রাজ্য নির্বাচন কমিশনারপদে কোনো সরকারি আধিকারিক থাকলে তাঁকে অবিলম্বে সরতে হবে, তাৎপর্যপূর্ণ রায় সুপ্রিম কোর্টের

0

নয়াদিল্লি: রাজ্য নির্বাচন কমিশনারদের স্বতন্ত্র ব্যক্তি হতে হবে। কেন্দ্রীয় অথবা রাজ্য সরকারের কোনো পদে কর্মরত কোনো আধিকারিককেই ওই পদে বসানো যাবে না বলে স্পষ্ট করে জানিয়ে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।

পুরসভা নির্বাচনকে কেন্দ্র করে গোয়া সরকার রাজ্যের আইন বিষয়ক সচিবকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারপদে বসিয়ে দেয়। এই ঘটনাকে ভারতীয় সংবিধানের সঙ্গে রাজ্য সরকারের ‘উপহাস’ হিসেবে অভিহিত করে সুপ্রিম কোর্ট।

পদত্যাগের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

এই মামলায় আরও একটি তাৎপর্যপূর্ণ রায় দেয় সর্বোচ্চ আদালত। নির্দেশ দেওয়া হয়, অন্য কোনো রাজ্যে নির্বাচন কমিশনারপদে এ ধরনের ব্যক্তি থাকলেও অবিলম্বে পদক্ষেপ নিতে হবে। রায়ে বলা হয়েছে, “এই জাতীয় ব্যক্তিকে তৎক্ষণাৎ এই পদ থেকে পদত্যাগ করতে বলা উচিত এবং সংশ্লিষ্ট রাজ্য সরকারকে সংবিধান বাস্তবায়নে বাধ্য হতে হবে”।

সর্বোচ্চ আদালত আরও বলে, “এই উচ্চ সাংবিধানিক দফতরে শুধুমাত্র স্বতন্ত্র ব্যক্তিদের নিয়োগ করে সংবিধানের ২৪৩কে অনুচ্ছেদকে মান্যতা দিতে হবে”।

বিচারপতি আরএফ নরিম্যানের নেতৃত্বে তিন বিচারপতির বেঞ্চ সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলগুলিকে নির্দেশ জারি করে সংবিধানের ১৪২ অনুচ্ছেদের অধীনে এর বিশেষ ক্ষমতা পুনরুদ্ধারের নির্দেশ দেয়। এই অনুচ্ছেদে ন্যায়বিচারের স্বার্থে কোনো নির্দেশ দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে।

অন্য দুই সদস্য বিচারপতি বিআর গাবৈ এবং ঋষিকেশ রায় সমন্বিত বেঞ্চ নির্বাচন পরিচালনার জন্য একটি স্বাধীন রাজ্য কমিশনের সাংবিধানিক আদেশটি “ভবিষ্যতে কঠোর ভাবে অনুসরণ” নিশ্চিত করতে নির্দেশ জারি করে।

সুপ্রিম কোর্টের এই পর্যবেক্ষণ এবং নির্দেশ ৯৬ পাতার একটি রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে। গোয়ার পুরসভা নির্বাচন সংক্রান্ত মামলায় এই রায় দেওয়া হলেও সমস্ত রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলের ক্ষেত্রে তা সমান ভাবে প্রযোজ্য। শনিবার সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে এই রায়ের কপি আপলোড করা হয়।

কী হয়েছিল গোয়ায়?

গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে গোয়ার পুরসভা নির্বাচনে তদারকি করার জন্য রাজ্যের আইন বিষয়ক সচিবকে রাজ্য নির্বাচন কমিশনারপদে নিয়োগ করা হয়েছিল। যা নিয়ে গোয়া সরকারকে ভর্ৎসনা করে সর্বোচ্চ আদালত।

ওই আধিকারিক নির্বাচনের দিনক্ষণ নিয়ে হাইকোর্টের সিদ্ধান্তকে বাতিল করার চেষ্টা করেছিলেন। আদালত উল্লেখ করেছে, ৩০ এপ্রিলের আগে ভোটগ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যদিও হাইকোর্ট অন্য রকম নির্দেশ দিয়েছিল।

মহিলাদের জন্য আসন সংরক্ষণ না করার জন্য পাঁচটি পুরসভা – মারগাও, ম্যাপুসা, মর্মুগাও, সাঙ্গুয়েম এবং কোপিমের নির্বাচন বাতিল করার নির্দেশ দিয়েছিল হাইকোর্ট। গোয়া সরকার হাইকোর্টের ওই রায়কে চ্যালেঞ্জ জানিয়েই সুপ্রিম কোর্টে যায়। তবে আগের শুনানির মতোই সর্বোচ্চ আদালত এই নির্দেশে স্থগিতাদেশ দেয়।

আরও পড়তে পারেন: সরকারি আধিকারিক নির্বাচন কমিশনার হতে পারবেন না, বলল সুপ্রিম কোর্ট

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন