justice balbir singh chauhan
বিচারপতি বলবীর সিং চৌহান। ছবি সৌজন্যে দ্য হিন্দু।

ওয়েবডেস্ক: দেশের বা শাসক সরকারের নীতির সঙ্গে খাপ খায় না, এমন কোনো চিন্তাধারা প্রকাশ করলে তা কখনোই দেশদ্রোহিতার আওতায় পড়ে না। এ কথা স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে আইন কমিশন। ‘দেশদ্রোহিতা’ সংক্রান্ত এক পরামর্শ-পত্রে (কনসাল্টেশন পেপার) কমিশন বলেছে, দেশদ্রোহিতার অভিযোগ তখনই আনা যায় যখন কোনো কাজের উদ্দেশ্য থাকে হিংসা এবং অবৈধ উপায়ে সরকারের উচ্ছেদ।

আইন কমিশন এ কথাও মনে করিয়ে দিয়েছে, ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) যে ধারায় দেশদ্রোহিতা সম্পর্কে বলা হয়েছে অর্থাৎ সেই ১২৪এ ধারা সংশোধনের সময় কিন্তু এই বিষয়টি মাথায় রাখা দরকার যে এই ধারার প্রবর্তক ব্রিটিশ সরকার তাদের দেশে দশ বছর আগেই এটি তুলে দিয়েছে। ব্রিটিশ যুক্তরাজ্য আর চায় না ‘নিষ্ঠুর আইন’ নিয়ে আলোচনা করার সময় তাদের নজির তুলে ধরা হোক।

আরও পড়ুন ‘আইনের ওপরে পূর্ণ আস্থা রয়েছে,’ হায়দরাবাদে ফিরে বললেন ভরভরা রাও

আইন কমিশনের পরামর্শ-পত্রে ভারতের মতো পৃথিবীর বৃহত্তম গণতান্ত্রিক দেশে দেশদ্রোহিতার সংজ্ঞাটি নতুন করে নির্ধারণ করার কথা বলা হয়েছে। কারণ গণতন্ত্রের সব চেয়ে প্রয়োজনীয় উপাদান হল স্বাধীন ভাবে মত ও বক্তব্য প্রকাশের অধিকার। এবং এই অধিকার সংবিধানে মৌলিক অধিকার হিসাবে স্বীকৃত।

পরামর্শ-পত্রে বলা হয়েছে, “দেশ বা দেশের কোনো কিছুকে ভর্ৎসনা করাকে দেশদ্রোহিতা হিসাবে গণ্য করা যায় না, উচিতও নয়। দেশ যদি গঠনমূলক সমালোচনা সহ্য করতে না পারে তা হলে স্বাধীনতা-পূর্ব আর স্বাধীনতা-পরবর্তী যুগের তফাত কিছু থাকল না। নিজের ইতিহাসকে সমালোচনা করার অধিকার, নিজের ইতিহাসকে আঘাত করার অধিকার স্বাধীন মত প্রকাশের আওতাতেই পড়ে।”

এ প্রসঙ্গে ওই পরামর্শ-পত্রে জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের (জেএনইউ) ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারের বিরুদ্ধে মামলার দৃষ্টান্তটি তুলে ধরা হয়েছে। জেএনইউ ক্যাম্পাসে ভারত-বিরোধী স্লোগান দেওয়ার অভিযোগে কানহাইয়ার বিরুদ্ধে দেশদ্রোহিতার মামলা আনা হয়েছে। কানহাইয়ার দৃষ্টান্ত দিয়ে বলা হয়েছে, জাতীয় সংহতি রক্ষা করা যেমন জরুরি তেমনই স্বাধীন ভাবে মত প্রকাশ বন্ধ করতে দেশদ্রোহিতা সংক্রান্ত ধারার অপপ্রয়োগ উচিত নয়।

আরও পড়ুন বাংলাদেশ যা আজ ভাবে, ভারত ভাবে কাল! গ্রেফতারি প্রসঙ্গে তীব্র কটাক্ষ তসলিমার

পরামর্শ-পত্রে বলা হয়েছে, সজীব গণতন্ত্রের অঙ্গ হল নীতিগত বিষয়ে খোলাখুলি বিতর্ক। এবং সেই খোলাখুলি বিতর্কের প্রয়োজনীয় উপাদান হল বিরুদ্ধ মত এবং সমালোচনা।

কমিশন আশা করে, দেশ জুড়ে আইন-বিশেষজ্ঞ, জনপ্রতিনিধি, সরকার ও বেসরকারি সংস্থা, শিক্ষাবিদ, ছাত্র এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে একটা সুস্থ বিতর্ক হওয়া দরকার, যাতে দেশদ্রোহিতার ধারায় একটা জন-বান্ধব সংশোধনী আনা যায়।

উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের প্রাক্তন বিচারপতি বলবীর সিং চৌহান হলেন দেশের ২১তম আইন কমিশনের প্রধান। ১০ মার্চ তিনি এই পদে এসেছেন।

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন