এক সঙ্গে বাস করলে পথ দুর্ঘটনায় জামাইয়ের মৃত্যুতে ক্ষতিপূরণ পাওয়ার অধিকারী শাশুড়িও, নির্দেশ সুপ্রিম কোর্টের

0
সুপ্রিম কোর্ট। ফাইল ছবি

মোটর ভেহিকেল আইনে জামাইয়ের সঙ্গে বসবাসকারী শাশুড়িও ‘আইনি প্রতিনিধি’, বলল সুপ্রিম কোর্ট!

নয়াদিল্লি: মোটর ভেহিকেল আইন সংক্রান্ত একটি গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। ক্ষতিপূরণ দাবি করে দায়ের এক পিটিশনের প্রেক্ষিতে সর্বোচ্চ আদালত সোমবার জানিয়েছে, জামাইয়ের সঙ্গে বসবাসকারী শাশুড়িও মোটর ভেহিকেল আইনের বিধির অধীনে একজন ‘আইনি প্রতিনিধি’। এ ক্ষেত্রে ‘আইনি উত্তরাধিকারী’ আর ‘আইনি প্রতিনিধি’র তফাত বিশ্লেষণ করেছে সর্বোচ্চ আদালত!

সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি এসএ নাজির এবং কৃষ্ণা মুরারির একটি বেঞ্চের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, ভারতীয় সমাজে শাশুড়ির পক্ষে নিজের মেয়ে এবং জামাইয়ের সঙ্গে বসবাস করা এবং বৃদ্ধ বয়সে তাঁদের ভরণপোষণের জন্য নিজের জামাইয়ের উপর নির্ভর করা অস্বাভাবিক নয়।

বেঞ্চ বলেছে, “এখানে শাশুড়ি মৃত ব্যক্তির আইনী উত্তরাধিকারী হতে পারেন না, তবে জামাইয়ের মৃত্যুর কারণে তিনি অবশ্যই কষ্ট পাচ্ছেন। অতএব, মোটর ভেহিকেল আইনের ১৬৬ ধারার এর অধীনে তিনি যে একজন ‘আইনি প্রতিনিধি’ তা ধরে নিতে আমাদের কোনো দ্বিধা নেই। এবং পিটিশন দাখিলের অধিকারী”।

কেরল হাইকোর্টের নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ

২০১১ সালে একটি পথদুর্ঘটনায় মৃত্যু হয় এক ব্যক্তির। ক্ষতিপূরণ দাবি করার সময় ওই মৃত ব্যক্তির স্ত্রী জানান, তাঁর মা (মৃত ব্যক্তির শাশুড়ি) তাঁদের সঙ্গে থাকেন। অর্থাৎ, ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ করার সময় তাঁকেও অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। যদিও অপর পক্ষ কেরল হাইকোর্টকে জানায়, মৃত ব্যক্তির শাশুড়ি জামাইয়ের সঙ্গে থাকেন না। ফলে কেরল হাইকোর্ট মৃত ব্যক্তির আইনি প্রতিনিধি হিসেবে শাশুড়িকে অন্তর্ভুক্ত না করে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ কমিয়ে দেয়। সেই নির্দেশকে চ্যালেঞ্জ করে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হন আবেদনকারী।

এ ব্যাপারে ট্রাইব্যুনাল ক্ষতিপূরণ হিসেবে ধার্য করেছিল ৭৪ লক্ষ ৫০ হাজার ৯৭১ টাকা। কিন্তু হাইকোর্ট তা কমিয়ে করে ৪৮ লক্ষ ৩৯ হাজার ৭২৮ টাকা।

ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ সঠিক নাও হতে পারে

সুপ্রিম কোর্টের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মোটর ভেহিকেল আইনের বিধিগুলি ‘ন্যায়সঙ্গত এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ’ ধারণাকে সর্বাধিক গুরুত্ব দেয়। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবার যাতে উপকৃত হয়, সেই লক্ষ্যেই এই আইন। এর ১৬৮ ধারায় ‘ন্যায়সঙ্গত ক্ষতিপূরণ’-এর ধারণার কথা বলা হয়েছে। ক্ষতিপূরণ সর্বদা ন্যায্য, যুক্তিসঙ্গত এবং সমতার ভিত্তিতে নির্ধারিত হওয়া উচিত।

তবে অঙ্কের হিসেবে ক্ষতিপূরণের পরিমাণ নির্ধারণ সবসময় সঠিক না-ও হতে পারে। এ ক্ষেত্রে আবেদনকারীর দাবির সঙ্গে ন্যায়সঙ্গত এবং ন্যায্য ক্ষতিপূরণ দেওয়ার প্রচেষ্টা করতে হবে আদালতকে।

‘আইনি উত্তরাধিকারী’ আর ‘আইনি প্রতিনিধি’ এক নয়!

সর্বোচ্চ আদালতের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, মোটর ভেহিকেল আইন ‘আইনি প্রতিনিধি’ শব্দটিকে সংজ্ঞায়িত করে না। সাধারণত ‘আইনি প্রতিনিধি’ মানে এমন একজন ব্যক্তি, যিনি আইনত মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির প্রতিনিধিত্ব করেন এবং ক্ষতিপূরণমূলক সুবিধা পাওয়ার আইনি অধিকার আছে, এমন কোনো ব্যক্তি। বেঞ্চ আরও বলেছে যে একজন ‘আইনি প্রতিনিধি’ হিসেবে যে কোনো ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা যেতে পারে। বিশেষত মৃত ব্যক্তির সম্পত্তির সঙ্গে যাঁর সম্পর্ক রয়েছে। এই ধরনের ব্যক্তির আইনগত উত্তরাধিকারী হওয়ার প্রয়োজন নেই।

বেঞ্চের ব্যাখ্য, আইনি উত্তরাধিকারী হলেন মৃত ব্যক্তির আওতাধীন সম্পত্তির উত্তরাধিকারী হওয়ার অধিকারী ব্যক্তিরা। এ ক্ষেত্রে, একজন আইনী উত্তরাধিকারী একজন আইনি প্রতিনিধিও হতে পারেন। ‘আইনি প্রতিনিধি’ শব্দটির একটি বিস্তৃত ব্যাখ্যা দেওয়া উচিত। এটি শুধুমাত্র মৃতের স্ত্রী, বাবা -মা এবং সন্তানদের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকা উচিত নয়।

ক্ষতিপূরণ বাড়ানোয় সিদ্ধান্ত সুপ্রিম কোর্টের

সর্বোচ্চ আদালত জানিয়েছে, দুর্ঘটনার সময় মৃতের বয়স ছিল ৫২ বছর। তিনি একজন সহকারী অধ্যাপক হিসেবে কর্মরত ছিলেন এবং মাসিক ৮৩ হাজার ৮৩১ টাকা বেতন পেতেন। বেঞ্চ বলেছে, আয় গণনা করার সময়, আদালতকে মৃতের প্রকৃত আয় বিবেচনা করতে হবে এবং সম্ভাব্যতা বিবেচনায় নিয়ে ক্ষতিপূরণ বাড়িয়ে ৮৫ হাজার ৮১ লক্ষ ৮১৫ টাকা টাকা করা উচিত।

আরও পড়ুন: ম্যালেরিয়ায় আক্রান্ত রাজ্যপাল জগদীপ ধনখর, ভরতি দিল্লির এইমসে

খবরের সব আপডেট পড়ুন খবর অনলাইনে। লাইক করুন আমাদের ফেসবুক পেজ। সাবস্ক্রাইব করুন আমাদের ইউটিউব চ্যানেল

বিজ্ঞাপন