sridevi

ওয়েবডেস্ক: মৃত্যুর তিন দিন পরে শ্রীদেবীর মরদেহ মুম্বই এসে পৌঁছোল। কাল বুধবার বিকেল সাড়ে তিনটের সময় প্রয়াত অভিনেত্রী শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগে যাতে জনগণ যাতে তাঁর প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে পারেন তার জন্য তাঁর মরদেহ লোখন্ডওয়ালায় সেলিব্রেশন স্পোর্টস ক্লাবে রাখা থাকবে। মঙ্গলবার তাঁর পরিবারের তরফে এক বিবৃতিতে এ কথা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সকাল সাড়ে ন’টা থেকে সাড়ে ১২টা পর্যন্ত শ্রীদেবীকে শ্রদ্ধা জানানো যাবে। ওই সময় সংবাদ মাধ্যমের লোকেরাও আসতে পারবেন। তবে তাঁদের ক্যামেরা, রেকর্ডিং যন্ত্র ইত্যাদি শ্রদ্ধাস্থলের বাইরে রেখে আসতে হবে।

সেলিব্রেশন স্পোর্টস ক্লাব থেকে শ্রীদেবীকে নিয়ে অন্তিমযাত্রা শুরু হবে বেলা ২টো নাগাদ। সাড়ে ৩টে নাগাদ ভিলে পার্লের সেবা সমাজ শ্মশানে শেষকৃত্য সম্পন্ন হবে বলে পারিবারিক ঘোষণায় জানানো হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকেলে দুবাই প্রশাসনের তরফে সমস্ত রকম নথিপত্র তুলে দেওয়া হয় কাপুর পরিবারের হাতে। এর পর সেখানে উপস্থিত বনি কাপুর-সহ পরিবারের অন্য সদস্যরা মৃতদেহ নিয়ে বিমানবন্দরে পৌঁছোন। তার পর সন্ধে সাড়ে ৭টা নাগাদ তাঁরা একটি চাটার্ড বিমানে করে শ্রীদেবীর মরদেহ নিয়ে মুম্বইয়ের উদ্দেশে রওনা হন। রাত সাড়ে ন’টায় মুম্বই বিমানবন্দরে এসে পৌঁছোয় বিমানটি। বিমানবন্দরে উপস্থিত ছিলেন অনিল কাপুর। বিমানবন্দর থেকে শ্রীদেবীর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় লোখন্ডওয়ালায় তাঁর বাড়িতে নিয়ে যাওয়া হয়।

জটিলতার অবসান

গত সোমবার ময়নাতদন্তের রিপোর্ট পরিবার এবং ভারতীয় দূতাবাসের হাতে তুলে দেওয়ার পরও মেলেনি মৃতদেহ ভারতে নিয়ে আসার ছাড়পত্র। মঙ্গলবার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অবশেষে দুবাই প্রশাসন সেই ছাড়পত্র তুলে দেয় ভারতীয় দূতাবাসের হাতে। দুপুর আড়াইটা নাগাদ ওই ছাড়পত্র দেওয়া হয়ে বলে জানিয়েছে স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম। তারা আরও জানায়, মৃতদেহটিকে সংরক্ষণের জন্য বিশেষ প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলেই তা ভারতের উদ্দেশে পাড়ি দেবে।

এর আগে জানা গিয়েছিল, নতুন করে শুরু হচ্ছে তদন্ত। নতুন করে সব কাগজপত্র খুঁটিয়ে দেখা হচ্ছে। তেমনটাই অন্তত জানা গিয়েছিল পশ্চিম এশিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমের পরিবেশিত খবর অনুযায়ী। ফলে মঙ্গলবারও দেশে শ্রীদেবীর মরদেহ দেশে ফেরা নিয়ে সংশয় সৃষ্টি হয়েছিল।

জানা যায়, দুবাই পুলিশ পুরো ঘটনাটাকে নতুন করে গ্রাফিকের সাহায্যে তৈরি করতে চলেছে। এ ভাবে তারা খুঁটিয়ে দেখে নিতে চায় ঘটনায় এবং হোটেলকর্মীদের বয়ানে কোনো অসঙ্গতি রয়েছে কি না! এ-ও জানা যায়, ইতিমধ্যে হোটেলকর্মীদের বয়ান রেকর্ড করার কাজটি সমাপ্ত হয়েছে।

