সানি লিওন। প্রতীকী ছবি

শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা (TET)-র অ্যাডমিট কার্ডে সানি লিওনের ‘বোল্ড’ ছবি। সেই অ্যাডমিট কার্ডের ছবিই এখন ভাইরাল নেটমাধ্যমে।

অ্যাডমিট কার্ডে সানি লিওন!

গত ৬ নভেম্বর ছিল কর্নাটকে স্কুল শিক্ষক নিয়োগের টেট পরীক্ষা। নির্দিষ্ট সময়ে পরীক্ষার্থীদের কাছে পৌঁছেছিল অ্যাডমিট কার্ড। শিবমোগা জেলার এক পরীক্ষার্থী দেখেন অ্যাডমিট কার্ডে তাঁর বদলে রয়েছে বলিউড অভিনেত্রী সানি লিওন (Bollywood actress Sunny Leone)-এর ছবি। হতবাক হয়ে যান ওই পরীক্ষার্থী।

পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ডে বলিউড অভিনেত্রীর ওই ছবিকে কেন্দ্র করে হুলস্থূল পড়ে যায়। বিষয়টি প্রকাশ্যে আসতেই রাজ্য শিক্ষা দফতরের হাল নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করেছে। কী করে অ্যাডমিট কার্ডে পরীক্ষার্থীর ছবির বদলে সানির ছবি এল, তা খতিয়ে দেখতে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছে রাজ্য শিক্ষা দফতর।

টেট ২০২২-এর দিনই বিষয়টি প্রকাশ্যে চলে আসে। পরীক্ষার্থী নিজের পরীক্ষাকেন্দ্রে গিয়ে ওই অ্যাডমিট কার্ড দেখানোর পরই বিষয়টি জানাজানি হয়ে যায়। এর পর সাইবার ক্রাইম থানায় একটি মামলা দায়েরও করা হয়।

সংবাদ সংস্থা পিটিআই-কে ওই পরীক্ষার্থী জানান, “পুলিশ আমাকে জানিয়েছে, অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ এবং জমা দেওয়ার সময় ছবি আপলোড করতে গিয়ে এই বিভ্রাট হতে পারে”। একই সঙ্গে ওই পরীক্ষার্থী জানান, তিনি নিজে অনলাইনে আবেদনপত্র পূরণ করেননি, এ কাজে অন্যের সাহায্য নিয়েছিলেন।

বিবৃতি শিক্ষা দফতরের

সানি লিওনের ছবি লাগানো অ্যাডমিট কার্ড নিয়ে যখন রাজ্যে শোরগোল পড়ে গিয়েছে, তখন আক্রমণ শানাচ্ছেন বিরোধীরা। বিষয়টি নিয়ে সরকারের বিরুদ্ধে আক্রমণে নেমেছে কংগ্রেস। কর্নাটক কংগ্রেসের সোশ্যাল মিডিয়া চেয়ারপার্সন বিআর নাইডু বিষয়টি টুইটারে শেয়ার করে লেখেন, “রাজ্যে শিক্ষক নিয়োগের পরীক্ষা হচ্ছে। অথচ দেখা যাচ্ছে, এক পরীক্ষার্থীর অ্যাডমিট কার্ডে তাঁর ছবির বদলে সানি লিওনের ছবি বসানো হয়েছে। যে দল বিধানসভার ভিতরে বসে পর্ন ছবি দেখতে পারে, তাদের কাছ থেকে এর থেকে বেশি কী আশা করা যায়!”

এই বিষয়ে একটি বিবৃতি জারি করেছে কর্নাটকের শিক্ষামন্ত্রী বিসি নাগেশের কার্যালয়ও। বিবৃতিতে বলা হয়েছে,”ফর্ম পূরণ করার সময় প্রার্থীকে একটি ছবি আপলোড করতে হয়। সিস্টেমে যে ছবি আপলোড করা হয় সেই ছবিই অ্যাডমিট কার্ডে আসে”। শিক্ষামন্ত্রীর বক্তব্য অনুযায়ী, প্রার্থীর ফর্ম পূরণ করেছিলেন তাঁর স্বামীর এক বন্ধু।

অন্য দিকে, জন নির্দেশনা বিভাগ (Public Instruction Department) পিটিআই-কে জানিয়েছে, “এই বিষয়ে মিডিয়া যা কিছু রিপোর্ট করছে তাতে বিভাগের কোনো ভূমিকা নেই। তবুও আমরা পুলিশকে বিষয়টি তদন্ত করতে এবং ঘটনার জন্য দায়ী ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ করেছি”।

বলে রাখা ভালো, অনলাইনে আবেদনের ক্ষেত্রে যেহেতু প্রার্থীর আইডি এবং পাসওয়ার্ডই মূল চাবিকাঠি, তাই শিক্ষা দফতর দাবি করছে, ছবি বিভ্রাটের জন্য তাদের কোনো ভূমিকা নেই।

আরও পড়ুন: ইতিহাস গড়ে দেশের ৫০তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে শপথ নিলেন ডিওয়াই চন্দ্রচূড়

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন