নয়াদিল্লি: আদালত অবমাননার দায়ে সিবিআইয়ের প্রাক্তন অন্তর্বর্তীকালীন অধিকর্তা নাগেশ্বর রাওকে অদ্ভুত শাস্তি দিল সুপ্রিম কোর্ট।

বিচারপ্রক্রিয়া শেষ না হওয়া পর্যন্ত এজলাসের একটি কোণে বসে থাকার নির্দেশ দিলেন প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ। পাশাপাশি তাঁর এক লক্ষ টাকার জরিমানাও করা হয়েছে। একই শাস্তি পেয়েছেন অতিরিক্ত আইনি পরামর্শদাতা ভাসুরান এস।

দেশের ইতিহাসে একজন প্রাক্তন সিবিআই ভারপ্রাপ্ত আধিকারিকের এমন নজিরবিহীন সাজা হয়নি।

উল্লেখ্য, সিবিআইয়ের দায়িত্ব পেয়েই পূর্বতন সিবিআই অধিকর্তা অলোক বর্মার ঘনিষ্ঠ আধিকারিকদের একে একে বদলি করেন নাগেশ্বর। তাঁদের মধ্যে ছিলেন মজফ্‌ফরপুর হোমকাণ্ডের তদন্তকারী আধিকারিকও।

আরও পড়ুন দিল্লিতে হোটেলে ভয়াবহ আগুন, মৃত অন্তত ১৭

বিচারাধীন মামলার তদন্তকারী আধিকারিককে বদলির নির্দেশ দেওয়া আদালত অবমাননার সমান বলে নাগেশ্বর রাওয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ ওঠে। মজফ্‌ফরপুর মামলার শুনানি চলাকালীন বিষয়টি জানার পরেই নাগেশ্বর রাওকে সমন পাঠায় আদালত।

অভিযোগের প্রেক্ষিতেই শুনানি ছিল মঙ্গলবার। প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ নাগেশ্বর রাওকে এই নিয়ে তীব্র ভর্ৎসনা করার পর বলেন, “‌তিনি যে কাজ করেছেন তাকে আদালত অবমাননা ছাড়া আর কিছু বলা যায় না। এর প্রভাব তাঁর চাকরিজীবনে পড়বে।”

নাগেশ্বর রাওয়ের হয়ে আদালতে সওয়াল করছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল কেকে বেনুগোপাল। তিনি বলেন, গত ৩২ বছরের কর্মজীবনে নাগেশ্বর রাওয়ের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ওঠেনি। সেই কেরিয়ার রেকর্ড দেখেই তাঁকে এ বারের মতো ক্ষমা করার আর্জি জানিয়েছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল।

আদালতের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন রাও নিজেও। তিনি বলেন, “আমি নিঃশর্তে ক্ষমা চাইছি। আমি আমার ভুল বুঝতে পেরেছি। আমি স্বীকার করছি যে সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ অমান্য করেছি।”

একটি উত্তর ত্যাগ

Please enter your comment!
Please enter your name here