cracker

নয়াদিল্লি:  দেশব্যাপী আতসবাজি পোড়ানোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। বরং তার পরিবর্তে আতসবাজি পোড়ানোর ওপর বেশ কিছু নির্দেশ জারি করল আদালত। নির্দেশানুযায়ী কালীপুজোয় রাত আটটা থেকে রাত দশটা পর্যন্তই শুধু বাজি ফাটানো যাবে। তার পর আর নয়। বাজি ফাটানো নিয়ে মঙ্গলবার এমনই রায় দিল দেশের সর্বোচ্চ আদালত। পাশাপাশি এ দিন খ্রিস্টমাস আর ইংরাজি নতুন বছর পড়ার উৎসব পালনের ক্ষেত্রেও বাজি পোড়ানোর সময়সীমা নির্দিষ্ট করে দিল সুপ্রিম কোর্ট। এই দু’ দিন বাজি পোড়ানোর সময়সীমা পৌনে বারোটা অর্থাৎ রাত ১১টা ৪৫ মিনিট থেকে রাত পৌনে একটা অর্থাৎ ১২টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত।

এ দিন বিচারপতি এ কে সিক্রির বেঞ্চ বলে,

১) কেবলমাত্র উন্নত ও পরিবেশ বান্ধব বাজিই তৈরি করা আর বিক্রি করা যেতে পারে। তাও অনুমতিপ্রাপ্ত প্রস্তুতকারকদের মারফতই।

২) নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয় ফ্লিপকার্ট আর অ্যামাজন-সহ সব ক’টি ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে আতসবাজি কেনা আর বিক্রির ওপর।

৩) নির্দিষ্ট শব্দসীমার মধ্যেই বাজির আওয়াজ সীমাবদ্ধ রাখতে হবে। তার বেশি হওয়া চলবে না।

৪) নির্দেশে বলা হয়েছে, বাজি বানানোর ক্ষেত্রে বেরিয়াম সল্টের মতো ক্ষতিকারক রাসায়নিকগুলির ব্যবহার সম্পূর্ণ বন্ধ করতে হবে।

৫) এই নির্দেশ মান্য করা হচ্ছে কিনা সে বিষয়ে নজরদারির ব্যবস্থা করা হয়েছে প্রত্যেক এলাকার নিকটবর্তী পুলিশ স্টেশনগুলির মাধ্যমে। তা কঠোর ভাবে মেনে চলার নির্দেশ জারি করা হয়েছে।

৬) এই নির্দেশ অমান্য করার মানে হল, আদালত অবমাননা করা।

৭) কেন্দ্রীয় দূষণ নিয়ন্ত্রণ পর্ষদকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে এই আতসবাজি পরিবেশে কী প্রভাব ফেলছে তা নিরীক্ষণ করতে। সঙ্গে নির্দিষ্ট সময় অন্তর তার রিপোর্টও জমা দিতে হবে।

বেঞ্চ জানিয়েছে, কেবলমাত্র দীপাবলি নয় গুরপরব, খ্রিস্টমাস, নিউইয়ার ইভের মতো প্রত্যেকটি উৎসবে বাজি পোড়ানোর বিষয়টি নিয়েই তারা চিন্তিত। এই নির্দেশ সব ক’টি উৎসবের জন্যই প্রযোজ্য। এই নির্দেশ জারি করা হয়েছে সামগ্রিক ভারসাম্য রক্ষার স্বার্থে। আর কেন্দ্রীয় সরকার দ্বারা প্রস্তাবিত নির্দেশাবলির ওপর ভিত্তি করেই।

মন্তব্য করুন

Please enter your comment!
Please enter your name here