বেসরকারি স্কুলে ফি মকুবের আবেদন খারিজ সুপ্রিম কোর্টে

0
Supreme-Court PF
প্রতীকী ছবি

নয়াদিল্লি: করোনাভাইরাস (Coronavirus) সংক্রমণ এবং লকডাউনের (Lockdown) জেরে বেসরকারি স্কুলের ফি মকুবের আবেদনটি ফিরিয়ে দিল সুপ্রিম কোর্ট (Supreme Court)।

শুক্রবার আবেদনটির শুনানিতে সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি এসএ বোবডের নেতৃত্বাধীন বেঞ্চ জানিয়ে দেয়, “সর্বোচ্চ আদালত এ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করবে না। কারণ, প্রতিটি রাজ্যের সমস্যা পৃথক এবং সুপ্রিম কোর্টে আসার আগে সংশ্লিষ্ট রাজ্যের উচ্চ আদালতের (High Court) কাছে বিষয়টি উত্থাপন করা উচিত ছিল”।

আবেদনকারীদের আর্জি প্রত্যাহার করার কারণ হিসাবে বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রতিটি রাজ্যের সমস্যা আলাদা হওয়ায় এটির সঙ্গে ভিন্ন ভিন্ন বাস্তব পরিস্থিতি জড়িত রয়েছে।

বেঞ্চ আবেদনকারীকে বলে, “আপনি পুরো দেশের হয়ে একটি আবেদন করেছেন। এটিতে হস্তক্ষেপ করতে গিয়ে আমরা সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি। কারণ আমরা জানি না যে পুরো দেশের জন্য কে সিদ্ধান্ত নেবে। প্রতিটি রাজ্যের সমস্যা আলাদা”।

এ দিন আটটি রাজ্যের অভিভাবকদের আবেদনের উপর শুনানি করে বেঞ্চ। কোভিড-১৯ মহামারিতে (Covid-19 pandemic) বন্ধ রয়েছে স্কুল। এই বিষয়টিকে সামনে রেখেই আবেদনকারীরা বেসরকারি স্কুলে ফি (School Fees) মকুবের আবেদন জানিয়েছেন।

আবেদনে বলা হয়েছিল, অনলাইনে পড়াশোনার জন্য নির্দিষ্ট নিয়ম নিয়ে আসা প্রয়োজন। সশরীরে স্কুলে গিয়ে পঠনপাঠনের জন্য যে পরিমাণ ফি ধার্য্য করা হয়, অনলাইনের ক্ষেত্রে তার পরিমাণ হ্রাস করা হোক।

রাজ্য়ের পরিস্থিতি

পশ্চিমবঙ্গেও বিভিন্ন বেসরকারি স্কুলের অভিভাবকরা ফি কমানো/মকুব অথবা বৃদ্ধির নির্দেশ প্রত্যাহারের জন্য আন্দোলনে নেমেছেন। করোনা পরিস্থিতিতে কয়েকটি বেসরকারি স্কুল বন্ধ থাকায় বেসরকারি স্কুলগুলি সম্পূর্ণ ফি আদায় করার সিদ্ধান্ত নিলেও অভিভাবকরা দাবি করেছেন তাঁরা টিউশন ফি বাদে অন্য কোনো ফি দেবেন না।

এ বিষয়ে রাজ্য সরকারের তরফেও বেসরকারি স্কুলগুলির উদ্দেশে আবেদন জানানো হয়। এ বছর স্কুল-ফি না বাড়াতে মুখ্যমন্ত্রী ও তাঁর সরকার শহরের স্কুলগুলির কাছে বার বার আবেদন করছেন।

এমন পরিস্থিতিতে বেশ কিছু স্কুল এপ্রিল থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত কম্পিউটার, স্পোর্টস এবং লাইব্রেরি ফি ২৫ শতাংশ মকুব করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

তবে কয়েকটি স্কুল কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, ৭০ শতাংশের বেশি অভিভাবক স্কুল-ফি দিচ্ছেন না। ফলে গভীর আর্থিক সংকটে পড়েছে স্কুলগুলি। এই অবস্থায় আর কিছু দিনের মধ্যেই তাঁরা স্কুলশিক্ষক ও শিক্ষাকর্মীদের বেতন দিতে পারবেন না। হয়তো স্কুলই বন্ধ করে দিতে হবে।

বিস্তারিত পড়ুন: অভিভাবকরা স্কুল-ফি দিচ্ছেন না, পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রীকে চিঠি সিবিএসই স্কুল-প্রধানদের

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন