amit shah, narendra modi

ওয়েবডেস্ক: বিহার এবং উত্তরপ্রদেশের উপনির্বাচনে বিজেপির ভরাডুবি থেকে তিনটে সম্ভাবনা উঠে আসছে- (১) মোদী হাওয়া শেষ হয়ে গিয়েছে, (২) ২০১৯-এর লোকসভা নির্বাচনে ১৮০-এর বেশি আসন পাচ্ছে না বিজেপি, (৩) নিজেদের আদর্শগত পার্থক্য সরিয়ে রেখে নির্বাচনের জন্য বিজেপি বিরোধী জোট ঐক্যবদ্ধ হবে।

নির্বাচনে কোন দল ক’টা আসন পাবে সেটা এক বছর আগে থেকে কোনো ভাবেই আন্দাজ করা সম্ভব নয়। কিন্তু যে ব্যাপারটা বোঝা যাচ্ছে সেটা হল, ২০১৪-এর মতো এ বার ২৮২ আসন পাচ্ছে না বিজেপি। চার বছর আগের নির্বাচনে বিজেপির পক্ষে একটা সুনামি বয়ে গিয়েছিল। দুটো কারণে এই সুনামি হয়েছিল, প্রথমত প্রবল কংগ্রেস বিরোধী হাওয়া এবং দ্বিতীয়ত ততধিক প্রবল মোদী হওয়া। এই দুটো কারণের জন্য বিহার, উত্তরপ্রদেশ, গুজরাত, রাজস্থান, দিল্লি, ছত্তীসগঢ় এবং মদ্যপ্রদেশে ঝড় বইয়ে দেয় বিজেপি।

কিন্তু আসন্ন নির্বাচনে সেটা হবে না বলেই মনে করা হচ্ছে। কারণ মধ্যপ্রদেশ, রাজস্থান, গুজরাত, হরিয়ানা, পঞ্জাব, কর্নাটক এবং কেরল থেকে উল্লেখযোগ্য সংখ্যায় বেশি আসন পাওয়ার সম্ভাবনা কংগ্রেসের। গুজরাত, রাজস্থান এবং মধ্যপ্রদেশের বিজেপি বিরোধী হাওয়া প্রকট।

কিন্তু চার বছর কাটতে না কাটতেই কী ভাবে বিজেপি পালের হাওয়া ক্রমশ কমতে শুরু করল। এর পেছনে রয়েছে সাতটা কারণ।

কী সেই সাত কারণ?

১) এনডিএ-এর শরিকদের বিছিন্ন করে দেওয়া- ২০১৪তে বিজেপি একাই জিতেছিল ২৮২ আসন। সংখ্যাগরিষ্ঠতার থেকে আরও আট বেশি। সেই কারণেই সম্ভবত শরিকদের দিকে নজর দেয়নি বিজেপি। সেই ক্ষোভ প্রকাশ করেছে শরিক টিডিপি এবং শিবসেনা। শিবসেনা এখনও এনডিএতে থাকলেও ভবিষ্যতে আর জোটে যাবে না বলে ঘোষণা করেছে। অন্যদিকে এনডিএ থেকে বেরিয়ে এসে সরকারের বিরুদ্ধে অনাস্থা এনেছে টিডিপি। খুশি নয় অকালি দল, লোক জনশক্তি পার্টির মতো বাকি শরিকরাও।

২) মন্ত্রিত্ব ভাগ বাটোয়ারায় গণ্ডগোল- সুষমা স্বরাজের থেকে অনেক দক্ষ বিদেশমন্ত্রী হতে পারতেন অরুণ জেটলি, অন্যদিকে অনেক ভালো স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী হতে পারতেন সুষমা। মহেশ শর্মা, হর্ষ বর্ধন, রাধা মোহন শর্মা এবং উমা ভারতীর দায়িত্বে থাকা মন্ত্রকের মধ্যে বিশেষ পার্থক্য নেই।

৩) গোরক্ষকদের তাণ্ডব, নিজের দলের নেতাদের উস্কানিমূলক মন্তব্য এবং গৌরি লঙ্কেশের খুনের মতো ঘটনাতেও প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর চুপ থাকা।

৪) সংবাদমাধ্যমে কোনো ব্রিফিং দিচ্ছে না প্রধানমন্ত্রীর অফিস (পিএমও) এবং বিদেশমন্ত্রক (এমইএ)। সঈদ আকবরুদ্দিন যখন বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র ছিলেন তখন নিয়মিত ব্রিফিং হত।

৫) বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিয়ে  প্রধানমন্ত্রীর নিয়মিত সাংবাদিক সম্মেলন না করা।

৬) ইউপিএ জমানায় ঘটা দুর্নীতি মামলার ক্ষেত্রে তদন্তে বিশেষ অগ্রগতি না দেখানো।

৭) পাকিস্তান নিয়ে সামঞ্জস্যহীন নীতি- কখনও লাহৌরে নাওয়াজ শরিফের সঙ্গে সৌহার্দ্য বিনিময় করে আসা, তো কখনও সীমান্তে চরম উত্তেজনা।

এ ছাড়াও আর কিছু ভুল মোদী সরকারের রয়েছে, যা তাদের এই সাড়ে তিন বছরে নেওয়া কিছু সফল পদক্ষেপকে আড়াল করে দিতে পারে।

তবে বিজেপিকে একার হাতে ঠেকানো যে কংগ্রেসের পক্ষে সম্ভব নয় সেটা ভালো করেই যানে কংগ্রেস নেতৃত্ব, তাই তারা বারবার বিরোধী জোটের ডাক দিচ্ছে। সেই জোট তৈরি করেও বিরোধীদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাওয়া কার্যত অসম্ভব। সব মিলিয়ে সামনের নির্বাচন খুব জমাটি হতে চলেছে। এখন দেখার আসন্ন নির্বাচনে ক’টা আসনে শেষ করে বিজেপি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here