দিল্লি হাইকোর্ট। সংগৃহীত ছবি

নয়াদিল্লি: পেশা নির্বিশেষে প্রতিটি নাগরিকের মৌলিক অধিকারের নিশ্চয়তা রয়েছে। যৌনকর্মীরাও এর ব্যতিক্রম নন। তবে আইন লঙ্ঘনের জন্য বিশেষ সুযোগের দাবি করতে পারেন না তাঁরা। সম্প্রতি একটি মামলায় এমনটাই পর্যবেক্ষণ দিল্লি হাইকোর্টের।

১৩ জন নাবালিকাকে পাচারের অভিযোগে এক মামলার শুনানিতে এমনই মন্তব্য করেন দিল্লি হাইকোর্টের বিচারপতি আশা মেনন। ওই নাবালিকাদের পতিতালয় থেকে উদ্ধার করা হয়। পুরো ঘটনায় অভিযুক্ত এক যৌনকর্মীর অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দিতে অস্বীকার করার সময় এই পর্যবেক্ষণ করেন বিচারপতি।

কী বলছে আদালতের পর্যবেক্ষণ

এই মামলায় অভিযুক্ত যৌনকর্মী নিজের মায়ের চিকিৎসা সংক্রান্ত বিষয়কে সামনে রেখে জামিনের আবেদন জানিয়েছিলেন। আবেদনে তিনি বলেন, তাঁর মায়ের দু’টি হাঁটুতেই অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। মাকে সাহায্য করার জন্য তিনি আদালতের কাছে অন্তর্বর্তীকালীন জামিন চেয়ে আবেদন জানান।

বার এবং বেঞ্চে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিচারপতি মেনন পর্যবেক্ষণে বলেন, “একজন যৌনকর্মী একজন নাগরিকের মতোই সমস্ত অধিকারের অধিকারী, সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। কিন্তু একই সঙ্গে, যদি তিনি আইন লঙ্ঘন করেন, তা হলে তাঁর ক্ষেত্রেও একই ভাবে আইন প্রয়োগ হবে। আইনের অধীনে বিশেষ কোনো সুবিধা তিনি দাবি করতে পারেন না। আবেদনকারীকে শুধুমাত্র অনৈতিক ট্রাফিক (প্রতিরোধ) আইন, ১৯৫৬-র অধীনে নয়, বরং ৩৭০ আইপিসি (মানব পাচার) এবং ৩৭২ আইপিসি (পতিতাবৃত্তির উদ্দেশ্যে নাবালিকা বিক্রি করা ইত্যাদি) ধারার অধীনেও অপরাধের জন্য অভিযুক্ত করা হয়েছে, যা অত্যন্ত গুরুতর অপরাধ”।

অভিযুক্তের আইনজীবীর দাবি

আবেদনকারীর পক্ষে উপস্থিত হয়ে আইনজীবী রজত কাত্যাল বলেন, অভিযুক্তকে অন্তত পক্ষে এক সপ্তাহের জামিন দেওয়া হোক। অভিযুক্ত সত্যিই মায়ের হাঁটুর অস্ত্রোপচার করান কি না, সেটা দেখা হোক। যদি তিনি তা না করান, তা হলে আদালতে আত্মসমর্পণ করবেন।

একই সঙ্গে আইনজীবী দাবি করেন, উদ্ধার হওয়া নাবালিকাদের মধ্যে একই জনই জানিয়েছে, তাকে পাচার করা হয়েছিল। বাকিরা জানিয়েছে তারা স্বেচ্ছায় পতিতালয়ে ছিল।

জামিন আবেদনের বিরোধিতা

অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর রীতেশকুমার বাহরি জামিন মঞ্জুর করার বিরোধিতা করেন। তিনি বলেন, পাচার হওয়া নাবালিকাদের প্রভাবিত করার যথেষ্ট সুযোগ পেয়ে যেতে পারে অভিযুক্ত। ফলে জামিন মঞ্জুর করা হলে বিচার প্রক্রিয়া ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

অন্যদিকে, অভিযোগকারীর পক্ষে উপস্থিত আইনজীবী লি মারলি নশিও জামিনের বিরোধিতা করেন। তিনি দাবি করেন, অভিযুক্তের জামিন মঞ্জুর করা হলে পাচার হওয়া নাবালিকাদের প্রভাবিত করার প্রবল সম্ভাবনা রয়েছে। কারণ, ১৩ জনের মধ্যে শুধুমাত্র একজনই প্রকাশ্যে আসার সাহস দেখিয়েছে।

মেডিক্যাল রিপোর্টের বিকৃতি

হাইকোর্টের বেঞ্চ পর্যবেক্ষণে উল্লেখ করেছে, আবেদনকারীর আচরণ আদালতের আস্থা জাগায় না। বিশেষ করে যেহেতু কিছু মেডিক্যাল রেকর্ড বিকৃত করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে। যখন তিনি প্রথম বার জামিনের জন্য ট্রায়াল কোর্টে যান, সে সময়ই ওই রিপোর্ট বিকৃত করা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়। যে কারণে ট্রায়াল কোর্ট তাঁর জামিন মঞ্জুর করতে অস্বীকার করে।

এ ছাড়াও রাজ্যের দায়ের করা স্ট্যাটাস রিপোর্টে উল্লেখ করা হয়েছে, নাবালিকাদের পতিতাবৃত্তিকে বাধ্য করেছিলেন অভিযুক্ত। এমনকী তাঁকে কোনো রকম ভাবে ছেড়ে দেওয়ার কথাও কোথায় বলা হয়নি। তবে অভিযুক্ত অবশ্যই আদালতের সামনে নিজেকে নির্দোষ প্রমাণের সমস্ত সুযোগ পাবে। তাই বলে তাঁর জামিন মঞ্জুর করা সম্ভব নয় বলে জানিয়ে দেয় বেঞ্চ।

আরও পড়তে পারেন:

যৌনকর্মীদের রেশন, ভোটার আইডি, আধার দেওয়ার নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

মোদী জমানায় টানা সাত বার, নির্ধারিত সময়ের আগেই শেষ হয়ে গেল সংসদের অধিবেশন

জিতলে হিমাচলে ‘লক্ষ্মীর ভান্ডার’, ঘোষণা করল কংগ্রেস

বিধায়কদের বৈঠক ডাকলেন নীতীশ, আজই কি বিজপির সঙ্গত্যাগ করার সরকারি ঘোষণা?

গভীর নিম্নচাপ বঙ্গোপসাগরে, আশায় বুক বাঁধছে দক্ষিণবঙ্গের কৃষককুল

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন