kashmir

ওয়েবডেস্ক: ১৫ আগস্ট ব্রিটিশদের হাত থেকে স্বাধীনতা পেয়েছিল ভারত। কিন্তু কাশ্মীর তখন ভারতের অংশ ছিল না। ১৯৪৭ সালের ২৭ অক্টোবর ভারতে অন্তর্ভুক্ত হয় কাশ্মীরের। অর্থাৎ শুক্রবার ভারতভুক্তির সত্তর বছর পালন করছে কাশ্মীর।

এই দিনটাকে কালো দিবস হিসেবে পালন করার ডাক দিয়েছেন সঈদ আলি শাহ গিলানি, মিরওয়েজ উমার ফারুখ, ইয়াসিন মালিক-সহ রাজ্যের বিচ্ছিন্নতাবাদী নেতারা। সত্তর বছর আগে আজকের দিনের প্রথম বার কাশ্মীরে পা রেখেছিল ভারতীয় সেনা। এর নেপথ্যকাহিনিতে একটু চোখ বোলানো যাক।

১৫ আগস্ট ভারত স্বাধীনতা লাভ করার সময়ে ভারতের অংশ ছিল না কাশ্মীর। ভারতে যাবেন না কি পাকিস্তানে, সে ব্যাপারে তখনও সিদ্ধান্ত নিতে পারেননি কাশ্মীরের শাসকরা। বিবিসিতে প্রকাশিত একটি প্রবন্ধে ‘কাশ্মীর ইন কনফ্লিক্ট’-এর লেখিকা ভিক্টোরিয়া স্কোফিল্ড বলেন, কাশ্মীরের শাসক মহারাজা হরি সিংহ কিছুতেই সিদ্ধান্ত নিতে পারছিলেন না কোন দেশের অংশ হবে কাশ্মীর। তাঁর কথায়, “হরি সিংহ ছিলেন হিন্দু। তাঁর রাষ্ট্রের মানুষজন প্রধানত মুসলিম সম্প্রদায়ের। তাই তিনি কিছুই করেননি।”

স্ট্যান্ডফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে প্রকাশিত একটি রিপোর্টে বলা হয়, “১৯৪৭ সালের ২২ অক্টোবর কাশ্মীর আক্রমণ করে পাকিস্তান সেনা। পাকিস্তান সেনাকে মদত দেয় স্থানীয় আদিবাসী মানুষও। অত্যন্ত আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ছিল পাকিস্তান সেনার। অন্য দিকে কাশ্মীরের হাতে তখন কোনো সেনাই নেই। পাকিস্তানের উদ্দেশ্য ছিল কাশ্মীরিদের ভয় পাইয়ে দেওয়া যাতে তারা তাড়াতাড়ি পাকিস্তানের কাছে আত্মসমর্পণ করে ফেলে।”

পাকিস্তান সেনার এই আক্রমণে চিন্তিত হয়ে ভারতের থেকে সহায়তা চান হরি সিংহ। স্কোফিল্ড লেখেন, “তৎকালীন গভর্নর জেনারেল লর্ড মাউন্টব্যাটেনের মতে কাশ্মীর যদি ভারতভুক্ত হয় তা হলে তার পরিস্থিতি বেশি উত্তপ্ত হবে না।”

ভারতভুক্তির প্রেক্ষাপট তৈরি করতে হরি সিংহ তাঁর প্রতিনিধি হিসেবে শেখ আবদুল্লাহকে দিল্লি পাঠান। তার পর জম্মুতে হরি সিংহের সঙ্গে ভারতভুক্তির চুক্তি ‘ইন্সট্রুমেন্ট অফ অ্যাকসেশন অফ জম্মু অ্যান্ড কাশ্মীর স্টেট’ স্বাক্ষর করে দিল্লি। চুক্তি অনুযায়ী কাশ্মীরে ভারত রাষ্ট্রের আওতায় চলে আসে। এই চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরেই ভারতীয় সেনাকে তড়িঘড়ি শ্রীনগর পাঠানো হয়, এবং কাশ্মীরিদের সঙ্গে নিয়ে পাকিস্তানের সেনাকে হঠানো শুরু হয়।

এই চুক্তির পরেই শেখ আবদুল্লাহকে স্বশাসিত কাশ্মীরের প্রধানমন্ত্রীর পদ দেয় দিল্লি। নেহরুর অত্যন্ত পছন্দের ব্যক্তি ছিলেন আবদুল্লাহ।

যদিও বিবিসির রিপোর্ট অনুযায়ী চুক্তি কবে হয় সে ব্যাপারে কিছুটা বিভ্রান্তি রয়েছে। “সরকারি তথ্য বলছে ২৬ অক্টোবর সকালে শ্রীনগর থেকে জম্মুর উদ্দেশে রওনা দেন হরি সিংহ। ওই দিন বিকেলে নেহরুর প্রতিনিধি ভিপি মেননের সঙ্গে দেখা করে ভারতভুক্তির চুক্তি সই করেন হরি সিংহ। কিন্তু বিভিন্ন মহল থেকে গবেষণায় জানা গিয়েছে আবহাওয়া খারাপ থাকায় ২৭ অক্টোবরের সকালের আগে জম্মু পৌঁছোতে পারেননি হরি সিংহ,” এমনই বলছে বিবিসি।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here