মুম্বই: সদ্য স্বাধীন হয়েছে দেশ। ১৯৫১ সাল। ভারতীয় রেলের রাষ্ট্রায়ত্তকরণ হল। শুধু বাকি থেকে গেল একটাই রেলপথ,- শকুন্তলা রেলওয়ে। ২০১৭- দাঁড়িয়ে ৪৭-এর স্বাধীনতা এখন সত্তর ছুঁই ছুঁই এক বৃদ্ধ। পালটে গেল কতো কিছু। শুধু পালটালো না শকুন্তলা রেলপথ। আজও রয়ে গেছে ভারতীয় রেলের বাইরেই।

আরও একটু পেছনে ফেরা যাক। ১৯০৩ সালে ‘কিলিক অ্যান্ড নিক্সন’ নামের এক ব্রিটিশ সংস্থা তৈরি করে শকুন্তলা রেলপথ।  ৭৬২ মিলিমিটার চওড়া ন্যারো গেজ লাইন। মহারাষ্ট্রের বিদর্ভ থেকে মুর্তিজাপুর পর্যন্ত নিয়মিত চলাচল করত ট্রেন। বর্তমানে এটাই ভারতের একমাত্র বেসরকারি রেলপথ।

হঠাৎ এই অঞ্চলকেই বেছে নেওয়ার কারণ? আসলে পশ্চিম ভারতের উন্নত কার্পাস বা তুলো এই পথে পৌঁছে যেত বম্বে। আর সেখান থেকে পাড়ি দিত ম্যাঞ্চেস্টার। ভারতীয় তুলো ইংল্যান্ডে রফতানির জন্যই মূলত তৈরি হয়েছিল শকুন্তলা রেলওয়ে। তবে ১৯৫১-র রেলের রাষ্ট্রায়ত্তকরণের সময় কেন বাদ থেকে গেল এই রেলপথ, তা আজও রহস্য।

মজার ব্যাপার হল, এই পথে এখন মাত্র একটাই ট্রেন চলে। শকুন্তলা এক্সপ্রেস। আর ‘কিলিক অ্যান্ড নিক্সন’দের রেলপথে এক্সপ্রেস ছোটানোর জন্য ভারত সরকারকে বছরে প্রায় ১ কোটি টাকা দিতে হয় ওই বিলিতি সংস্থাকে। এখনও ন্যারো গেজ লাইনেই চলে ট্রেন। সম্প্রতি একে ব্রড গেজ করার জন্য ১৫০০ কোটি টাকা ধার্য করেছে কেন্দ্র। তাই খুব শিগগির হয়তো নতুন চেহারায় সাজবে শকুন্তলা রেলওয়ে।

মহারাষ্ট্রের ইয়াবতমল থেকে মুর্তিজাপুর জংশন পর্যন্ত এখন নিয়মিত যাতায়াত করে শকুন্তলা এক্সপ্রেস। ১৯০ কিলোমিটার পথ যেতে সময় নেয় ঘণ্টা চারেক। ওই অঞ্চলের কয়েকশো মানুষের দৈনিক যাতায়াতের একটাই উপায়- শকুন্তলা এক্সপ্রেস। সড়ক পথের খরচ বইতে না পারা মানুষগুলোর জীবনের সাথে জড়িয়ে গিয়েছে নামটা।

মহারাষ্ট্রের আচলপুরের নিসর্গকে দুদিকে রেখে এখনও রোজ ছুটে চলেছে শকুন্তলা। সত্তর বছর স্টিম ইঞ্জিনে চলার পর ১৯৯৪ থেকে এসেছে ডিজেল ইঞ্জিন। তবু শকুন্তলা এক্সপ্রেসের চারপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়ে গিয়েছে ইংরেজ শাসনের টুকরো কিছু স্মৃতি। সেই সময়ের স্মৃতি, যখন নাকি ব্রিটিশ সাম্রাজ্যে সূর্য অস্ত যেত না। প্রতিটা রেল সিগন্যালের গায়ের লেখাগুলোয় আজও জ্বলজ্বল করছে কয়েকটা শব্দ – ‘মেড ইন লিভারপুল’।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here