মুম্বই: তাঁর বিরুদ্ধে ফতোয়া জারি করে এক ইমাম বলেছিলেন, সনু নিগমের মাথা যে কামিয়ে দেবে, তাঁকে তিনি দশ লক্ষ টাকা দেবেন। এর প্রত্যুত্তরে নিজেই নিজের মাথা কামিয়ে নিলেন সনু।

আজান নিয়ে সোমবার একটি বিতর্কিত টুইট করেন সনু। সেখানে তিনি লেখেন, “ঈশ্বর সবার মঙ্গল করুক। আমি তো মুসলিম নই, তাহলে কেন রোজ সকালে আজানের জন্য আমার ঘুম ভাঙবে। এই ব্যাপারগুলো কবে থামবে?” এরপর একদিকে সমর্থনও যেমন পান, তেমনই সমালোচনাও করা হয় তাঁকে। সেই টুইটের পেছনে আদৌ কোনো ধর্মীয় কারণ নেই, শুধুমাত্র সামাজিক কারণ, সেটাও বুঝিয়েছিলেন তিনি। আজান নিয়ে করা টুইটের পরেই আরও একটি টুইটে তিনি বলেছিলেন মসজিদের পাশাপাশি, মন্দির এবং গুরুদ্বারও যদি লাউড স্পিকার ব্যবহার করে অন্য ধর্মাবলম্বী মানুষের ঘুম ভাঙায় তাতেও তার সমর্থন নেই। মঙ্গলবার আরও একটি টুইটে সনু জানিয়েছিলেন, মন্দির বা মসজিদে লাউড স্পিকার থাকা নিষ্প্রয়োজন।

কিন্তু সনু নিগমের মন্তব্যের জন্য তাঁকে দেশদ্রোহী আখ্যা দিয়ে একজন ইমাম এ দিন ফতোয়া দিয়ে জানান, যে সনুর মাথা যে কামাবে তাঁকে তিনি দশ লক্ষ টাকা দেবেন। এই ফতোয়া দেওয়ার পাশাপাশি তিনি আরও জানান যে, “মন্দিরে ঘণ্টার ব্যাপারে যদি কেউ খারাপ কথা বলে, তাহলেও তাঁর প্রত্যুতর এরকমই হতো।” এই ফতোয়ার পরেই নিজের মাথা কামানোর সিদ্ধান্ত নেন তিনি। এদিন সকালে সনু টুইট করেন যে, বলিউডের বিখ্যাত কেশশিল্পী আলিম হাকিম তাঁর মাথা কামিয়ে দেবে।

আরও পড়ুন: মন্দির-মসজিদে লাউডস্পিকার থাকা উচিত নয়, ফের টুইট সনু নিগমের

মাথা কামানোর আগে একটি সাংবাদিক সম্মেলনে সনু বলেন, তাঁর কথায় কেউ যদি কোনো আঘাত পেয়ে থাকেন তাহলে তিনি ক্ষমাপ্রার্থী। পাশাপাশি তিনি জানান, “আমি কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে কিছু বলিনি, আমি আজানের বিরুদ্ধেও নই, আমি শুধু লাউড স্পিকারের বিরুদ্ধে।” তিনি সব ধর্মেই বিশ্বাস করেন এই কথা বলে সনু জানান, “এটা সামাজিক ব্যাপার, এর সঙ্গে ধর্মের কোনো সম্পর্ক নেই।” নিজেকে “হিন্দুত্ববাদীও নই, নাস্তিকও নই” বলেও দাবি করেন তিনি। সেই সঙ্গে তিনি বলেন যে নিজের মত প্রকাশ করার স্বাধীনতা তাঁর রয়েছে।

 

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here