বেঙ্গালুরু: গল্পটা পুরোনো কিন্তু নতুন নতুন মোড়কে ফিরে আসে ভারতের নানা প্রান্তে। মানুষের (অন্ধ)বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে জ্যোতিষীদের কুকীর্তির তালিকায় যুক্ত হল বেঙ্গালুরুর রামকৃষ্ণ শর্মার নাম। গ্রেফতার হয়েছেন ওই জ্যোতিষী।

নিজের বেশকিছু সমস্যার সমাধানের খোঁজে ওই জ্যোতিষীর কাছে গিয়েছিলেন এক মহিলা। মহিলার কথায়, “আমি বুঝতে কারও কোনো সমস্যার সমাধান ওই লোকটার কাছে নেই। ও শুধু মানুষকে বোকা বানাচ্ছে। ও আমায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করিয়ে রাখে। তারপর বলে, কোনো একজন ব্রাহ্মণের সঙ্গে শুলেই আমার দশা কাটবে। ও খুব ঠান্ডা মাথাতেই আমায় সমাধানটা বাতলায় কিন্তু আমি প্রচণ্ড ধাক্কা খাই। বলি, এমন কিছুতে আমার কোনো আগ্রহ নেই। আমার টাকা ফেরৎ চাই”। 

ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান র‍্যাশনালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনস ওই জ্যোতিষীর উপর গোপন ক্যামেরায় অপারেশন চালানোর পরই এই ঘটনা সামনে আসে। জ্যোতিষীর কাজকর্ম নিয়ে সন্দেহ হওয়ার পর থেকেই রামকৃষ্ণর দফতরের আশেপাশে জাল ছড়িয়েছিল ওই সংগঠন। প্রতিবেশীদের বলে রেখেছিল, ওই জ্যোতিষীর দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন, এমন কারও খোঁজ পেলেই যেন তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করিয়ে দেন তারা। রামকৃষ্ণর বেশিরভাগ মক্কেলই মহিলা। 

জ্যোতিষী গ্রেফতার হওয়ার পরই, পুলিশের কাছে অভিযোগ জানিয়েছেন কেরলের এক মহিলাও। নিজের সমস্যা নিয়ে ওই ব্যাক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করায়, তাঁকে নিজের দফতরে আসতে বলে রামকৃষ্ণ। মহিলার কথায়, ” আমি তাকে আার সমস্যার কথা বলতেই তিনি কাঁদতে থাকেন, বলেন আমি তার মেয়ের মতো। ‘জাদু’ দেখানোর নাম করে একটা মাটির পাত্র ও কয়েকটি ধূপকাঠি হাতে নেন তিনি। তারপর আমায় বলেন জামাকাপড় খুলে ফেলতে। কারণ, তিনি আমার নাভিতে ছাই ছড়াতে চান। আমি রাজি না হওয়ায় তিনি আমায় জড়িয়ে ধরে স্কার্ট তুলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। আমি কোনোমতে নিজেকে ছাড়িয়ে সেখান থেকে পালিয়ে আসি”।

ওই সংগঠন এবং পুলিশ এখন আশা করছে, আরও কেউ কেউ এগিয়ে এসে ওই জ্যোতিষীর বিরুদ্ধে অভিযোগ জানাবেন।

 

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here