ওয়েবডেস্ক: ভারতে নতুন ছ’টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র বানাবে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র। এ ব্যাপারে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে দুই দেশ। টানা দু’দিন বৈঠকের পর বুধবার ওয়াশিংটনে বিষয়টি নিয়ে একমত হয় দু’পক্ষই। তার পরেই এই বিষয়ে যৌথ বিবৃতি দেয় দুই দেশ।

ওয়াশিংটনে দুই দেশের মধ্যে এই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিদেশ সচিব বিজয় গোখেল এবং মার্কিন বিদেশ মন্ত্রকের আধিকারিক আন্দ্রিয়া থম্পসন। যৌথ বিবৃতিতে ছ’টি পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরি করার কথা ছাড়া অন্য কিছু বলা হয়নি।

২০০৮ সালে ভারত-মার্কিন অসামরিক পরমাণু চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকেই ভারতের পরমাণু শক্তি ক্ষেত্রে ঢুকতে চাইছিল আমেরিকা। ২০১৬ সালে পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্র তৈরির কথা প্রথম জানানো হলেও তা আটকে ছিল আইনি জটিলতায়। যদিও এই জটিলতার কী রফাসূত্র বেরিয়েছে, তা পরিষ্কার করে জানানো হয়নি এই যৌথ বিবৃতিতে।

২০২৪ সালের মধ্যে পরমাণু বিদ্যুৎ উৎপাদন তিন গুণ করার পরিকল্পনা রয়েছে ভারতের। আমেরিকা ছাড়া ভারতে পরমাণু চুল্লি বানাতে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে রাশিয়াও। গত অক্টোবরেই ভারতে আরও ছ’টি পরমাণু চুল্লি বানানোর কথা জানিয়েছিল নয়াদিল্লি এবং মস্কো। তবে ভারত পরমাণু বিদ্যুতের পথে হাঁটলেও অধিকাংশ উন্নত দেশগুলি পরমাণু বিদ্যুতের পরিমাণ কমানোর পথে হাঁটছে।

পরিবেশবিদদের দাবি, পরমাণু বিদ্যুতের বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সভ্যতার জন্য ক্ষতিকারক। পাশাপাশি, পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে যে কোনো দুর্ঘটনা হলে যে ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি হয়, তা সামলানোর পরিকাঠামো বা প্রযুক্তি মানুষের হাতে নেই বলেও দাবি বিজ্ঞানীদের একাংশের।

সুতরাং যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হলও এই পরমাণু কেন্দ্র তৈরির ব্যাপারে পরিবেশের দিক দিয়ে কোনো বাধা আসবে কি না, সে প্রশ্ন থেকেই যায়।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here