নয়াদিল্লি: লেখিকা অরুন্ধতী রায়ের বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবমাননার মামলায় স্থগিতাদেশ জারি করল সুপ্রিম কোর্ট। একটি নিবন্ধে দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জিএন সাইবাবার হয়ে ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করেছিলেন অরুন্ধতী।

মাওবাদী যোগসাজশের অভিযোগে গত মার্চে সাইবাবার যাবজ্জীবন কারাদণ্ড হয়। তার আগে থেকেই অবশ্য জেলেই ছিলেন সাইবাবা। ‘দেশের শত্রুর’ সমর্থনে মত প্রকাশ করার জন্য মুম্বই হাইকোর্টে অরুন্ধতীর বিরুদ্ধে ফৌজদারি অবমাননার মামলা দায়ের করা হয়। তার বিরুদ্ধেই শীর্ষ আদালতের দারস্থ হয়েছিলেন অরুন্ধতী।

সোমবার শীর্ষ আদালতে শুনানি চলাকালীন অরুন্ধতী হাজির না থাকলেও, তাঁর আইনজীবী সিইউ সিংহ ছিলেন। সেখানে প্রধান বিচারপতি জেএস খেহরের নেতৃত্বাধীন ডিভিশন বেঞ্চ তাঁকে প্রশ্ন করে, নিজের ব্যক্তিগত অভিমত প্রকাশ করার জন্য অরুন্ধতী ক্ষমা চাইবেন কি না। আইনজীবী বলে দেন, যা করেছেন তার জন্য ক্ষমা চাইবেন না অরুন্ধতী। এর পরেই এই মামলার ওপর স্থগিতাদেশ জারি করে শীর্ষ আদালত।

নিজের বিরুদ্ধে জারি হওয়া এই মামলার প্রসঙ্গে অরুন্ধতী জানিয়েছিলেন, এটা গণতন্ত্রে বিরোধী স্বরকে স্তব্ধ করার শামিল। সংবিধান প্রদত্ত অধিকারের ওপর এটা বড়োসড় হস্তক্ষেপ। অরুন্ধতীর হয়ে সওয়াল করা তাঁর আইনজীবী বলেন, সাইবাবার সমর্থনে নিজের মত প্রকাশ করে প্রশাসনিক কাজ নিয়ে কোনো প্রশ্ন তোলেননি অরুন্ধতী বরং অসুস্থ সাইবাবার চিকিৎসার জন্যই নিজের মত প্রকাশ করেছিলেন তিনি। প্রসঙ্গত শারীরিক ভাবে ৯০ শতাংশ অক্ষম অধ্যাপক সাইবাবা। তাঁকে হুইলচেয়ারে চলতে হয়।

তাঁর বিরুদ্ধে জারি হওয়া ফৌজদারি অবমাননার মামলার প্রেক্ষিতে অরুন্ধতী বলেছিলেন, “আইনসভা, বিচার বিভাগ এবং প্রশাসনের কোনো পদক্ষেপের বিরুদ্ধে নিজের মত প্রকাশ করে একজন নাগরিক শুধুমাত্র নিজের সাংবিধানিক অধিকার প্রয়োগ করছেন। বিরুদ্ধ মত প্রকাশ করা মানুষের গণতান্ত্রিক অধিকার। গণতান্ত্রিক দেশে বিরোধী মত অপরিহার্য।”

একটি উত্তর ত্যাগ

আপনার মন্তব্য দিন !
আপনার নাম লিখুন