বারাণসী: মুসলিম অধ্যাপক সংস্কৃত পড়াবেন! কিছুতেই তা মেনে নেওয়া যায় না। তাই তাঁকে সরানোর দাবিতে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেছেন জনা তিরিশেক পড়ুয়া। তবে এখনও ওই পড়ুয়াদের দাবিতে কর্ণপাত করেনি বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। তারা পালটা জানিয়েছে, এই মুহূর্তে ওই ব্যক্তি ছাড়া সংস্কৃতের যোগ্য আর কেউ হতেই পারে না।

এই ঘটনাটি ঘটেছে দেশের অন্যতম ঐতিহ্যশালী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বেনারস হিন্দু বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএইচইউ)। বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘সংস্কৃত বিদ্যা ধ্যানবিজ্ঞান’ বিভাগে নিয়োগ করা হয়েছে অধ্যাপক ফিরোজ খানকে। খান মুসলিম হওয়ার সত্ত্বেও কেন এই বিভাগে আসবেন, সেই নিয়েই গত ১২ দিন ধরে বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন ৩০ জন পড়ুয়া।

Loading videos...

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাকেশ ভাটনাগরের অফিসের সামনে ধর্না দিয়েই চলেছেন ওই বিক্ষোভকারীরা। ধর্নার মধ্যেই মন্ত্রোচ্চারণ আর যজ্ঞে শামিল হয়েছেন ওই পড়ুয়ারা। তাঁদের দাবি না মেটা পর্যন্ত এটা চালিয়ে যাবেন বলেন জানিয়েছেন তাঁরা।

তবে বিক্ষোভকারীদের বক্তব্য, তাঁরা কোনো ধর্মের বিরুদ্ধে নয়। কৃষ্ণ কুমার নামক এক বিক্ষোভকারী বলেন, “আমরা কারও কোনো ধর্মবিশ্বাসের বিরুদ্ধে নই। আমরা ক্ষুব্ধ কারণ ব্যাপারটা আমাদের ঐতিহ্য মেনে হচ্ছে না তাই।”

আরও পড়ুন এ বার প্রভাবশালী এক সিপিএম নেতার সভাতেও থাকবেন রাজ্যপাল জগদীপ ধনখড়

বিশ্ববিদ্যালয়ে আলাদা সংস্কৃত বিভাগ রয়েছে। কিন্তু খানকে নিয়োগ করা হয়েছে ‘সংস্কৃত বিদ্যা ধ্যানবিজ্ঞান’ বিভাগে। ওই বিক্ষোভকারীর কথায়, “ওই অধ্যাপককে সংস্কৃত বিভাগে পাঠিয়ে দেওয়া হোক, আমাদের কোনো আপত্তি থাকবে না।”

বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েবসাইটে জানা যায়, এই বিভাগটি ১৯১৮ সালে চালু করেছিলেন পণ্ডিত মদনমোহন মালব্য। ভারতের প্রাচীন শাস্ত্র, সাহিত্য এবং সংস্কৃত ভাষার প্রচার ছিল এর উদ্দেশ্য। অন্য দিকে কলা বিভাগের অন্তর্গত আলাদা সংস্কৃত বিভাগও রয়েছে বিএইচইউয়ে।

তবে পড়ুয়াদের দাবি এখনও মানতে রাজি নয় বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শীর্ষস্থানীয় আধিকারিক বলেন, “পড়ুয়ারা বলছেন এটা না কি ঐতিহ্য মেনে হচ্ছে না। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় তার নিজস্ব নিয়মাবলি এবং গঠনতন্ত্র মেনে কাজ করে।”

এ দিকে এই বিতর্ক শুরু হওয়ার পর থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের দিকে যাননি অধ্যাপক খান। রাজস্থাননিবাসী এই অধ্যাপক ছোটো থেকেই সংস্কৃতের চর্চা করেন। এমনকি তাঁর বাবা স্থানীয় মন্দিরে এখনও নিয়মিত ভজন করেন।

পড়ুয়াদের দাবির কাছে নতিস্বীকার করে যদি খানকে সরিয়ে দেওয়া হয়, তা হলে তা দেশের ধর্মনিরপেক্ষতা এবং বহুত্ববাদের পক্ষে ক্ষতিকর বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.