, ১৭ নভেম্বর প্রধান বিচারপতির অবসরের আগেই অযোধ্যা মামলা নিয়ে রায়দান হবে।   

শুনানির শেষ দিনে মামলার তিন পক্ষকে লিখিত বক্তব্য জমা দিতে বলা হয় যাতে বিরোধ যতটা সম্ভব কমিয়ে আনা যায়। লিখিত বক্তব্য জমা দেওয়ার জন্য তিন দিন সময় দেওয়া হয়।

আরও পড়ুন: অযোধ্যা রায়ের আগে বিশেষ পদক্ষেপ প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের

মামলার অন্যতম পক্ষ নির্মোহী আখাড়া রাম মন্দির নির্মাণের জন্য নির্দেশ চেয়েছে। তারা চায়, মন্দির চত্বর পরিচালনার পূর্ণ দায়িত্ব তাদের দিতে হবে। আরেক পক্ষ রাম লাল্লা চায়, যে জমি নিয়ে বিরোধ রয়েছে সেই জমি পুরো তাদের হাতে তুলে দিতে হবে। ওই জমির কোনো অংশ নির্মোহী আখাড়া বা কোনো মুসলিম পক্ষকে দেওয়া চলবে না। এবং তৃতীয় পক্ষ সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড দাবি করেছে, ১৯৯২-এর ৬ ডিসেম্বরের আগে যেমন ছিল, বাবরি মসজিদকে সেই অবস্থায় ফিরিয়ে দিতে হবে। উল্লেখ্য, ষোড়শ শতকে তৈরি বাবরি মসজিদ ওই দিনই গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন