সিরসা: ‘শুদ্ধিকরণ’-এর লক্ষ্যে ডেরাপ্রধান গুরমিত রাম রহিমের সদর দফতরে ঢুকল পুলিশ, আধা সেনা এবং সেনাবাহিনীর বিশাল দল। এ দিকে পুলিশি অভিযানের এক দিন আগে, ডেরার ডেরায় কঙ্কাল রয়েছে বলে চাঞ্চল্যকর দাবি করলেন প্রাক্তন এক ভক্ত।

শুক্রবার সকাল থেকে রাম রহিমের সিরসার সদর দফতরে অভিযান শুরু হয়। প্রায় ৮০০ একর জুড়ে আশ্রম এলাকায় বিলাসবহুল সব অট্টালিকা রয়েছে। রয়েছে তাজ মহল, আইফেল টাওয়ার, ক্রেমলিন, ডিজনি ওয়ার্ল্ডের প্রতিকৃতিও। আন্তর্জাতিক স্কুল, স্টেডিয়াম, দোকানপাট, থিয়েটার, কী নেই সেখানে। সেই সঙ্গে রয়েছে একটি গুহা। অভিযোগ, এই গুহাতেই দুই সাধিকাকে ধর্ষণ করেছিলেন বাবা।

এর পাশাপাশি প্রাক্তন এক ভক্তের চাঞ্চল্যকর দাবির ভিত্তিতে ওই আশ্রম এলাকায় বিশাল গর্ত খোঁড়ার পরিকল্পনাও করেছে পুলিশ। ওই প্রাক্তন ভক্ত, গুরদাস সিংহ তুরের দাবি, “একটি মুচলেকায় সই করিয়ে ভক্তদের দেহ দান করার জন্য চাপ দিত ডেরা। অনেক ভক্তের মৃত্যু, আত্মহত্যা এবং নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার কোনো তদন্তই হয়নি। ভেতরে অনেক কঙ্কাল পাওয়া যেতে পারে।” এই দাবি কার্যত মেনে নিয়েছে ডেরার মুখপত্র। তবে ব্যাপারটাকে সমর্থনই করেছে তারা। ডেরার মুখপত্র ‘সচ কহুন’-তে দাবি করা হয়েছে, শুধুমাত্র পরিবেশ রক্ষার স্বার্থেই মৃত ভক্তদের দেহ মাটিতে পুঁতে দেওয়া হত।

এ দিকে ডেরার ডেরায় হানার পরিপ্রেক্ষিতে কোনোরকম অপ্রীতিকর পরিস্থিতি যাতে সৃষ্টি না হয়, সে জন্য আগেভাগেই আশ্রম সংলগ্ন এলাকায় কারফিউ জারি করে রেখেছে প্রশাসন। পুলিশ, আধাসেনা এবং সেনার পাশাপাশি সওয়াট কমান্ডো, বম্ব স্কোয়াড এবং ডগ স্কোয়াডকেও তৈরি রাখা হয়েছে।

পুরো ‘শুদ্ধিকরণ’ অভিযানের ভিডিওগ্রাফি করা হবে। প্রাক্তন বিচারক একেএস পানওয়ারের নেতৃত্বে এই ভিডিওগ্রাফি হবে। এই অভিযানের ব্যাপারে হরিয়ানার ডিজিপি বিএস সন্ধু বলেন, “আমরা সব রকম ভাবে প্রস্তুত। আশা করছি খুব ভালো ভাবে শেষ হবে এই অভিযান। ডেরার তরফ থেকেও নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।”

ডেরা সব সময় আইন মেনে চলেছে, এমনই দাবি করেছেন তাদের মুখপাত্র বিপাসনা ইনসান। পাশাপাশি শান্তি বজায় রাখার জন্য ভক্তদের প্রতি আবেদন করেছেন বিপাসনা।

ছবি: সৌজন্য এএনআই

উত্তর দিন

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন