global peace index

শ্রীনগর: ঝুঁকি ছিল, কিন্তু আপাত দৃষ্টিতে দেখে মনে হচ্ছে সেই ঝুঁকি নিয়ে সফলতাও এসেছে কেন্দ্রের। গত বছরের তুলনায় রমজান মাসে এ বার পাথর ছোড়ার ঘটনা অনেকটাই কমে গিয়েছে। এমনই তথ্য এসেছে নিরাপত্তাসংস্থাগুলির কাছে।

কাশ্মীরের মানুষের মন জয়ের উদ্দেশ্যে মুখ্যমন্ত্রী মেহবুবা মুফতির আবেদনে সাড়া দিয়ে রমজান মাসে উপত্যকায় একতরফা সংঘর্ষবিরতির কথা ঘোষণা করেছিল কেন্দ্র। সেই পদক্ষেপ যে খুব একটা বিফলে যায়নি এই তথ্যই সেটা প্রমাণ করে দিচ্ছে।

নিরাপত্তাসংস্থাগুলির কাছে যে তথ্য এসেছে সেখানে দেখা যাচ্ছে ২০১৭ সালে রমজান মাসের প্রথম ১৬ দিনে পাথর ছোড়ার ১৯৫টা ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু এ বার প্রথম ১৬ দিনে ৩৯টা ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের তুলনায় যা অনেকটাই কম।

শুধু তা-ই নয়, জঙ্গি শিবিরে নাম লেখানোর ঘটনাও বেশ কিছুটা কমেছে বলে জানিয়েছেন এক নিরাপত্তা আধিকারিক। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে যা রিপোর্ট রয়েছে তাতে দেখা যাচ্ছে এই ১৬ দিনের মাত্র পাঁচজন জঙ্গি শিবিরে নাম লিখিয়েছে।” গত এপ্রিল এবং মে’র শুরুর দিকে দিনে অন্তত একজন করে জঙ্গিশিবিরে নাম লেখাচ্ছিল বলে জানিয়েছেন ওই আধিকারিক।

তবে রমজানের সংঘর্ষবিরতির জন্য গোয়েন্দা সূত্রে খবর থাকা সত্ত্বেও জঙ্গিদের বিরুদ্ধে বেশি ব্যবস্থা নেওয়া যাচ্ছে না বলেও কিছুটা ক্ষোভপ্রকাশ করেন ওই আধিকারিক।

অন্য দিকে কাশ্মীরের সিপিআইএমের একমাত্র বিধায়ক ইউসুফ তারিগামী মনে করেন, ঝুঁকি থাকলেও, এই সংঘর্ষ বিরতির প্রয়োজন ছিল, কারণ এর ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। তিনি বলেন, “সংঘর্ষ বিরতির ফলে সাধারণ মানুষ স্বস্তিতে। অনেক জায়গা থেকে অনেক প্ররোচনা আসছে। তবুও এই পদক্ষেপ থেকে পিছিয়ে এলে চলবে না।”

এ দিকে কাশ্মীর পুলিশের প্রধান এসপি বৈদ বলেন, সংঘর্ষ বিরতির সময়কে কাজে লাগিয়ে নতুন করে জঙ্গি শিবিরে নাম লেখানো যুবকদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে পুলিশ। তাদের পরিবারের সঙ্গেও যোগাযোগ করা হচ্ছে। জনসংযোগও বাড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। এর ফলে জঙ্গি শিবিরে নাম লেখানোর প্রবণতা কমতে পারে বলে জানিয়েছেন তিনি।

উল্লেখ্য, বৃহস্পতিবারই কাশ্মীরে পা রাখবেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রাজনাথ সিংহ। তাঁর এই সফরের পরে, রমজান মাস শেষ হলেও, রাজ্যে কেন্দ্রের প্রতিনিধি দীনেশ্বর শর্মার সঙ্গে বৈঠকে বসার কথা হুরিয়তেরও।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here