নয়াদিল্লি: কেন্দ্রের আর্জি মেনে জল্লিকাট্টুর ওপর নিষেধাজ্ঞা তোলার ব্যাপারে নিজেদের রায় দান এক সপ্তাহের জন্য পিছিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট। ইতিমধ্যে জল্লিকাট্টু আয়োজন করা নিয়ে তামিলনাড়ু সরকারের একটি খসড়া অর্ডিন্যান্সে সম্মতি দিয়েছে কেন্দ্রের তিনটি মন্ত্রক — আইন, পরিবেশ ও সংস্কৃতি। এখন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায় অর্ডিন্যান্সে স্বাক্ষর দিলেই তা কার্যকর হবে। জল্লিকাট্টুর সমর্থনে চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচে অবস্থান বিক্ষোভ শুক্রবার চতুর্থ দিনে পড়ল। বিক্ষোভকারীদের সংখ্যা দিন দিন বেড়েই চলেছে। রাজ্যের যুব সমাজ    দলে দলে জমায়েত হচ্ছে সেখানে।

২০১৪-এর জারি করা নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে কি না তা নিয়ে শুক্রবার সুপ্রিম কোর্টের রায় দেওয়ার কথা ছিল। শুক্রবার শীর্ষ আদালতে কেন্দ্র আর্জি জানিয়ে বলে, জল্লিকাট্টুর সমর্থনে চেন্নাইয়ের মেরিনা বিচে প্রায় হাজার দশেক মানুষ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন, এই অবস্থায় শীর্ষ আদালতের কোনো রায় আপাত শান্ত সেই বিক্ষোভকে অশান্ত করে তুলতে পারে। সেই আর্জি মেনে শীর্ষ আদালত তাদের রায় দেওয়া পিছিয়ে দেয়। কিন্তু মাদ্রাজ হাইকোর্ট শুক্রবার জল্লিকাট্টু নিয়ে কোনো নির্দেশ জারি করতে অস্বীকার করে। জল্লিকাট্টু আয়োজন করার ব্যাপারে একটি বিশেষ আইন প্রণয়ন করার দাবি জানিয়ে হাইকোর্টে একটি জনস্বার্থ মামলা দায়ের করা হয়। সেই মামলার রায় দিতে গিয়ে মাদ্রাজ হাইকোর্ট বলে, কোর্ট এ ধরনের নির্দেশ জারি করতে পারে না। জল্লিকাট্টুর দাবিতে মেরিনা বিচে ‘বেআইনি’ জমায়েতের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য দাবি জানিয়ে আর একটি আবেদনের জবাবে হাইকোর্ট জানিয়ে দেয়, “এটা সম্পূর্ণ প্রশাসনিক ব্যাপার, সরকারকে বলতে হবে।” 

শীর্ষ আদালত তাদের রায় পিছিয়ে দিলেও তামিলনাড়ুর মুখ্যমন্ত্রী পনিরসেলভম আগামী দু’দিনের মধ্যেই জল্লিকাট্টু আয়োজনের আশ্বাস দিয়ে খসড়া অর্ডিন্যান্স তৈরির কথা জানান। সেই সঙ্গে তিনি তামিল জনগণকে বিক্ষোভ প্রত্যাহার করে নেওয়ার আবেদন জানান।

তবে বিক্ষোভ প্রত্যাহারের আবেদন করলেও তার কোনো প্রভাব পড়েনি বিক্ষোভকারীদের মধ্যে। শুক্রবার সকাল থেকে জল্লিকাট্টুর দাবিতে ক্রমশ বিক্ষোভ বেড়েছে মেরিনা বিচে। মঙ্গলবার থেকে টানা তিন রাত মেরিনা বিচেই অবস্থান করছেন বিক্ষোভকারীরা, যার মধ্যে অধিকাংশই তামিল যুব। পাশাপাশি এ দিন সকাল থেকেই পরিবহণ ধর্মঘট চলছে গোটা রাজ্যে, ব্যবসা বন্ধের ডাক দিয়েছে বিভিন্ন শ্রমিক সংগঠন। রাজ্যের বিভিন্ন জায়গায় রেল অবরোধ করছে প্রধান বিরোধী দল ডিএমকে।

জল্লিকাট্টুর সমর্থনে তামিল তারকারা আরও বেশি করে আসরে নেমে পড়েছেন । নিজের কথামতো শুক্রবার সারা দিন অনশন করেন সংগীত পরিচালক এ আর রহমান। সন্ধ্যায় তিনি অনশন ভাঙেন। অন্য দিকে রজনীকান্ত, অজিত, বিজয়-সহ তামিল সিনেমা জগতের প্রায় সব তারকাই জল্লিকাট্টুর সমর্থনে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ দেখাচ্ছেন।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here