নয়াদিল্লি: কোভিড-১৯ মহামারির (Covid-19 pandemic) জেরে বাতিল হওয়া উড়ানের টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা যাত্রীদের কেন ফেরানো হবে, এমন প্রশ্নেই মঙ্গলবার কেন্দ্র এবং ডিজিসিএ-কে নোটিশ পাঠাল সুপ্রিম কোর্ট।

এ দিন সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি অশোক ভূষণের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ অ-সামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রক (Ministry of Civil Aviation) এবং ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (DGCA)-এর কাছে জানতে চায়, যাত্রীরা কেন টিকিটের সম্পূর্ণ টাকা ফেরত না পাওয়ার অভিযোগ তুলছেন?

Loading videos...

এ বিষয়ে শীর্ষ আদালতে আবেদন দাখিল করে এয়ার প্যাসেঞ্জার অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়া। তাদের দাবি, বিমান সংস্থাগুলি বিধিবহির্ভূত ভাবে নিজেদের ইচ্ছে মতো টাকা ফেরানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বলা হয়েছে, নির্দিষ্ট মেয়াদের মধ্যে পুনরায় উড়ানে যাত্রা করলে নতুন করে টাকা দিতে হবে না। এর জন্য এক বছরের সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে প্রায় প্রত্যেকটি সংস্থার তরফে।

শীর্ষ আদালতের আরও দুই বিচারপতি এসকে কউল এবং এমআর শাহের সম্মিলত বেঞ্চ এ দিন এ বিষয়ে নোটিশ জারির নির্দেশ দেন। একই সঙ্গে জানানো হয়, ঠিক একই ধরনের বকেয়া আবেদনের শুনানিও চলবে এই আবেদনটির সঙ্গে।

কী কারণে মামলা সুপ্রিম কোর্টে?

করোনাভাইরাস (Coronavirus) সংক্রমণ মোকাবিলায় লকডাউনের জেরে বাতিল হয়েছিল সমস্ত রকমের বিমানের টিকিট। এমন পরিস্থিতিতে বিমান সংস্থাগুলি জানিয়ে দিয়েছে, টিকিটের দাম ফেরত দেওয়া হবে না। ভবিষ্যতে ভ্রমণ করতে চাইলে যাত্রীরা রি-শিডিউলের সুবিধা পাবেন। কিন্তু তা মানতে নারাজ যাত্রীরা। বিষয়টিতে অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রকের হস্তক্ষেপের পরেও যাত্রীমহলে অভিযোগের অন্ত নেই।

লকডাউনের জেরে বিমান পরিবহণ বন্ধ হওয়ার পর টিকিট বাতিল হওয়াটাই স্বাভাবিক। তবে সোশ্যাল মিডিয়ায় যাত্রীরা অভিযোগ করছেন, ঘরোয়া বিমান সংস্থাগুলি টিকিটের দাম ফেরত না দেওয়ার ‘অনৈতিক’ সিদ্ধান্ত চাপিয়ে দিচ্ছে। নগদ টাকা ফেরত না দিয়ে তারা ক্রেডিট ইস্যুর মাধ্যমে রি-শিডিউলের কথা বলছে।

যেখানে বিমান সংস্থাগুলি জানিয়েছে, ঘরোয়া টিকিটের জন্য লকডাউনের সময় নগদ টাকা ফেরত দেওয়া হবে না। তবে যাত্রীরা টিকিটেক রি-শিডিউল করতে পারেন। সে ক্ষেত্রে তাঁরা বাড়তি সুবিধা পাবেন। তাঁদের কাছ থেকে কোনো বাড়তি টাকা নেওয়া হবে না।

মন্ত্রকের হস্তক্ষেপ

গত ১৬ এপ্রিল বিকেল একটি বিজ্ঞপ্তি জারি করে অসামরিক বিমান পরিবহণমন্ত্রক জানিয়ে দেয়, বিমানের টিকিট বুকিংয়ের সমস্ত টাকা ফেরত দিতে হবে সংস্থাগুলিকে। ২৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত বুকিং থাকলে, সেই টাকা বাতিল করার আবেদন জানানোর তিন সপ্তাহের মধ্যে ফেরত দিতে হবে। এর জন্য কোনো রকমের চার্জ কাটা যাবে না।

তবে গত ২৫ মার্চ থেকে ১৪ এপ্রিল পর্যন্ত প্রথমার্ধের লকডাউনের সময়কালে কাটা টিকিটের দাম ফেরতের কথা বলা হলেও দ্বিতীয়ার্ধ নিয়ে কোনো নির্দেশ দেওয়া হয়নি। অর্থাৎ, ১৫ এপ্রিল থেকে ৩ মে-র মধ্যে ভ্রমণের জন্য যাঁরা টিকিট কেটেছিলেন, এ বিষয়ে তাঁদের আক্ষেপ রয়েই গিয়েছে। সঙ্গে রয়েছে বিমান সংস্থাগুলির টাকা ফেরানোর নিজস্ব পদ্ধতি নিয়েও বিতর্ক।

আবেদনে বলা হয়েছে, মন্ত্রক এবং ডিজিসিএ-র নির্দেশের পরেও বিমান সংস্থাগুলি বাতিল টিকিটের টাকা ফেরাতে ব্যর্থ হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

This site uses Akismet to reduce spam. Learn how your comment data is processed.