লখনউ: সব জল্পনার অবসান ঘটিয়ে উত্তরপ্রদেশে মহাজোটের ঘোষণা করলেন এককালের প্রবল প্রতিদ্বন্দ্বী সপা নেতা অখিলেশ যাদব এবং বসপা নেত্রী মায়াবতী। দু’জনেই জানিয়ে দিলেন, নরেন্দ্র মোদী এবং অমিত শাহের ঘুম ছুটিয়ে দেবে এই জোট।

শনিবার বেলা ১২:১০ নাগাদ সাংবাদিক সম্মেলনে বসেন মায়াবতী এবং অখিলেশ, রাজনৈতিক মহলে পিসি এবং ভাইপো হিসেবে পরিচিত হচ্ছেন যাঁরা। দু’জনেই জানিয়ে দিয়েছেন কংগ্রেসকে এই জোটে রাখা হচ্ছে না। তবে সনিয়া এবং রাহুল গান্ধীর কেন্দ্র, রায় বরেলি এবং আমেঠিতে কোনো প্রার্থী এই জোট দেবে না বলেও জানিয়ে দিয়েছেন দু’জনে।

সাংবাদিকদের মায়াবতী বলেন, “এই জোট গুরু-শিষ্য মোদী এবং অমিত শাহের ঘুম ছুটিয়ে দেবে।”

কংগ্রেস প্রসঙ্গে মায়াবতী বলেন, “কংগ্রেসের নীতির জন্যই তো আমাদের মতো দলগুলি তৈরি হয়েছিল। কেন্দ্রে কংগ্রেস হোক, বা বিজেপি হোক, বিশেষ কিছুই ফারাক নেই। কংগ্রেসের সঙ্গে জোট করেও বিশেষ সুবিধা কখনই হয়নি।”

আরও পড়ুন মেদিনীপুরে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে বেঘোরে মৃত্যু ২ দাঁতালের

সূত্রের খবর, রাজ্যের ৮০টা লোকসভা আসনের মধ্যে দুটি দলই ৩৮টি করে আসনে প্রার্থী দেবে। রায় বরেলি এবং আমেঠি বাদ দিলে থাকবে আরও দুটি আসন। সেই দুটি নিশাদ পার্টি বা রাষ্ট্রীয় লোক দলের মতো ছোটো দলগুলির জন্য ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।

উল্লেখ্য, ২৫ বছর আগে একটা ঘটনা থেকে তিক্ত সম্পর্কের সূচনা হয় সমাজবাদী পার্টি এবং বহুজন সমাজ পার্টির মধ্যে। দুই দলের মধ্যে তৈরি হওয়া দুর্বল জোট সরকার ভেঙে যায়। তার পরেই লখনউয়ের একটি অতিথি নিবাসে মায়াবতীকে আক্রমণের ঘটনা ঘটে। সমাজবাদী পার্টি কর্মীদের বিরুদ্ধে এই অভিযোগ ওঠে। সপা-বসপার সম্ভাব্য জোটকে ভেঙে দিতে সেই ঘটনার কথা বারবার খুচিয়ে দিতে চাইছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। কিন্তু তাতে যে কোনো ফল হবে না, সেটা এ বার বুঝিয়ে দিয়েছেন মায়াবতী।

তিনি বলেন, “দেশের স্বার্থেই ২৫ বছর আগের সেই ঘটনাটিকে পেছনে ফেলে আবার একজোট হয়েছি।” অন্যদিকে অখিলেশও বলেন, “দলীয় কর্মীদের উদ্দেশে বলছি, মায়াবতীকে কোনোরকম অপমান করা হলে, সেটা ব্যক্তিগত ভাবে আমাকেও অপমানের সামিল।”

এই জোট গঠনের পরেই টুইট করে অখিলেশ এবং মায়াবতীকে অভিনন্দন জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

উল্লেখ্য, গত বছরই পরীক্ষামূলক ভাবে এই জোট তৈরি হয়েছিল উত্তরপ্রদেশে। গোরক্ষপুর এবং ফুলপুর লোকসভা আসনে সপা প্রার্থীদের সমর্থনের সিদ্ধান্ত নেয় বসপা। পরিণামে গোহারা হয়ে যায় বিজেপি। তার পর থেকেই জোট জল্পনা শুরু। বিভিন্ন সমীক্ষাতেও দেখা গিয়েছে জোট হলে উত্তরপ্রদেশে বড়োসড়ো ধাক্কা খেতে পারে বিজেপি।

এই জোট প্রসঙ্গে মায়াবতী এ দিন বলেন, “শুধু জেতার জন্যই এই জোট তৈরি হয়নি। সাধারণ মানুষ, দলিত, মুসলিম-সহ বিভিন্ন ধর্মাবলম্বী মানুষের প্রতিনিধিত্ব করার জন্যই এই জোটের গঠন।”

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here