nrc
তালিকায় নাম আছে তো? ছবি সৌজন্যে নেনাউ।

নিজস্ব সংবাদদাতা, গুয়াহাটি: পর পর দু’ দিন সুপ্রিম কোর্টের রায়ে অসমের ধৰ্মীয় এবং ভাষিক সংখ্যালঘু মানুষরা কিছুটা স্বস্তি পেলেন। দু’টি রায়ের একটি হল আগের বাতিল করা পাঁচটি নথিকে গ্রহণ করার নির্দেশ। আরেকটি রায়ে বলা হয়েছে, অসমের ডিটেনশন ক্যাম্পগুলিতে নিৰ্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া কাউকে অনিৰ্দিষ্টকালীন ভাবে আটকে রাখা যাবে না।

বৃহস্পতিবার সুপ্ৰিম কোৰ্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ এবং বিচারপতি রহিন্টন ফলি নরিম্যানের ডিভিশন বেঞ্চ আগের বাতিল করা পাঁচটা নথিকে গ্ৰহণ করা নিৰ্দেশ দিয়েছেন। ১৯৫১ সালের এনআরসি, ১৯৭১ সালের ২৪ মাৰ্চের আগের ভোটার তালিকা, শরণাৰ্থীদের রেজিস্ট্রেশন সাৰ্টিফিকেট, নাগরিকত্ব সাৰ্টিফিকেট এবং রেশন কাৰ্ড – এই পাঁচটি গুরুত্বপূৰ্ণ নথি বাদ দেওয়ার জন্য জোর সওয়াল করেছিলেন জাতীয় নাগরিকপঞ্জির সমন্বয়ক প্ৰতীক হাজেলা। তাঁর যুক্তি ছিল প্ৰায় ১ কোটি লিগেসি ডাটা কেনাবেচা হয়েছে, বিভিন্ন ভুয়ো সংস্থার কাছ থেকে  শরণাৰ্থী সাৰ্টিফিকেট গ্ৰহণ করা হয়েছে ইত্যাদি। এই সব অভিযোগের প্ৰেক্ষিতে প্ৰতীকবাবু  ৫টি নথি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছিলেন। এর প্ৰতিবাদে অসম সরকার, এমনকি কেন্দ্ৰীয় সরকারও সুপ্ৰিম কোৰ্টের দ্বারস্থ হন। এ ছাড়াও জমিয়ত, আমসু প্ৰভৃতি আরও কিছু সংগঠন পাঁচটি নথি গ্ৰহণের আবেদন জানিয়েছিল।

আরও পড়ুন নাগরিকপঞ্জির ত্রুটি নিয়ে কেন্দ্রের বিরুদ্ধে ক্ষোভ প্রকাশ অসম রাজ্য বিজেপির!

এ দিন সুপ্ৰিম কোৰ্ট প্ৰতীক হাজেলাকে সতৰ্ক করে দিয়ে বলেছে, পরীক্ষণ প্ৰক্ৰিয়ায় যাতে কোনো শিথিলতা করা না হয়, তা তাঁকে দেখতে হবে। এক সঙ্গে শীর্ষ আদালত দাবি ও আপত্তি দাখিলের সময়সীমা বৃদ্ধি করে ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮ পৰ্যন্ত করেছে। শীর্ষ আদালতের এই নির্দেশের ফলে এখন থেকে ১৫টি নথির উপরেই দাবি ও আপত্তি গ্ৰহণ করে এনআরসি নবায়নের কাজ চলবে। রাজ্যে ২ কোটি ৮৯ লক্ষ মানুষের এনআরসি নবায়ন ১৫টি নথির ভিত্তিতে সম্পন্ন হয়েছিল। অথচ ৪০ লক্ষ ৭ হাজার ৭০৭ জন মানুষের ক্ষেত্ৰে গুরুত্বপূৰ্ণ পাঁচটি নথিকেই বাদ দিয়ে দেওয়া হয়। এনআরসি কৰ্তৃপক্ষের এই চরম বৈষেম্যর ফলে রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষদের জীবনে অনিশ্চিয়তা নেমে এসেছিল। এনআরসিতে নাম অন্তৰ্ভুক্ত করা সম্ভাবনা ছিল না। এ বার সেই অনিশ্চয়তা দূর হল।

