নয়াদিল্লি: পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার কাছে কৃষক জমায়েতে অংশ নিলেন শরদ যাদব, সীতারাম ইয়েচুরি, শরদ যাদব, অরবিন্দ কেজরিওয়াল, রাহুল গান্ধী-সহ কেন্দ্রের বিজেপি-বিরোধী ১৯টি রাজনৈতিক দলের শীর্ষ নেতৃত্ব। এ দিন নিজের বক্তব্য সিপিএম সম্পাদক সীতারাম ইয়েচুরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী এবং বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ জুটিকে ‘কৌরব’দের সঙ্গে তুলনা করেন।

তিনি বলেন, মোদী সরকারের আমলে কৃষিক্ষেত্রে বৃদ্ধির হার সংকটের মুখে পড়েছে। তিনি প্রধানমন্ত্রীর নাম নিয়ে বলেন, “এঁরা সেই ‘পকেট মার’ যাঁরা সমস্ত অর্থ কেড়ে নিয়ে সামান্য মাত্র ফিরিয়ে দেন। কৌরবদের মতোই অহঙ্কারী বিজেপির দু’টি পরিচিত নাম নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহ”। একই সঙ্গে তিনি ভোটের মুখে রামমন্দিরকে ইস্যু করে তোলার বিরুদ্ধে বিজেপিকে এক হাত নেন

কৃষিঋণ মকুব এবং ফসলের ন্যায্য দামের দাবিতে দিল্লির রামলীলা ময়দানে জমায়েত হওয়া কৃষকরা সংসদ ভবনের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেছিলেন শুক্রবার সকালে। কৃষকদের এই পদযাত্রার পরিপ্রেক্ষিতে দিল্লি জুড়ে মোতায়েন হয়েছিল সাড়ে তিন হাজার পুলিশ।

এ দিন দুপুরে রাজধানীর বিক্ষোভ-অবস্থান প্রদর্শনের স্থান হিসাবে পরিচিত যন্তরমন্তরে আটকে দেওয়া হয় মিছিল। বাধ্য হয়ে তাঁরা পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানার কাছেই প্রতিবাদ সভার আয়োজন করেন। সেখানে বক্তব্য রাখেন সংগঠনের নেতৃত্ব।

সারা ভারত কৃষক সংঘর্ষ সমন্বয় কমিটি, যাদের ছাতার তলায় ২০৭টি কৃষক সংগঠন একযোগে এই আন্দোলন করছে, তাদের দাবি, অন্তত এক লক্ষ কৃষক সংসদ ভবনে পৌঁছোবেন। ট্রেন এবং বাস ভর্তি করে কৃষক এখনও রাজধানীতে পৌঁছোচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার সকালে হেঁটে প্রথমে আনন্দ বিহার রেল স্টেশনে পৌঁছোন আন্দোলনকারীরা। সেখানে তাঁদের স্বাগত জানান বাম সমর্থিত ছাত্র সংগঠন আইসা। তার পর সেখান থেকে দক্ষিণ-পূর্ব দিল্লি হয়ে রামলীলা ময়দানের উদ্দেশে রওনা দেন তাঁরা।

আরও পড়ুন বেতনবৃদ্ধির দাবিতে বিক্ষোভ নবান্নে, গ্রেফতার ২০

বিভিন্ন বামপন্থী কৃষক সংগঠনকে নিয়ে ২০১৭ সালের জুন মাসে ‘অল ইন্ডিয়া কিষাণ সঙ্ঘর্ষ কোঅর্ডিনেশন কমিটি’ গড়ে ওঠে। ঋণ মকুব এবং ফসলের ন্যায্য দাম-সহ বিভিন্ন রাজ্যের কৃষকদের সমস্যাগুলি তুলে ধরাই তাদের মূল লক্ষ্য। এ বারে তাঁদের দাবি, কৃষকদের ঋণমকুব এবং ফসলের ন্যায্য দাম নিয়ে সংসদে তিন সপ্তাহের বিশেষ অধিবেশন বসুক। গড়ে তোলা হোক জাতীয় কৃষি ঋণমকুব কমিশন। এ ব্যাপারে উদ্যোগী হোন রাষ্ট্রপতি রামনাথ কোবিন্দ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব সংসদে বিল পাস করানো হোক।

 ভারতে সবুজ বিপ্লবের জনক এম এস স্বামীনাথনের নেতৃত্বে ২০০৪ সালের ১৮ নভেম্বর ‘ন্যাশনাল কমিশন অন ফার্মার্স’ (এনসিএফ) গড়ে তোলে তৎকালীন ইউপিএ সরকার। স্বামীনাথন কমিশন যে সুপারিশগুলি করেছিল, সেগুলি এখনও কার্যকর হয়নি। সেই কারণেই এ বার পথে নামতে বাধ্য হয়েছে কৃষক সংগঠনগুলি। এমনই দাবি তাদের।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here