pranab2

ওয়েবডেস্ক: নাগপুরে আরএসএসের সভায় প্রাক্তন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়ের বক্তব্য রাখার সম্মতিকে ‘রাজনৈতিক গ্রেনেড’ নিক্ষেপের সঙ্গে তুলনা করেছিলেন অনেকেই। দীর্ঘ পাঁচ দশকের ধর্মনিরপেক্ষ রাজনীতির ছত্রছায়ায় থাকার পর ৮২ বছর বয়সে তিনি কেন হিন্দুত্ববাদী সংগঠনের সভায় যোগ দিলেন, তা নিয়ে চলছে দেশজোড়া সমালোচনা। এ ব্যাপারে তাঁর পূর্বতন রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের নেতৃত্ব, অনুগামী এমনকী কন্যা শর্মিষ্ঠার দিক থেকে ধেয়ে এসেছে বাক্যবাণ। তবে বৃহস্পতিবারের সন্ধ্যায় ওই সংগঠনের মঞ্চে তাঁর বক্তব্যে উঠে এল না এমন কোনো দিক, যা তাঁর রাজনৈতিক দর্শন অথবা প্রজ্ঞার সঙ্গে বিপ্রতীপ।

সেখান থেকে তিনি চলে যান নাগপুরের রেশমব‌াগে  আরএসএস-এর ‘তৃতীয় বর্ষ সঙ্ঘ শিক্ষা বর্গ’-এর অনুষ্ঠান মঞ্চে। সংগঠনের সদস্যরা নিজেদের রীতি মেনেই প্রধান অতিথিকে স্বাগত জানান। উদ্বোধনী ভাষণে প্রণববাবুকে ধন্যবাদ জানানোর পাশাপাশি সরসঙ্ঘচালক মোহন ভাগবত বলেন, “প্রতিবারই এ রকম অনুষ্ঠান হয়। তবে এ বার অযথা বিতর্ক তৈরি করা হচ্ছে। প্রণব কেন এলেন, সেটা একান্ত ভাবে তাঁর ব্যক্তিগত বিষয়। আমাদের কাছে কেউ ব্রাত্য নন। এটাই ভারতের চিরাচরিত পরম্পরা।আরএসএসের অনুষ্ঠানে এসেছেন বলে প্রণব বদলে যাবেন না। প্রণব…প্রণবই থাকবেন”।

অন্য দিকে প্রণববাবু নিজের বক্তব্যে বলেন, “রাষ্ট্রীয় জাতীয়তাবাদ নিয়ে আমার বাবনা প্রকাশ করতে এসেছি। এসেছি স্বাদেশিকতা নিয়ে আমার মত প্রকাশ করতে। দেশপ্রেম নিয়েও আমার ধারণা সবার সামনে তুলে ধরতে চাই। সহিষ্ণুতা, বহুত্ববাদ এবং বিবিধতাই ভারতের শক্তি”।

প্রণবের এই বক্তব্য যে গত বছর রাষ্ট্রপতিপদে থেকে শেষ ভাষণেরই অংশবিশেষ, তা ওয়াকিবহাল মাত্রই স্বীকার করছেন। ওই ভাষণেও তিনি বারবার তুলে ধরেছিলেন সহিষ্ণুতা, বিবিধতা ও বহুত্ববাদ-এর কথা।

তবে উল্লেখ্যণীয় ভাবে প্রণববাবু বলেন, “ভারতে, রাম শান্তির কথাই বলে। সহাবস্থানই ভারতের ধর্ম”। তবে পাঁচ হাজার বছরের ভারতীয় সভ্যতার কথা ব্যক্ত করতে গিয়ে তিনি যেমন চাণক্যের উল্লেখ করেন, তেমনই তোলেন মহাত্মা গান্ধী এবং জওহরলাল নেহরুর প্রসঙ্গও। বক্তব্যের সমগ্র আবহই রচিত হয়েছে জাতীয়তাবাদের প্রেক্ষিতে। বলেন, হিংসা-বিদ্বেষের পথ থেকে সরে এসে সাংবিধানিক দেশপ্রেমের পথ ধরতে হবে, সেটাই জাতীয়তাবাদ।

বি.দ্র-রাষ্ট্রপতিপদে থাকাকালীন প্রণববাবু শেষ ভাষণে যা বলেছিলেন-

“আমি আপনাদের সঙ্গে এমন কিছু সত্য ভাগ করে নিতে চাই, যেগুলো আমি এই দীর্ঘ সময়ে উপলব্ধি করেছি। ভারতের আত্মা সহিষ্ণুতা, বিবিধতা ও বহুত্ববাদের উপর অধিষ্ঠিত। ভারত শুধুমাত্র একটা ভৌগলিক সত্তা নয়। এটা একটা ধারণা, দর্শন, বুদ্ধিমত্তা, শিল্পপ্রতিভা, উদ্ভাবন, পরীক্ষা-নিরীক্ষা এবং শিল্পের ইতিহাস বহন করে চলেছে। আমাদের সমাজ যে কারণে কয়েক শতাব্দী ধরে সারা বিশ্বকে আকৃষ্ট করে চলেছে। সংস্কৃতি, ভাষার ও বিশ্বাসের এই বৈচিত্রই ভারতকে অন্য রাষ্ট্রের থেকে বিশেষ করে তুলেছে। সহনশীলতা ও সহাবস্থানই আমাদের সব থেকে বড়ো শক্তি। তা আমরা মানি বা না মানি”।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here