ডিটেনশন ক্যাম্প নিয়ে নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের।

এর আগে বুধবার সুপ্রিম কোর্ট আরও একটি রায়ে রাজ্যের ডিটেনশন ক্যাম্পগুলিতে নিৰ্দিষ্ট পরিকল্পনা ছাড়া কাউকে অনিৰ্দিষ্টকালীন ভাবে আটক না রাখার নির্দেশ দিয়েছে। শীর্ষ আদালত বলেছে, ডিটেনশন ক্যাম্পে বন্দি সবাইকে সব ধরনের সুযোগসুবিধা দিতে হবে। যাতে কোনো ভাবেই মানবাধিকার লঙঘন করা না হয় তাও দেখতে হবে। প্রসঙ্গত উল্লেখ্য, রাজ্যের ৬টি ডিটেনশন ক্যাম্পে এক হাজারেরও বেশি ব্যক্তিকে বিনা বিচারে আটক করে রাখা হয়েছে। তাদের এই অনিশ্চিত বন্দিদশা কবে ঘুচবে কেউ জানে না। সৰ্বোচ্চ আদালত এত দিন পর এক দিশা দিল বলে সংশ্লিষ্ট সকলে মনে করছেন।

রাজ্যের সংখ্যালঘু বাঙালি সংগঠনগুলি সুপ্ৰিম কোৰ্টের দু’টি রায়কে স্বাগত জানিয়েছে।

আরও পড়ুন আসামের বাঙালিদের সামনে এখন দুর্যোগের ঘনঘটা

ডিটেনশন ক্যাম্প এবং ৫টি নথি সংক্রান্ত সুপ্ৰিম কোৰ্টের রায় রাজ্যের সংখ্যালঘু মানুষকে স্বস্তি দিলেও শীর্ষ আদালতের এর আগের একটি রায়ের ফলে উদ্বেগ থেকেই গিয়েছে। রাজ্যে ১ লক্ষ ২৬ হাজার ‘ডি’ ভোটার আছে। তাঁদের তো বটেই, তাঁদের সন্তানসন্ততিদের নামও এনআরসি তালিকায় অন্তৰ্ভুক্ত করা হবে না, এনআরসি কৰ্তৃপক্ষ এমন নিৰ্দেশ দিয়েছেন। প্ৰায় ৩ লক্ষ ‘ডি’ ভোটার এবং তাঁদের পরিবার এনআরসি তালিকা থেকে বাদ পড়বে। কিন্তু ট্ৰাইব্যুনালের বিভিন্ন একপক্ষীয় রায়ে প্ৰমাণিত হয়েছে ‘ডি’ ভোটারদের অধিকাংশই ভারতীয় নাগরিক। নাগরিকত্বের বৈধ নথিপত্ৰও আছে। ১৯৯৭ সাল থেকে ‘ডি’ ভোটাররা ভোটাধিকারের মতো সাংবিধানিক মৌলিক অধিকার থেকে বঞ্চিত হয়ে রয়েছেন। এ বার এনআরসির ফলে তাঁদের সন্তানসন্ততিদের সেই অধিকার থেকে বঞ্চিত হবে। সুপ্ৰিম কোৰ্ট কিন্তু ‘ডি’ ভোটারদের কলঙ্কমুক্ত করার ব্যাপারে কোনো ইতিবাচক পদক্ষেপ গ্ৰহণ করতে রাজি হয়নি। ‘ডি’ ভোটারদের বিদেশি সাজিয়ে ডিটেনশন ক্যাম্পে ভরে মানবাধিকার লঙঘন করা হচ্ছে এবং আত্মঘাতী মানুষের সংখ্যাও বৃদ্ধি পাচ্ছে। রাজ্য সরকার অবশ্য আশ্বাস দিয়েছে, নতুন করে আর কাউকে ‘ডি’ ভোটার বানানো হবে না।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here