পাশাপাশি, দুবাইয়ের সরকারি আইনজীবীরা ভারত থেকে প্রয়াত নায়িকার যাবতীয় মেডিক্যাল রিপোর্ট চেয়ে পাঠান। তিনি কী ওষুধ খেতেন, কী ইঞ্জেকশন নিতেন, কী কী সার্জারি হয়েছিল- এই সব কিছুরই খুঁটিনাটি রিপোর্ট চান তাঁরা। ফলে সে সব হাতে এলে তার পরেই নায়িকার মরদেহ দেশে নিয়ে আসার অনুমতি মিলবে বলে জানা গিয়েছিল।

এর আগে পাওয়া খবর পর্যন্ত শ্রীদেবী্র দেহ দুবাইয়ের মর্গেই রয়েছে। পুলিশ সরকারি আইনজীবীর ছাড়পত্রের জন্য অপেক্ষা করছে। ছাড়পত্র মিললেই দেহ নিয়ে যাওয়া হবে মহিসনাতে। সেখানে তাঁর দেহে মাখানো হবে রাসায়নিক প্রলেপ।

# বনি কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদ করেনি দুবাই পুলিশ। বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে বনি কাপুরকে জিজ্ঞাসাবাদের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা সঠিক নয় বলেই দাবি মধ্য প্রাচ্যের একটি সংবাদমাধ্যমের। রবিবার পুলিশের সঙ্গে করে শ্রীদেবীর স্বামী  প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দিয়েছেন। সোমবার তাকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদের যে খবর প্রকাশিত হয়েছে তা ভুল বলেই দাবি খালিজ টাইমসের।

রাত ১টার আপডেট

 

খালিজ টাইমস জানিয়েছে, প্রোটকল মানতে গিয়েই দেরী হচ্ছে শ্রীদেবী দেহ দেশে ফেরত আনতে। এই ধরনের অস্বাভাবিক মৃত্যুর ঘটনার ক্ষেত্রে বেশ কিছু আইনগত প্রক্রিয়া মানতে হয়। সেই আইনি প্রক্রিয়ার মধ্যে দিয়ে যেতে গিয়েই এই দেরী হচ্ছে। তা ছাড়া দেহতে রাসায়িক প্রলেপ মাখানোর জন্য কর্মীরা থাকেন সকাল সাতটা থেকে বিকেল পাঁচটা পর্যন্ত। ফলে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় দেহ পেতে গেলে মঙ্গলবার সকাল পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে। তবে বিশেষ ক্ষেত্রে কর্মীরা অর্থের বিনিময়ে বাড়তি সময় এসে রাসায়নিক প্রলেপ মাখানোর কাজ করে থাকেন।

দেখুন খালিজ টাইমসের রাত সাড়ে নটার আপডেট।


মৃত্যু না হত্যা? কে আগে দেখেছিলেন প্রয়াত বলিউডের নায়িকা শ্রীদেবীকে হোটেলের বাথরুমে পড়ে থাকতে? স্বামী বনি কাপুর না কি হোটেলকর্মীরা?

খুব স্বাভাবিক ভাবেই প্রয়াত নায়িকার দেহের ময়নাতদন্তের পর এই ঘটনাগুলো উঠে আসছে প্রকাশ্যে।

 

sridevi

পাশাপাশি এ-ও খবর এসেছে যে হোটেলের যে তলায় শ্রীদেবী ছিলেন, সেই ফ্লোর সিল করে দেওয়ার পাশাপাশি নায়িকা যে ঘরে ছিলেন, তা-ও খুঁটিয়ে পরীক্ষা করে দেখছে দুবাই পুলিশ। কেন না তাঁরা সন্দেহ করছেন, মৃত্যুমুহূর্তে নায়িকা ঘরে একা ছিলেন না! সেই জন্যই ওই তলার করিডর এবং নায়িকার ঘরের সিসিটিভি বাজেয়াপ্ত করেছে পুলিশ। পাশাপাশি, হোটেলকর্মীদের বয়ান রেকর্ড করার উদ্যোগও চলছে।

একই সঙ্গে, দুবাই পুলিশ ময়নাতদন্তের রিপোর্টটিও প্রভাবিত বলে সন্দেহ করছে। কেন না, সেখানে দুর্ঘটনাবশত মৃত্যু- শুধু এটুকুই লেখা রয়েছে। ফলে, ময়নাতদন্তের রিপোর্ট কী ভাবে এমন বিবৃতি দিতে পারে- তা নিয়েও প্রশ্ন উঠছে।

sridevi and boney kapoor

পাশাপাশি, শ্রীদেবীর ফোন কল-ও পরীক্ষা করে দেখা হচ্ছে বলে খবর!

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here