নয়া নাগরিকত্ব আইন কার্যকর করা নিয়ে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের শীর্ষকর্তার চাঞ্চল্যকর মন্তব্য

0
CMs
প্রতীকী ছবি।

নয়াদিল্লি: সংসদের উভয়কক্ষে পাশ হওয়ার পর রাষ্ট্রপতির সম্মতিতে আইনে পরিণত হয়েছে নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৯। তবে এই নতুন নাগরিকত্ব নিজেদের রাজ্যে কার্যকর না করার দাবি তুলেছেন পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, কেরল, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রীরা। তাঁদের সেই দাবি কতটা যুক্তিসঙ্গত, সে বিষয়েই মুখ খুললেন কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রকের এক শীর্ষ আধিকারিক।

শুক্রবার ওই শীর্ষ কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নাগরিকত্ব (সংশোধনী) আইন, ২০১৯ কার্যকর করার বিষয়টিকে রাজ্য সরকারগুলির তরফে অস্বীকার করার কোনো ক্ষমতা নেই। সংবিধানের সপ্তম তফসিলের ইউনিয়ন তালিকার অধীনে আইনটিকে অস্বীকার করতে পারবে না রাজ্য সরকারগুলি।

গত বৃহস্পতিবার থেকেই পশ্চিমবঙ্গ, পঞ্জাব, কেরল, মধ্যপ্রদেশ এবং ছত্তীসগঢ়ের মুখ্যমন্ত্রীরা দাবি তুলেছেন, আইনটি “অসাংবিধানিক”। যে কারণে তাঁদের নিজের রাজ্যে এই আইনের কোনো স্থান নেই বলে সাফ জানিয়ে দেন।

কিন্তু স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের ওই শীর্ষ আধিকারিক বলেছেন, “কেন্দ্রীয় আইন অনুসারে কেন্দ্রীয় আইন প্রয়োগের বিষয়টি অস্বীকার করার কোনও ক্ষমতা রাজ্যগুলির হাতে নেই”।

তিনি বলেন, সপ্তম তফসিলের ইউনিয়ন তালিকার অন্তর্ভুক্ত রয়েছে এমন ৭৯টি বিষয় রয়েছে, যার মধ্যে প্রতিরক্ষা, বহিরাগত বিষয়াদি, রেলপথ, নাগরিকত্ব এবং প্রাকৃতিককরণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

প্রসঙ্গত, গত বুধবার রাজ্যসভায় পাশ হয় নাগরিকত্ব (সংশোধনী) বিল ২০১৯। বিলের পক্ষে ভোট পড়ে ১২৫টি, অন্য দিকে বিপক্ষে ১০৫টি। গত সোমবার লোকসভায় এই বিল পাশ হয়েছিল। বৃহস্পতিবার বিলে সম্মতি জানিয়ে সেটিকে আইনে পরিণত করেন রাষ্ট্রপতি।

এই আইন প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়ে দিয়েছেন, “এটি একটি বিভাজনের বিল। যে কোনো মূল্যে এর বিরোধিতা করা উচিত। ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ দেশে ধর্মের ভিত্তিতে কখনো নাগরিকত্ব দেওয়া যায় না”।

অন্য দিকে কেরলেন মুখ্যমন্ত্রী পিনারাই বিজয়ন জানিয়েছেন, “আমাদের গণতন্ত্র বিপদে পড়েছে। সিএবি (সি‌টিজেনশিপ অ্যামেন্ডমেন্ট বিল) হাতে নিয়ে সঙ্ঘ পরিবার সংসদে যে সংখ্যাগরিষ্ঠতা উপভোগ করেছে, তা দিয়েই ভারতীয় গণতন্ত্র ও সংবিধানের ভিত উপড়ে ফেলার জন্য ব্যবহার করেছে। এটি ধর্মনিরপেক্ষতাকে প্রত্যাখ্যান করার শামিল। বিজেপি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তাদের প্রধান রাজনৈতিক তাৎপর্য সাম্প্রদায়িকতা। আমাদের অবশ্যই এটাকে প্রতিহত করতে হবে”।

একই সুরে পঞ্জাবের মুখ্যমন্ত্রী অমরিন্দর সিং বলেছেন, “ভারতকে একটি সার্বভৌম, সমাজতান্ত্রিক, ধর্মনিরপেক্ষ, গণতান্ত্রিক প্রজাতন্ত্র ঘোষণা করার পর থেকে তারা যে ভাবে সুরক্ষা পাচ্ছে তা থেকে ভারতীয় জনসংখ্যার একটি বিরাট অংশকে কী ভাবে বাদ দিতে পারেন? অন্যান্য দেশ, যেখানে ভারতীয়রা প্রচুর সংখ্যায় বসতি স্থাপন করেছ, তাদের নাগরিকত্ব অর্জন করেছে, তা হলে কি সেই দেশগুলোও একই জাতীয় আইন আনার সিদ্ধান্ত নেবে? যদি ওই দেশগুলি ধর্মীয় বিশ্বাসের কারণে তাদের নাগরিকত্ব প্রত্যাহার করার সিদ্ধান্ত নেয় তবে ওই ভারতীয়দের কী হবে?”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.