আপাতত কংগ্রেসের নেতৃত্ব থাকল গান্ধী পরিবারের হাতেই

দু’ বছর পর সনিয়া গান্ধীর কাঁধেই ফিরে এল দল চালানোর দায়িত্ব।

0
sonia rahul priyanka
ছবি সৌজন্যে দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

ওয়েবডেস্ক: সেই গান্ধী পরিবারের হাতেই উঠে এল ব্যাটন। জাতীয় কংগ্রেস চালানোর দায়িত্ব। দু’ বছর আগে পুত্র রাহুল গান্ধীর হাতে দলের নেতৃত্বভার অর্পণ করেছিলেন সনিয়া গান্ধী। আবার দু’ বছর পর তাঁর কাঁধেই ফিরে এল দল চালানোর দায়িত্ব। তবে এ বার সনিয়া হলেন অন্তর্বর্তী সভাপতি।  

দলের সভাপতি নির্বাচন করতে শনিবার বসেছিল কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক। বৈঠক চলে ১২ ঘণ্টা ধরে। ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের শেষে রাত্রি ১১টায় দলের অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসাবে সনিয়া গান্ধীর নাম ঘোষণা করা হয়। এ বছরের শেষে দলের প্রকাশ্য অধিবেশনে নতুন সভাপতি নির্বাচন করা হবে বলে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।

আরও পড়ুন কে আপনাকে বলেছে, বলিউড ইন্ডাস্ট্রি ধর্মনিরপেক্ষ? বিস্ফোরক মন্তব্য জন আব্রাহামের

ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে দলের রাজ্য সভাপতি, এমপি-সহ বহু নেতা রাহুল গান্ধীকে তাঁর পদত্যাগের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করার অনুরোধ করেন। কিন্তু তিনি তাঁর সিদ্ধান্তে অটল থাকেন।

সকালে কংগ্রেসের সদর দফতরে বৈঠকে বসেন দলের শীর্ষ নেতারা। এঁদের মধ্যে ছিলেন মনমোহন সিং, প্রিয়ঙ্কা গান্ধী বডরা, আহমেদ পটেল, এ কে অ্যান্টনি, গুলাম নবি আজাদ এবং পি চিদম্বরম। প্রাথমিক আলোচনার পর রাহুল গান্ধী আরও বিস্তারিত আলোচনার কথা বলেন। দেশের বিভিন্ন প্রান্তে দলের যে সব নেতা আছেন তাঁদের সকলের মতামত নেওয়ার জন্য পাঁচটি আঞ্চলিক গোষ্ঠী তৈরি করা হয় – উত্তরপূর্ব, পূর্ব, উত্তর, পশ্চিম, দক্ষিণ। কারা কারা রাহুলের সম্ভাব্য উত্তরসূরি হতে পারেন সেই নামগুলি নিয়ে ওই পাঁচ গোষ্ঠী সারা দেশের কংগ্রেস নেতাদের সঙ্গে আলোচনা করে। এই আলোচনা থেকে অবশ্য সনিয়া গান্ধী এবং রাহুল গান্ধী নিজেদের সরিয়ে রাখেন।

সারা দিন ধরে এই আলোচনা চলার পর আপাতত সনিয়া গান্ধীর হাতেই দলের নেতৃত্বভার তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকের পর দলের মুখপাত্র রণদীপ সিং সুরজেওয়ালা সাংবাদিক সম্মেলনে বলেন, “সনিয়া গান্ধীর অভিজ্ঞতা রয়েছে। তাঁর পরামর্শের জন্য আমরা প্রায়ই তাঁর শরণাপন্ন হই। সুতরাং তিনি দায়িত্ব নিলেই সব চেয়ে ভালো হয়।”

প্রবীণ নেতা পি এল পুনিয়া জানান, দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের পর নতুন সভাপতি সম্পর্কে পার্টি সিদ্ধান্ত নেবে। তিনি বলেন, “আমরা সনিয়া গান্ধীকে অন্তর্বর্তী সভাপতি করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। পূর্ণ সময়ের সভাপতি কে হবেন তা দলের অভ্যন্তরীণ নির্বাচনের পর ঠিক হবে।”

পরে এক বিবৃতিতে দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়, “দলের ওয়ার্কিং কমিটি বিভিন্ন রাজ্যের প্রদেশ কংগ্রেস সভাপতি, বিভিন্ন রাজ্যের পরিষদীয় দলের নেতা, এআইসিসি-র সাধারণ সম্পাদক ও সাংসদদের মতামত বিবেচনা করে। আজ দলের যত জন নেতার সঙ্গে কথা হয়েছে তাঁদের সকলের মত অনুযায়ী রাহুল গান্ধীরই দলের সভাপতি হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়া উচিত বলে ওয়ার্কিং কমিটি সর্বসম্মত ভাবে প্রস্তাব নেয়। কিন্তু রাহুল গান্ধী তাঁর পদত্যাগপত্র প্রত্যাহার করতে অস্বীকার করেন। ফলত, যত দিন না এআইসিসি দলের নিয়মিত সভাপতি নির্বাচন করছে, তত দিন অন্তর্বর্তী সভাপতি হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য সনিয়া গান্ধীকে অনুরোধ করার ব্যাপারে সর্বসম্মত ভাবে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটি।”

তিনটি প্রস্তাব

সাংবাদিক সম্মেলনে কংগ্রেস নেতা কেসি বেণুগোপাল জানান, ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তিনটি প্রস্তাব গৃহীত হয়। প্রথম প্রস্তাবে তাঁর যোগ্য নেতৃত্বের জন্য রাহুল গান্ধীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

দ্বিতীয় প্রস্তাবে রাহুল গান্ধীকে সভাপতি হিসাবে কাজ চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাঁর পদত্যাগ প্রত্যাহারের অনুরোধ করা হয়। যদিও তা করতে রাহুল অস্বীকার করেন।

তৃতীয় প্রস্তাবটি জম্মু-কাশ্মীরের বর্তমান পরিস্থিতি সংক্রান্ত। এ ব্যাপারে সরকার যাতে স্বচ্ছ হয়, সে কথাই প্রস্তাবে বলা হয়েছে বলে বেণুগোপাল জানান।

------------------------------------------------
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।
সুস্থ, নিরপেক্ষ সাংবাদিকতার স্বার্থে খবর অনলাইনের পাশে থাকুন।সাবস্ক্রাইব করুন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.