মণিপুরে সংঘর্ষে ৯৫ জনের মৃত্যু নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

0
397

নয়াদিল্লি: মণিপুরে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষে ৯৫ জনের মৃত্যু নিয়ে সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সেনাবাহিনী, আসাম রাইফেলস, সিআরপিএফ, বিএসএফ আর পুলিশ – এই পাঁচ বাহিনীর বিরুদ্ধে অভিযোগ, বিভিন্ন সময়ে ‘আফস্পা’র ঢাল ব্যবহার করে এরা সংঘর্ষের নামে ৯৫ জনকে মেরে ফেলেছে মণিপুরে। সিবিআই তদন্তের নির্দেশ দিয়ে সুপ্রিম কোর্ট ‘আফস্পা’র ঢালটি কার্যত অকেজো করে দিল।

পাঁচ জন অফিসারকে নিয়ে একটি বিশেষ তদন্তদল (সিট) গড়ার জন্য সিবিআই-এর ডিরেক্টর অলোক কুমারকে নির্দেশ দিয়েছে বিচারপতি মদন বি লকুর এবং বিচারপতি উদয় উমেশ ললিতের ডিভিশন বেঞ্চ। ওই তদন্তদল সংঘর্ষে মৃত্যু সংক্রান্ত বিভিন্ন মামলার রেকর্ড খতিয়ে দেখবে, নতুন করে এফআইআর দায়ের করবে, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে তদন্ত সম্পূর্ণ করবে এবং চার্জশিট পেশ করবে। এই নির্দেশাবলি ঠিকঠাক মানা হয়েছে কিনা তা জানিয়ে সিবিআইকে জানুয়ারির দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে একটি রিপোর্ট পেশ করতে হবে।

বিচারপতি লকুর বলেন, “বিভিন্ন তদন্ত কমিশন, একটি বিচার বিভাগীয় কমিশন, গুয়াহাটি ও মণিপুরের হাইকোর্ট এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন মূল কাজটি করে রেখেছে। ‘সিট’ ওই তথ্যগুলো জোগাড় করে কাজে লাগাবে। আমরা আশা করি, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ‘সিট’কে তাদের তদন্ত সম্পূর্ণ করতে সব রকম সাহায্য ও সহযোগিতা করবে মণিপুর ও কেন্দ্রীয় সরকার।”

সিবিআই-এর ডিরেক্টরকে ‘সিট’ গড়ে কারা কারা সেই ‘সিট’-এ আছে তা দু’ সপ্তাহের মধ্যে শীর্ষ আদালতকে জানাতে হবে।

শীর্ষ আদালতে সেনাবাহিনীর পক্ষে বলা হয়, মণিপুরে বিভিন্ন ধরনের জঙ্গি গোষ্ঠী সক্রিয়। সেখানে সশস্ত্র বাহিনীর কর্মীদের প্রায়শই ‘হয় করো, নয় তো মরো’ পরিস্থিতিতে পড়তে হয়। এই অবস্থায় মণিপুরের মতো উপদ্রুত এলাকায় মুহূর্তের মধ্যে বিপজ্জনক পরিস্থিতির মোকাবিলায় কাজ করতে গিয়ে সেনাবাহিনীকে যদি ফৌজদারি মামলায় দোষী সাব্যস্ত করা হয়, তা হলে তাদের পক্ষে দেশের সংহতি রক্ষা করা এবং প্রকৃত নিরাপত্তা দেওয়া অসম্ভব হয়ে পড়বে।

সেনাবাহিনীর পক্ষে আরও বলা হয়, সংঘর্ষে মৃত্যুর বেশির ভাগ ঘটনাই খুব পুরোনো। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলিকে ক্ষতিপূরণও দিয়ে দেওয়া হয়েছে। এই অবস্থায় নতুন করে তদন্ত শুরু করে, বিশেষ করে সশস্ত্র বাহিনীর তদন্ত সম্পূর্ণ হয়ে যাওয়ার পরে এবং বাহিনীর কর্মীদের ফৌজদারি মামলায় জড়িয়ে  কোনো ফল হবে না।

সেনাবাহিনীর এই যুক্তি তুলোধোনা করে শীর্ষ আদালত বলে, “যদি একটা অপরাধ হয়ে থাকে, যে অপরাধে এক জন মানুষের মৃত্যু হয় এবং সম্ভবত সেই মানুষটি নিরীহ, তখন সময়ের দোহাই দিয়ে একে এড়িয়ে যাওয়া যায় না। শুধুমাত্র রাষ্ট্র কোনো ব্যবস্থা নেয়নি, আর সময় সময়ের মতো গড়িয়ে গিয়েছে বলে সেই বিলম্বের সুযোগ নিয়ে তদন্তকে বানচাল করা যায় না।”

কেন্দ্রের পক্ষ থেকে বলা হয়, সংঘর্ষে মৃত্যুর মামলাগুলোতে স্থানীয় চাপ কাজ করে। ফলে সে ক্ষেত্রে তদন্তে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে একটা পক্ষপাতের সম্ভাবনা থাকে। এই যুক্তি খণ্ডন করে আদালত বলে, মণিপুরে যদি আইনের শাসন ভেঙে পড়ে, সে ক্ষেত্রে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দায় অবশ্যই এসে পড়ে কেন্দ্রের ঘাড়ে। তবে সব তদন্তই অন্যায় ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত, এটা বলা মানে মণিপুরের বিভিন্ন কর্তৃপক্ষের স্বাধীনতা নিয়ে কুৎসা করা, এটা কোনো ভাবেই অভিপ্রেত নয়।

এক ক্লিকে মনের মানুষ,খবর অনলাইন পাত্রপাত্রীর খোঁজ

মতামত দিন

Please enter your comment!
Please enter your name here