মনোরোগের সর্বশ্রেষ্ঠ উপদেশদাতা শ্রীকৃষ্ণ, বললেন আইএমএ-র জাতীয় সভাপতি

0
339

নয়াদিল্লি: মানসিক রোগের নানা দিক রয়েছে। এই রোগ সংক্রান্ত বিভিন্ন বিষয়ের উত্তর কোথায় পাবেন? মহাভারতে। হ্যাঁ, প্রাচীন ভারতে সংস্কৃত ভাষায় লেখা মহাকাব্য মহাভারতে। কথায় বলে না, মহাভারতে কী নেই! অন্তত এ রকমটাই মনে করেন ইন্ডিয়ান মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের জাতীয় সভাপতি কে কে আগরওয়াল। শ্রীকৃষ্ণকে মনোরোগের সর্বশ্রেষ্ঠ উপদেশদাতা বলে মনে করেন আগরওয়াল।

ইকুয়েটর লাইন ম্যাগাজিনের ‘কবওয়েব ইনসাইড আস’ শীর্ষক সাম্প্রতিকতম সংখ্যায় আগরওয়াল লিখেছেন, মহাভারতে ১৮ দিনব্যাপী যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ যে দিন সাফল্যের সঙ্গে সব কিছু অর্জুনকে বুঝিয়েছিলেন, সে দিন থেকেই ভারতে মনোরোগের ইতিহাস শুরু। এর আগে মানুষের মানসিক অবস্থার চিকিৎসার জন্য কোনো ওষুধ ছিল না, মানসিক অসুস্থতার চিকিৎসার জন্য কোনো পেশাদার মনোবিদ ছিলেন না। সেই সময় সম্ভবত সংস্কৃত লেখালেখি থেকেই ভারতবাসীরা এ ব্যাপারে উপদেশ বা পরামর্শ গ্রহণ করতেন।

ইকুয়েটর লাইন ম্যাগাজিনে প্রকাশিত ‘সাইকোথেরাপি ইন দ্য টাইম অব বেদস’ শীর্ষক নিবন্ধে আগরওয়াল লিখেছেন, সেই সময়ে শ্রীকৃষ্ণই প্রকৃত অর্থে সর্বশ্রেষ্ঠ উপদেশদাতা ছিলেন। অর্জুনের সঙ্গে শ্রীকৃষ্ণের যে দীর্ঘ কথাবার্তা হয়, তাতে যে অর্জুন শুধু সুস্থই হয়ে উঠেছিলেন তা-ই নয়, সেখান থেকে ৭০০ শ্লোকের পবিত্র গ্রন্থ ‘ভগবদ গীতা’ও তৈরি হল।

আগরওয়াল লিখেছেন, নদীর দুই তীর বরাবর গাছের জঙ্গল, হরিণদের নেচেকুঁদে লাফিয়ে লাফিয়ে এগিয়ে চলা ইত্যাদির মতো গ্রামীণ পরিবেশের নানা বৈশিষ্ট্যের যে রোগারোগ্যের ক্ষমতা আছে সে সম্পর্কে বৈদিক যুগের ভারতবাসীদের কোনো ধ্যানধারণা ছিল না। সময় বদলেছে, নানা ধরনের ওষুধও বেরিয়েছে। আজ মানসিক স্বাস্থ্যের পুষ্টির জন্য হরেক ওষুধ আছে। নানা লোকে নানা প্রেসক্রিপশন করছে। কিন্তু মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি বৈদিক দৃষ্টিভঙ্গি হল মন, বুদ্ধিবৃত্তি এবং অহংকে নিয়ন্ত্রণ করা।

ওই একই ম্যাগাজিনে মনোরোগ নিয়ে লিখেছেন এইমস-এর মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ডাঃ রাজেশ সগর এবং ডাঃ অনন্য মহাপাত্র। ‘অব দ্য মাইন্ডস অ্যান্ড ইটস ম্যালাডিজ’ শীর্ষক নিবন্ধে তাঁরা লিখেছেন, মনোরোগের সফল চিকিৎসা অনেকগুলি বিষয়ের ওপর নির্ভর করে। যেমন, জন সচেতনতা, প্রাথমিক স্তরেই রোগ নির্ণয়, পরিবারিক শিক্ষা, দীর্ঘমেয়াদি যত্ন, পুনর্বাসন ও সমাজে ফিরিয়ে নেওয়া, অসুস্থদের মানবাধিকার সুনিশ্চিত করা এবং সমাজে এ ধরনের রোগীদের সম্পর্কে যে মনোভাব রয়েছে তা দূর করা ও এঁদের প্রতি বৈষম্য নির্মূল করা।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here