childwelfare

বেঙ্গালুরু: রাত পোহালেই শিশুদিবসে মেতে উঠবে সারা দেশ। কিন্তু ভেবে দেখেছেন কি অভিভাবকদের মধ্যে বেড়ে চলা প্রাত্যহিক সমস্যা বাড়ন্ত শিশুদের মধ্যে কতটা খারাপ প্রভাব ফেলে। তাদের মানসিক স্থিতি ও গতি বিঘ্নিত করে। সঙ্গে মহিলাদের নানান সমস্যা আর তার সমাধানের ভার শিশুদের বিভিন্ন সমস্যাগুলিকে চাপা দিয়ে দিচ্ছে। তাই শিশুদের প্রতি উপযুক্ত নজর দিতে, দ্রুত তাদের সমস্যা সমাধান করতে শিশুকল্যাণ মন্ত্রক আলাদা করা হোক। ঠিক এমনটাই ডাক দিয়েছে একটি স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা ‘চাইল্ড রাইট ইনিশিয়েটিভ ফর শেয়ার্ড পেরেন্টিং’। তাদের দাবি মহিলা আর শিশু উন্নয়ণ মন্ত্রক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা করে দেওয়া হোক শিশুকল্যাণ মন্ত্রক।

এই সংস্থার পরিসংখ্যান থেকেই জানা গিয়েছে, বর্তমানে শিশুরা প্রচুর সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছে। পাঁচ থেকে ১২ বছরের বেশির ভাগ শিশুই বাবা-মায়ের বৈবাহিক জীবনের সমস্যার যাঁতাকলে পেষাই হচ্ছে। সেখানে তাদের ওপর কার অধিকার বাবার না মায়ের, এই নিয়ে দর কষাকষি তো আছেই। তার সঙ্গে বড়ো সমস্যা নিউক্লিয়ার বা ছোটো পরিবারের পরিকাঠামো। ঠাকুমা-ঠাকুরদাদার কাছ থেকে গল্প শুনে বেড়ে ওঠার যে মানসিক বিকাশ তা আর দেখা যায় না শিশুদের মধ্যে। সঙ্গে তো রয়েইছে যৌন হেনস্থা আর এই ব্যাপারে অজ্ঞতা।

সংস্থার ন্যাশনাল প্রেসিডেন্ট কুমার জাহগিরদার বলেন, এই ব্যাপারগুলি তুলে ধরে বেশ কিছু দাবি নিয়ে মাঠে নেমেছেন তাঁরা। দাবি আলাদা শিশুকল্যাণ মন্ত্রকেরও। সেই বিষয়ে সব ক’টি রাজনৈতিক দল ও অভিভাবকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চাইছেন তাঁরা। তাঁদের আশা সচেতন নাগরিক হিসাবে এই সব দাবি তুলে ধরা হোক আগামী নির্বাচনের আগেই। তা যদি পূরণ না হয় তা হলে নোটা ভোটকেই প্রতিবাদের ভাষা হিসাবে ব্যবহার করতে চান তাঁরা।

হেস্টিংস ঘাটে পুণ্যার্থীদের শুভেচ্ছা জানালেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

তাঁদের দাবিগুলি হল –

নারী ও শিশু উন্নয়ণমন্ত্রক থেকে সম্পূর্ণ আলাদা ভাবে শিশুকল্যাণ মন্ত্রক গড়ে তোলা হোক।

উচ্চ বিদ্যালয়গুলিতে লিঙ্গ ও যৌন সম্পর্কিত শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা হোক।

শিশুশ্রম আইন কার্যকর করা আর মালিকপক্ষের শাস্তির ব্যবস্থা করা হোক।

শিক্ষার অধিকার বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে অকার্যকর বিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।

২৪ ঘণ্টার শিশু সাহায্য কেন্দ্র খোলা উচিত এবং কী ভাবে কোন বিষয়ে শিশুরা অভিযোগ জানাবে সেই বিষয়ে শিশুদের প্রশিক্ষণ দেওয়া উচিত।

পকসো আইন অর্থাৎ প্রোটেকশন অব চিলড্রেন ফ্রম সেক্সুয়াল অফেন্স আইন কার্যকর করতে হবে। এই আইনের মাধ্যমে শিশুদের যৌন হেনস্থা সম্পর্কিত বিষয়ে ন্যায়বিচার দেওয়া হয়।

শিশু নিগ্রহ সংক্রান্ত যাবতীয় মামলার ছয় মাসের মধ্যে যাতে নিষ্পত্তি করা যায় তার জন্য রাজ্যস্তরে বিশেষ আদালত গড়ে তুলতে হবে।

পারিবারিক আদালতগুলির মাধ্যমে অভিভাবকদের শিক্ষিত করে তুলতে হবে। তাঁরা যেন শিশুদের মধ্যে পরিবারের কোনো সদস্যের ব্যাপারে ভয় বিদ্বেষ বা বিরক্তি তৈরি হতে না দেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here